জায়ফল-এর ভেষজ গুণাগুণ - Herbal properties of nutmeg
nutmeg

জায়ফলের  স্বাস্থ্য উপকারিতা--benefits of nutmeg (jaiphal)

জায়ফল হল Myristica গণের বেশ কয়েকটি প্রজাতির বীজ বা গুঁড়ো মশলা। এই গাছগুলি খুব বড় হলেও ৩০ থেকে ৪০ ফুটের বেশী উচু হয় না। চিরসবুজ বৃক্ষ, পাতা পুরু, বেশ শক্ত, কাঁঠাল পাতার মতো, লম্বা ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি ও চওড়া দেড়-দুই ইঞ্চির মতো, পাতার উপরটা সবুজ, উল্টোদিকের বর্ণ ফিকে হরিদ্রাভ ধুসর, ফল আকারে ছোট আর হরিদ্রাভ, অল্প সুগন্ধযুক্ত। ফল ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়, গায়ে ডোরা ডোরা দাগ, দেখতে আকারে অনেকটা ছোট নাসপাতির মতো।

বর্ষার আগে ফুল ও পরে ফল হয়। স্ত্রী-পুরুষ ভেদে দুই প্রকারের গাছ জন্মালেও স্ত্রীগাছ সংখ্যায় বেশী হয়ে থাকে। ফল পাকলে আপনা আপনি ফেটে যায়, ফলের মধ্যস্থিত বীজের চারিদিকে বিভিন্ন আকারের পাতলা লালচে হ’লদে দেখতে জালের মতো বহিরাবরণ থাকে— সেটা তৈলাক্ত ও ক্ষণভঙ্গর; সেইটাকেই আমরা জৈত্রী বা জাতিপত্রী বলি আর যেটাকে বলি জায়ফল সেটার মধ্যে থাকে এর বীজের শাঁস আর এই বীজের বাইরেটা মসৃণ এবং শক্ত, গায়ে ডোরা দাগ।

ইংরেজি নাম: nutmeg

বৈজ্ঞানিক নাম: Myristica fragrans

১.রোগ প্রতিরোধ শক্তির জন্য

রোজ রাতে এক কাপ গরম দুধের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। তাতে কিছুটা এলাচ গুঁড়ো করে মেশান। আর ২ চিমটে জায়ফল গুঁড়ো দিয়ে দিন। প্রতি দিন দুধের এই মিশ্রন খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে।

২.ত্বকের জন্য

খাবারে স্বাদ আনার পাশাপাশি জায়ফলে এমন পুষ্টিও রয়েছে যা ত্বকের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত সমস্যা দূর করে। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ব্রণ প্রতিরোধে অনেক সহায়তা করে। জায়ফল ব্যবহারের ফলে যেকোনো দাগ দূর করতে সহায়তা করে।

৩.বাত ও ব্যথায়

গেঁটে বাতে জায়ফলের তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়। জায়ফলের তেল সর্ষের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে সন্ধি বা গাঁঠের পুরনো ব্যথায় বা ফোলায় মালিশ করলে সেই জায়গাটা গরম হয়ে যায়, অসাড় অঙ্গে সাড় আসে, ঘাম বেরোয়, সন্ধিবাতের জন্যে আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া সন্ধিস্থল আবার সচল হয় এবং সন্ধিবাতের (গেঁটেবাত) উপশম হয়।

৩.লিঙ্গের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর জন্য

জায়ফল ক্লান্তি এবং চাপ কমানোর পাশাপাশি যৌন শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। জায়ফল পুরুষদের জন্য ওষুধ হিসাবে কাজ করে যাদের বীর্য পাতলা বা শুক্রাণু কম পরিমাণে উৎপাদিত হয়।পুরাতন কালে, লিঙ্গ সম্পর্কিত বেশিরভাগ সমস্যা জায়ফল দ্বারা সমাধান করা হত। আজও এটি বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় যা যৌন সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ায়। জায়ফল শারীরিক উদ্দীপনা দ্রুত বাড়ায়।

৪.হজম সিস্টেমের জন্য

আপনি যদি খাবারে জায়ফল ব্যবহার করেন তবে এটি আপনার হজম পদ্ধতির পাশাপাশি খাবারের স্বাদ ও সৌরভ বাড়ায়। এটি খেলে ক্ষুধা বাড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, বদহজম, পেটের ব্যাথা এবং ডায়রিয়ার মতো পেটে সমস্যাজনিত রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

৫.মাথা ব্যথার জন্য

জায়ফল ব্যবহার করলে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা দূর হয়ে যাবে। মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে পানিতে বা কাঁচা দুধে জায়ফল মিশিয়ে এবং কপালে পেস্টের মতো লাগালে দারুণ আরাম পাওয়া যায়।

৬.বমি ও হেঁচকি বন্ধ করে

জায়ফল ভাতের ফ্যানে ঘষে খাওয়ালে হেঁচকি ও বমিভাব সেরে যায়। বিবমিষায় বা বমি এটা কিন্তু রসবহ স্রোতের বিকারে হয় এবং এটা আমাশয়জাত ব্যাধি, অতিসার হলেই যে বমি হবে তা নয়, আমদোষ হলে এই বিবমিষা এসে থাকে। এক্ষেত্রে জায়ফল জলে ঘষে ১০/১৫ ফোঁটা নিয়ে ৭/৮ চা-চামচ জল মিশিয়ে খেলে. ওই বমনেচ্ছাটা চলে যাবে।

৭.পাতলা পায়খানা বন্ধ

জায়ফল, খারিক (কবিরাজি দোকানে পাওয়া যায়) আফিম সমপরিমাণ নিয়ে এবং পানের রসে বেটে ছোলার দানার আকারে গুলি তৈরি করতে হবে। এই হল আয়ুর্বেদের বিখ্যাত ‘জাতিফলাদি গুটিকা’। ঘোলের সঙ্গে এই গুলি খাওয়ালে সব রকমের দাস্ত (পায়খানা) বন্ধ হয়।

৮.চোখের জন্য 

জায়ফলে অনেক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের চোখের অনেক সমস্যা থেকে রক্ষা করে। তবে খেয়াল রাখবেন জায়ফল চোখের ভিতরে না যায়। আপনি যদি এই পেস্টটি প্রয়োগ করেন তবে কেবলমাত্র চোখের বাইরের ত্বকে লাগান।

৯.অনিদ্রার জন্য

যদি ঘুম সম্পূর্ণ না হয়, তবে সারা দিন ধরে মাথা, ভারী ক্লান্তি এবং বিরক্তিবোধ সৃষ্টি হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এক চিমটি জায়ফল গ্রহণ করলে ঘুমে কোনো ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয় না। এর কারণ হল এই ফলে ট্রাইমিরেটিন নামক একটি রাসায়নিক রয়েছে যা আমাদের পেশীগুলি শিথিল করে এবং আমাদের পরিপূর্ণভাবে ঘুমাতে সহায়তা করে।

১০গর্ভাবস্থায়

গর্ভাবস্থায় যদি সঠিক পরিমাণে জায়ফল ব্যবহার করা খুব ভালো। গর্ভবতী হওয়ার সময় জায়ফলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আপনি যদি গর্ভাবস্থায় জায়ফল ব্যবহার করেন তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

১১.বাচ্চাদের জন্য

জায়ফল বাচ্চাদের জন্য বেশ উপকারী। যদি অল্প বয়স্ক বাচ্চাদের শরীরে কোনও সমস্যা হয় যেমন, তাদের ডায়রিয়া হয় বা কখনও কাশি-সর্দি হয়। এক্ষেত্রে জায়ফল বেশ উপকারী। ৯ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের মায়ের দুধে জায়ফলের গুঁড়ো মিশ্রিত করা ডায়রিয়া এবং কাশির মতো সমস্যার সমাধান দেয়।

১২.রক্তাতিসারে

যেসব দ্রব্য স্বভাবতই পিত্তবন্ধিকর, যেমন কোন রুক্ষ দ্রব্য, অল্পদ্রব্য, গুরুপাকদ্রব্য—এগুলি প্রধানভাবে খেলে প্রথমে হয় অতিসার, তারপরে ঐ অভ্যাস না ছাড়লে হয় রক্তাতিসার। এক্ষেত্রে এই জায়ফল চূর্ণ মাত্রামত নিয়ে একট ছাগল দুধ মিশিয়ে দু’বেলা খেলে ২/৩ দিনের মধ্যেই রসবহ স্রোতে বায়ুবিকারজনিত যে অতিসার সেটা সেরে যাবে। তবে প্রধানভাবে এর মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম।

জয়ফল খাওয়া কি হারাম,জায়ফল এর দাম,জায়ফল গাছের ফুল বা ছাল,জায়ফল ও জয়ত্রী দাম,জায়ফলের ঔষধি গুন,জয়ফল খাওয়ার নিয়ম,রান্নায় জায়ফল ব্যবহার,জয়ফল এর ব্যবহার,যত্রিক এর উপকারিতা,জায়ফল গাছের ছবি,nutmeg in hindi,nutmeg uses,nutmeg powder,nutmeg in urdu,nutmeg in bengali,nutmeg benefits,nutmeg tree,nutmeg translate