আগর গাছের উপকারিতা ও ভেষজ গুণাবলি -  Eagle wood plant benefits and herbal properties
Eagle wood

আগর গাছের উপকারিতা ও ভেষজ গুণাবলি

আগর উদ্ভিদ, এক প্রকারের সুগন্ধি প্রদায়ক উদ্ভিদ। এটি Thymelaeaceae পরিবারের অন্তর্গত। এটি দক্ষিণ পূর্ব-এশীয় প্রজাতি।

স্থানীয় নাম:  Aloe wood, Eagle wood, Aguruh, Krsnaguruh

বৈজ্ঞানিক নাম: Aquilaria malaccensis

বিবরণ

আগর গাছ লম্বায় প্রায় ১৫ থেকে ৪০ মিটার এবং বেড় বা ব্যাস ০.৬-২.৫ মিটার হয়। শাখা-প্রশাখবিহীন সোজা লম্বা গাছটি দেখতে এবং আকার আকৃতিতে অনেকটা শাল বা গজারি গাছের মতো। এ গাছে সাদা রঙের ফুল এবং ফলগুলো ক্যাপসুল আকৃতির হয়। আগর গাছের পাতা দেখতে অনেকটা লিচু গাছের পাতার মতো, অনেকে বকুল গাছের পাতার সাথেও মিলাতে পারেন। সাদা রঙের আগর কাঠ খুব নরম হয়। ফলে আতর উৎপাদনের উপকরণ সংগ্রহ ও জ্বালানি কাঠ ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ গাছ ব্যবহার হয় না।

বিস্তার

বাংলাদেশে সিলেটের পাহাড়ে জন্মে। ভুটান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে পাওয়া যায়।

চাষাবাদ

গাঢ় বাদামি বর্ণের ৩.৮১ সে.মি.-৫.০০ সে.মি (১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি) লম্বা ক্যাপসুল জাতীয় ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। প্রতি ফলে দুটো বীজ হয়। বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে। সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা স্থায়ী থাকে। বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। বীজ বপনের উৎকৃষ্ট সময় মার্চ-এপ্রিল। চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। প্রথমে বালুর বেডে বীজগুলো বিছিয়ে দিয়ে ওপরে আবারও বালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এখানে বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়। প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরে পলিব্যাগে চারা স্থানান্তরিত হয়। চারা গজানোর জন্য অস্থায়ী শেডের ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। চারায় নিয়মিত পানি সেচের ব্যবস্থা রাখতে হয়।

চারা রোপণ

বর্ষা মৌসুম আগর গাছের চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময়। বাংলাদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে আগরের চারা রোপণ করলে গাছ টিকে বেশি। স্কুল, কলেজ, রাস্তা দুই পাশেও আগরের চারা রোপণ করা যায়। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতেও আগর গাছ লাগানো যেতে পারে। রোপণের সময় প্রতিটি গর্তে জৈব সার-কম্পোস্ট সার, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম সার গাছের বয়স অনুযায়ী প্রয়োগ করা যেতে পারে। রোপণের সময় সারি থেকে সারির দূরত্ব ১.৫২ মি.-১.৮২ মি. (৫-৬ ফুট) এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৯১.৪৪ সে.মি.-১.২২ মি. (৩-৪ ফুট) বজায় রাখা উত্তম। সাধারণত ১-২ বছর বয়সী আগরের চারা লাগানো হয়। একক বাগানের ক্ষেত্রে কম দূরত্ব এবং মিশ্র বাগানের ক্ষেত্রে একটু বেশি দূরত্ব রাখা উচিত। অন্যান্য গাছের মতো চারা রোপণের পূর্বে দৈর্ঘ্যে ৫০ সেন্টিমিটার প্রস্থে ৫০ সেন্টিমিটার এবং গভীরতায় ৫০ সেন্টিমিটার আকারের গর্ত তৈরি করে পচা গোবর ও সার প্রয়োগ করা ভালো।

আন্তঃফসল

সাধারণত প্রথম ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মিশ্র ফসল যেমন শাকসবজি ও ডাল জাতীয় ফসল চাষ করা যায়। পরবর্তীতে কয়েক বছর ছায়া পছন্দকারী সর্পগন্ধা ঔষধি গাছের আবাদ করা যায়। আদা এবং হলুদও চাষ করা হয়। তাছাড়া সুপারি, কফি, রাবার, পামগাছসহ অধিকাংশ বনজ গাছ আগর গাছের সাথে মিশ্র ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। বিভিন্ন দেশে এলাচও চাষ করে।

আগর গাছের ভেষজ গুণাবলি

১.অপরিচ্ছন্নতার কারণে চুলকানি ও গরমে ঘামাচি হলে বা ত্বকে ছুলি দেখা দিলে আগরকাঠ চন্দনের মতো ঘষে গায়ে মাখলে এসবের উপশম হয়। অনেকেই অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় হাঁপানিতে ভোগেন। এ ক্ষেত্রে

২.আগরকাঠ ঘষা এক চা চামচ উপাদান এক কাপ উষ্ণ পানিতে মিশিয়ে একটু একটু করে খেলে হাঁপানির তীব্রতা কমে যাবে। কিছুদিন এভাবে ব্যবহার করলে রোগের উপশম হবে।

৩.কায়িক পরিশ্রম না করলে শরীর মেদবহুল হতে পারে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে আগরের কাঠ চন্দনের মতো ঘষে আধা চামচ সকাল-বিকেল দু'বার করে খেলে শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ ঝরে গিয়ে কান্তি ফিরে আসবে। তাতে মেদ বৃদ্ধিজনিত হৃদদৌর্বল্যও কমবে।

৪.শরীরে জড়তা, আলস্য, ত্বকের রুক্ষতা, মুখের ফ্যাকাশে রং এবং সামান্যতেই সর্দি ঝরলে আগরকাঠ চন্দনের মতো বেটে এক চা চামচ নিয়ে আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ঠান্ডা করে দু'দিন একবার করে বা প্রয়োজনে দু'বার খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

৫.যৌন দুর্বলতায় আগরকাঠের গুঁড়া ৩-৪ গ্রাম নিয়ে তিন-চার চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দু'বার কয়েকদিন খেলে উপশম হবে।

৬.বাতব্যথা হলে আগরতেল দিনে দু'বার করে প্রয়োজনমতো আক্রান্ত স্থানে মালিশ করতে হবে। এতে উপকার পাওয়া যাবে।

৭. এছাড়া মূত্রবর্ধক, কামোদ্দীপক, কোষ্ঠ্য পরিষ্কারক হিসাবে এর ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।