বাংলাদেশের সুন্দর ১০ ঝর্ণা ও জলপ্রপাত
10 beautiful waterfalls and waterfalls in Bangladesh

বাংলাদেশের সুন্দর ১০ ঝর্ণা ও জলপ্রপাত

10 beautiful waterfalls and waterfalls in Bangladesh

জলপ্রপাত :- পাহাড়ের উপর থেকে নিচে সমতলভূমিতে বিশাল পরিধি নিয়ে জল পড়াকে জলপ্রপাত বলে।

ঝর্ণা :- ঝর্ণা ও জলপ্রপাত দুটির পানিই পাহাড়ের উপর থেকে সমতলভূমিতে গড়িয়ে পড়ে। তবে ঝর্ণা আকারে ছোট আর জলপ্রপাত আকারে বিশাল।

চিংড়ি ঝর্ণা

চিংড়ি ঝর্ণা বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান মানেই পাহাড়ের দেশ, বান্দরবান মানেই সবুজের দেশ( cingri waterfalls bandarban ), বান্দরবান মানেই ঝর্ণার দেশ। আর ঝর্ণা শব্দটাই কেমন যেন রিনিঝিনি ছন্দময় আনন্দময় আবহ জাগায় শরীর ও মনে। ইচ্ছে হয় ওর পানির সৌন্দর্য্য আর শীতলতায় ধুয়ে ফেলি জীবনের সব কালিমা। বগালেক থেকে কেওকারাডাং এর পথে ঘন্টাখানেকের পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেই এই চমৎকার ঝর্ণাটা পাবেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে যেটুকু ঝর্ণা দেখা যায় এটুকুই কিন্তু চিংড়ি ঝর্ণা নয়। আসল টুকু দেখতে হলে আপনাকে বিশাল বিশাল পিচ্ছিল পাথরগুলো পেরিয়ে আর একটু ভেতরে ঢুকে ডান দিকে ৯০ ডিগ্রি ঘুরতে হবে । দেখবেন অসাধারণ একটি ঝর্ণা, যেন বাশ বাগানের মাথার অনেক উপর থেকে একেবেঁকে নেমে আসছে চমৎকার একটা স্রোতধারা।

পান্থমাই ঝর্ণা

ভরা বর্ষায় পান্থমাই এর মত ভয়াবহ সুন্দর ঝর্ণা কম আছে।ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা এই ঝর্ণাটি অপরূপ সুন্দর।সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে মাত্র ২৫ কিমি গেলেই এই ঝর্ণা দেখতে পাওয়া যায়।এমন দুধ-সাদা খরস্রোতা ফোয়ারা এমন,জীবন্ত ঝর্ণা পাথরের চূড়া থেকে দুর্দান্ত বেগে নেমে এসে সামনে যা কিছু আছে ভেঙ্গে চুরমার করে আছড়ে পড়ে নদীর বুকে।পান্থমাই অসাধারণ একটি জায়গা যদিও ঝর্ণাটি বাংলাদেশের সীমান্তে না তবুও অতৃপ্ত তৃষ্ণা নিয়ে দূর থেকে দেখেও শান্তি পাওয়া যায়। ঝর্না ভারতের হলেও পানি এসে পড়ছে আমাদের দেশে, রূপ নিয়েছে নদীর । শীতল আর কাঁচের মত পরিস্কার পানি সৃষ্টি করেছে একখণ্ড স্বর্গ টুকরো। সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে  গোয়াইনঘাট যেতে হবে তারপর  ওইখান থেকে নৌকায় করে পান্থুমাই যেতে হবে।

ধুপপানির ঝরনা

রাঙ্গামাটি বিলাইছড়ি উপজেলার ওড়াছড়ি নামক স্থানে অবস্থিত এই ঝরনার। কথিত আছে, ২০০০ সালের দিকে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ধুপপানি ঝরনার নিচে ধ্যান শুরু করেন। এক নাগারে প্রায় ৩ মাস ধ্যান করার পর ব্যাপারটি স্থানীয় লোকজনের নজরে পরে। স্থানীয়রা সন্ন্যাসীকে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেবা করতে গেলে ক্রমে ক্রমে তখন এই ঝরনাটি জনসম্মুখে পরিচিতি লাভ করে।

নাফাখুম ঝরনা

বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় নাফাখুম ঝরনার অবস্থান। বান্দরবান জেলা থেকে প্রায় ৭৯ কি.মি. দূরে যেতে হবে এই ঝরনার দৃশ্য দেখতে। থানচি বাজার সাংগু নদীর তীরে অবস্থিত। থানচি থেকে নদীপথে নৌকায় যাওয়ার সময় নদীপথ রেমাক্রি খালের দিকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে।

অর্থাৎ রেমাক্রি হতে সাংগু নদীর পথ বেশ কিছুটা ঢালু। রেমাক্রি খাল ছোট খাটো একটি জলপ্রপাত। এখানের পাথর গুলোও অনেকটা ছোট ছোট সিঁড়ির মত। অভূতপূর্ব এই পাহাড়ি পথের বিশুদ্ধ সৌন্দর্যে আপনি মোহিত হতে বাধ্য। অনেকে নাফাখুম যাওয়ার পথে তিন্দুর সৌন্দর্যে বিমহিত হয়ে থানচিতে না থেকে তিন্দুতে রাত্রিযাপন করেন। যদিও থানচি ও তিন্দু দুই স্থানই সুন্দর। রেমাক্রি বাজার থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা রাস্তা হেঁটে পাড়ি দেওয়ার পর আপনি পৌঁছে যাবেন নাফাখুম নামের আশ্চর্য সুন্দর সেই জলপ্রপাতে।

খৈয়াছড়া ঝরনা

নয়টি ধাপ বিশিষ্ট খৈয়াছড়া ঝরনার নান্দনিক সৌন্দর্য দেখতে পাবেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। এই ঝরনা মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজার থেকে ৪.২ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশের এই ঝরনাকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ঝর্ণা রানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বর্ষাকালে এটি বিরাট আকৃতি ধারণ করে। এই ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার পথই অনেক সুন্দর।  অনেক খানি পথ পায়ে হেতে যেতে হবে। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য উঁচু-নিচু পাহাড় আর ঝর্ণার পানির কলকল আওয়াজ শুনতে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ২.৯কি.মি শেষ করে পৌঁছে যাবেন ঝর্ণার কাছে টা টেরই পাবেন না। ধারণা করা হয় প্রায় ৫০ বছর ধরে এটি প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘের সাথে মোলাকাত করা আর সারাক্ষণ জোঁকের ভয়ে থেকে পিচ্ছিল পাহাড় বেয়ে উঠে শীতল পানিতে গোসল করার অনুভূতি অসাধারণ।এর প্রতিটি ধাপে ফুটে আছে রংধনু।এর সবগুলা ধাপ অনেক চওড়া।

নাপিত্তাছড়া ঝরনা

এই ঝরনার অবস্থানও চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে। নাপিত্তাছড়া ঝরনা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় একটি স্থান। এখানে খুব কাছাকাছি দূরত্বে তিনটি ঝরণা আছে কুপিটা খুম, মিঠাছড়ি, বান্দরখুম। যদি আপনি এখানকার গ্রাম থেকে গাইড সঙ্গে নেন; তাহলে একদিনেই সবগুলো ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এখানে প্রথমে আপনাকে পাহাড়ি পথ হেঁটে যেতে হবে। এসময় বনমোরগ আর হনুমান আপনার নজরে পরতে পারে। ৩০-৪০ মিনিট হাঁটার পরই প্রথম ঝরনা কুপিটাখুমে আপনি পৌঁছে যাবেন। কিছুটা হাঁটার অভ্যাস থাকলে একদিনেই গিয়ে ঘুরে দেখে আসতে পারেন একসঙ্গে নাপিত্তাছড়ার তিনটি ঝরনা।

জাদিপাই ঝরনা

বান্দরবানের জাদিপাই ঝরনা রুমা উপজেলায় অবস্থিত। কেওক্রাডং, জংছিয়া ও জাদিপাই এ তিনটি পাহাড়ি ঝিড়ি একসঙ্গে মিলিত হয়ে জাদিপাই ঝরনার সৃষ্টি করে। এটি প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে ঝর্ণার স্বচছ পানির ধারা নিচে নেমে এসে সাংগু নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

তিনাপ সাইতার

তিনাপ সাইতার হচ্ছে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়িতে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। তিনাপ সাইতার একটি বম শব্দ। বম ভাষায় তিনাপ অর্থ নাকের সর্দি এবং সাইতার অর্থ ঝর্ণা বা জলপ্রপাত। এটি পাইন্দু খালে অবস্থিত। পানিপ্রবাহের দিক থেকে তিনাপ সাইতার বাংলাদেশের সব থেকে বড় জলপ্রপাত। এটা পাইন্দু খালের অনেক ভেতরে অবস্থিত। তিনাপ সাইতারে যাওয়ার পথের ঝিরিপথ খুবই আকর্ষণীয়। বর্ষামৌসুমে তিনাপ সাইতারে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। তিনাপ সাইতার বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ।

পরিকুন্ড ঝর্ণা

পরিকুন্ড ঝর্ণাটি অনেকের কাছেই অপরিচিত বলে মনে হতে পারে। অনেকেই মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের পাশেই বনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিস্ময়কর একটি ঝর্নার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে জানেই না।

সিলেটে বর্ষায় এর চেয়ে সুন্দর ঝর্না আর হতেই পারেনা। ঝর্নার স্বল্প গভীর কুয়াতে সাঁতার কিংবা গোসল করা যায় ইচ্ছেমত।এটি তুলনামূলক কাছে কিছুটা কম পরিচিত হলেও সৌন্দর্য মোটেও কম নয়। এ ঝর্ণাটি মাধবকুন্ড ঝর্ণা থেকে ১০ মিনিটের দূরত্বে, ৫ মিনিটের ছোট্র একটি ঝর্ণা  কিন্তু চমৎকার ও কোলাহল মুক্ত এবং ঝর্ণার নিচে একটি কূপ আছে। ৫০ ফুট উচু খাড়া পাহাড় হতে এই ঝর্নার পানি নিচের দিকে পতিত হয়েছে। জল ও পাথরের সংঘর্ষে জলকনাগুলো উড়ে গিয়ে মৃদু কুয়াশার সৃষ্টি করে। অসংখ্য প্রজাতির গাছপালা দ্বারা ঝর্নাটির চারপাশ আচ্ছাদিত হয়ে আছে। সেই সাথে পাখির কিচির-মিচির বনের নিস্তব্ধতাকে জাগিয়ে রাখে সর্বক্ষণ। ঝর্নার অপরূপ দৃশ্য দেখার জন্য  করার জন্য প্রাকৃতিক আসন হিসেবে রয়েছে অসংখ্য পাথর। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত থেকে মাত্র  পাচ মিনিট ছোট একটা ঝিরি পথে হাটলেই  এই বুনো ঝর্না।

হাম হাম ঝর্ণা

হাম হাম কিংবা হামহাম বা চিতা ঝর্ণা, বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বা ঝর্ণা। জলপ্রপাতটি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের শেষাংশে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মার সাথে দুর্গম জঙ্গলে ঘোরা একদল পর্যটক আবিষ্কার করেন। এই ঝর্নাটি সম্পর্কে যা বলবো তাই হয়ত কম হয়ে যাবে। ঝরনার পানি প্রবাহ খুব বেশি আর এই ঝরনার পানি আয়নার মতো স্বচ্ছ। এখানে উরন্ত মেঘ গুলো কুয়াশার মত সৃষ্টি করে। শীতল বাতাশে আপনার শরীর শির শির করে উঠবে।মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কাছাকাছি উচ্চতায় এই ঝরনাটি ।

ঝরণায় যেতে হলে কুড়মা বন বিটের চম্পারায় চা বাগান হয়ে যেতে হয়। চম্পারায় চা-বাগান থেকে ঝরণার দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। পথে অত্যন্ত খাড়া মোকাম টিলা পাড়ি দিতে হয়[৪] এবং অনেক ঝিরিপথ ও ছড়ার কাদামাটি দিয়ে পথ চলতে হয়। ঝিরিপথে কদাচিৎ চোরাবালুও তৈরি হয়, কিন্তু সেসকল স্থানে পর্যটকদের জন্য কোনো নির্দেশিকা দেখা যায় না। 


পরবর্তী খবর পড়ুন : সাকরাইন উৎসব