দুর্বা ঘাসের ওষুধি গুণাগুণ - Medicinal properties of Scutch grass
Scutch grass

দুর্বা ঘাসের ওষুধি গুণাগুণ

দূর্বা, হচ্ছে ঘাস জাতীয় একটি উদ্ভিদ। এটি একটি আগাছা মূলত আপদ হিসেবেই বিবেচিত। অবাঞ্চিত হলেও এই আগাছার রয়েছে মূল্যবান ঔষধি গুণ। এটি মানবদেহকে সুস্থ ও সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রক্তক্ষরণ, কেটে যাওয়া বা আঘাতজনিত রক্তপাত, চুল পড়া, চর্মরোগ, দন্তরোগ ও আমাশয়ে উপকারী।

বৈজ্ঞানিক নাম: Cynodon dactylon

ইংরেজি নাম: Scutch grass, Bermuda grass, Dhoob, dūrvā grass, ethana grass, dubo, dog's tooth grass, Bahama grass, devil's grass, couch grass, Indian doab, arugampul, grama, wiregrass

পরিচিতি

কাণ্ড- বহু শাখায়িত। কাণ্ডে পর্ব গুলো থাকে স্পষ্ট। চ্যাপ্টা রোমহীন। গিটওয়ালা। লালচে। প্রতি পর্ব থেকে শেকড় গজায়। মাটিতে হেলে দুলে চলে বড় হয়।

পাতা- পাতা রেখাকার। কাণ্ডকে পাতার খোল ঢেকে রাখে। গাছের রঙ হালকা সবুজ থেকে গাঢ় সবুজ। পাতা অল্প রোমযুক্ত। প্রান্ত সুচালো।

ফুল-ফুল ধরা কাণ্ড খাড়া,আঙ্গুরের মত পুস্পমজ্ঞুরী শাখাম্বিত। এর পুস্পমজ্ঞুরী ৩টি থেকে ৫টি। পাশের দিকে চ্যাপ্টা। বোঁটা ছাড়া ফুল দুই সারীতে থাকে।

ফল-/বীজ- ফুল থেকে ফল ও বীজ হয়। সবুজ রঙের বীজ ছোট চকচকে। ফুল থেকে বীজ উৎপাদন হয়। এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে ফুল ও বীজ পরিপক্ক হয় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যে বীজ থেকে চারা গজায়।

উপকারী অংশ: সম্পূর্ণ অংশ। ট্রাইটারপিনয়েডস,প্রোটিন ও মর্করা থাকে। এছাড়া জৈব এসিড পাওয়া যায়।

১. রক্তপিত্ত:

এই রোগটির অভিব্যক্তি শরীরের বিভিন্ন পথে হয়ে থাকে; মুখ, নাক ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন দ্বার দিয়ে রক্তস্রাব হতে পারে। এমন কি লোমকুপ দিয়েও ঘামের মতো বিন্দু বিন্দু রক্ত বের হতেও দেখা যায়। আয়ুর্বেদ মতে এটা রক্তপিত্তের ক্ষেত্র; এক্ষেত্রে দূর্বার রস কাঁচা দুধ মিশিয়ে খাওয়ালে নিশ্চিত উপশম হয়। এ কথা চরকের। শুধু তাই নয়, এটি পরীক্ষিত এবং চিরাচরিত। উক্ত ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের শারীরবিদ্যার অন্য একটি বাস্তব দিগদ্রষ্টা সম্প্রদায়ের সংহিতা সুশ্রুতে বলা হয়েছে দূর্বা শুকিয়ে গুড়া করে মধু মিশিয়ে চেটে খেলে একই কাজ হয়।

২. সন্তান লাভ:

যে কোনো কারণেই হোক, গর্ভধারণে অসমর্থ হলে অথবা মৃতবৎসা হলে অর্থাৎ জীবিত সন্তান প্রসব না করলে সেক্ষেত্রে দূর্বা ও আতপ চাল একসঙ্গে বেটে বড়া বা ফুলুরি করে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন ২ বা ৩টি করে ভাত খাওয়ার সময় কিছুদিন খেলে সে অভাব থাকবে না বা গর্ভ দোষ নষ্ট হবে। এ ভিন্ন অকালে রজঃরোপে অথবা অধিক বয়স পর্যন্ত রজঃ অদর্শনেও এইভাবে ব্যবহারেও ফলপ্রসু হয়।

৩. শ্বেত প্রদর (Leucorrhoea) জনিত দুর্বলতায়:

দূর্বা এবং কাঁচা হলুদের রস সমান পরিমাণ মিশিয়ে অথবা শুধু দুবার রস ২ বা ৩ চা চামচ অল্প কাঁচা দুধের সঙ্গে খেতে দিয়ে থাকেন প্রাচীন বৈদ্যেরা। তবে বাতগ্রস্তা হলে এটা ব্যবহার করতে দেন না। এ ভিন্ন এই মুষ্টিযোগটিতে পুরাতন রক্ত আমাশাও সেরে যায়।

৪. চুল পড়া দূর করতে:

এই একটি রোগ অনেকক্ষেত্রে যার প্রকৃত কারণ এখনও খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় দূর্বার রস দিয়ে তেল পাক করে মাথায় মাখলে চুল ওঠা বন্ধ হয়।

৫. ব্রণের ক্ষত দূর করতে:

দ্যুষিত ও দুষ্ট ব্রণের ক্ষত শীঘ্র দূর করতে ৪ গুণ দূর্বার রস পাক করা ঘৃত লাগালে সেরে যাবে। একথা চরকের।

৬. ত্বকগত রোগে:

স্বেদজ অদৃশ্য জীবাণুর বা কোনো ছাত্রাক জাতীয় আক্রমণে শরীরের কোনো স্থানে দাগ হলে কাঁচা হলুদ ও দূর্বা বেটে লাগালে সেরে যায়।

৭. কেটে গেলে:

দূর্বা থেতো করে সেখানে বসিয়ে চেপে বেধে দিলে তৎক্ষণাৎ রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে, এটা তো সকলেরই জানা।

৮. মূত্র কৃচ্ছ্রতায়:

প্রস্রাব হতে কষ্ট অথচ পাথুরী নয়, সেক্ষেত্রে দূর্বার রস দেড় বা দুই চামচ দুধ ও জল মিশিয়ে খেলে সুন্দর ফল হয়; তবে অর্শ থাকলে কাজ হবে না।

৯. পায়োরিয়া:

দূর্বা ঘাস শুকিয়ে গুড়ো করে তা দিয়ে দাঁত মাজলে পায়োরিয়া সেরে যায়।

১০. আমাশয়:

সাদা বা রক্ত আমাশয়। যাই হোক না জামপাতা ২টি ও দূর্বা ঘাস ৫ থেকে ৭ গ্রাম একসঙ্গে বেটে সেই রস ছেকে নিয়ে একটু গরম করে অল্প দুধ মিশিয়ে খেলে ২ দিনেই সেরে যায়।

১১. বমন বা বমি নিবারণে:

সর্বদা গা বমি বমি করা এক্ষেত্রে দূর্বার রস আধা চামচ থেকে ১ চামচ পর্যন্ত অল্প একটু চিনি মিশিয়ে খানিকক্ষণ অন্তর অন্তর একটু একটু করে চেটে খেতে হবে। এতে অসুবিধাটা চলে যাবে।

১২. রক্তদাস্তে:

মলের সঙ্গে মিশে রক্ত পড়ছে, অথবা মলত্যাগের পর পৃথক রক্ত পড়ছে, অথচ জ্বালা যন্ত্রণা নেই, এ ক্ষেত্রে দূর্বার রস ১ তোলা আন্দাজ, একটু গরম করে, অল্প চিনি, সম্ভব হলো ৭ থেকে ৮ চামচ ছাগল দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুইবার খেতে দিলে রক্তদাস্ত বন্ধ হবে।

১৩. রক্তস্রাব:

নারীদের অনেকক্ষেত্রে মাসিকের মতই রক্তস্রাব হয়, সে ক্ষেত্রে এই দূর্বার রসও ফলপ্রসু হয়।

১৪. নাসা অর্শে: 

মাঝে মাঝে নাক টিনটিন করে; আবার নাক থেকে রক্তও পড়ে অথচ হাই ব্লাড প্রেসার নেই; সে ক্ষেত্রে দূর্বা ঘাসের নস্যি নিলে রক্ত পড়া বন্ধ হবে।

১৫. কচ্ছু রোগে:

গায়ে বিশেষ কিছু নেই। অথচ চুলকায়, সে ক্ষেত্রে তিলের তেলের সঙ্গে দূর্বা ঘাসের রস পাক করে গায়ে লাগাতে হয়। যতটা তেল তার সিকি ভাগ রস।