বাওবাব গাছের উপকারিতা - Benefits of Baobab Tree
Baobab

বাওবাব গাছের উপকারিতা

বাওবাব গাছ Adansonia গণের অন্তর্ভুক্ত। এই গাছের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গাছটি একহারা গড়নের। মাটি থেকে বিশাল আকারের কাণ্ড লম্বা হয়ে সোজা উপরের দিকে উঠে গেছে। একেবারে মাথায় ঝোপঝাড়ের মতো কিছু ডালপালা ছড়ানো আছে। দেখে মনে হয় ছাতার মতো। তবে পাতাগুলো এমন যে দূর থেকে দেখে কেউ ভুল করে ভাবতে পারে গোড়া থেকে গাছটিকে উপড়ে নিয়ে মাথার দিকটা মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে এবং গাছের শিকড়বাকড়গুলো উপরের দিকে ছড়ানো। তবে বছরের বারো মাসের মধ্যে নয় মাসই এই গাছে কোনো পাতা থাকে না। পত্রমোচী বাওবাব শিমুল গোত্রীয়, তাই পাতা তদ্রূপ। শীতে পাতা ঝরে যায় তখন একে অনেকটা মরা গাছের মতো দেখায়।গ্রীষ্মের শেষে নতুন পাতা জন্মায়। সাধারণত এটি লম্বায় প্রায় ৫-৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ব্যাস হতে পারে ৭-১১ মিটার পর্যন্ত। মরু অঞ্চলের গাছ বলে খুব কম পানিতেই এর প্রয়োজন মিটে যায়। বর্ষাকালে এই গাছ তার দীর্ঘ কাণ্ডের মধ্যে পানি জমিয়ে রাখে। সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো, এই গাছ কয়েক হাজার বছর বেঁচে থাকে।

ইংরেজি নাম: Cannonball tree,monkey-bread tree, upside-down tree, and cream of tartar tree

বৈজ্ঞানিক নাম: Adansonia digitata

পাতা

গাছের পাতা সবুজ এবং চকচকে।  এবং এতে প্রোটিন, খনিজ এবং ভিটামিন এ আর সি প্রচুর পরিমাণে থাকে। ফলে, মশলা এবং ওষুধ হিসাবে এই গাছের পাতার ব্যবহৃত পুরাণ থেকে হয়ে আসছে।

ফুল

এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম গাছ। শেষ গ্রীষ্মে গাছে ফুল ফোটে। ফুল সাদা বা হালকা গোলাপি। আকারেও বেশ বড় লম্বা বোঁটায় নিচের দিকে ঝুলে থাকে। যা রাতে ফোটে। স্থায়ীত্বকাল ১৫ ঘন্টা। সুগন্ধী এই ফুলের মাঝখানে অগণিত পুংকেশর বৃত্তাকারে সৌন্দর্যকে আরো বিন্যাসিত করেছে।গর্ভদণ্ডের চারিদিকে শ্বেতশুভ্র পাঁপড়ি অপূর্ব তার বাহার।


ফল

গাছের ফলগুলিও বড় আকারের।  একেকটির ওজন প্রায় দেড় কেজি। দেখতে অনেকটা নারকেলের মতো। এই ফল নাকি বাঁদরেরা খুব তৃপ্তি করে খায়। তাই এই ফলের আরেক নাম ‘Monkey Bread'।  বাংলায় অনেকেই একে গাধাগাছ বলে থাকেন।


ব্যবহার

বাওবাব গাছের বাকল অনেক মোটা হয়। এর বাকল হয় শক্ত ও আঁশ যুক্ত এবং লম্বা। তাই এর বাকল দিয়ে তৈরি করা যায় রশি ও কাপড় তৈরির জন্য সুতা।

এই গাছের ফল খাওয়া যায় এবং পাতা থেকে চাটনি তৈরি করা যায়।

এছাড়া এই গাছের পাতা থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধও তৈরি হয়।

গাছের কাণ্ড এতো বিশাল যে, এর গুড়ির গর্তে মানুষ বসবাস করতে পারে।

মরু ঝড়ে মানুষ এই গাছের গুড়ির গর্তে আশ্রয় নিয়ে থাকে। অর্থাৎ মরুভূমির মানুষের কাছে একটি উপকারী বৃক্ষ বাওবাব গাছ।

ফল শুকিয়ে গেলে মাছ ধরার জালে শোলা খণ্ডের মতো ব্যবহার হয়।

এর শাঁস দিয়ে তৈরি করা হয় এক ধরনের সুপেয় পানীয়, যা কি-না ক্লান্তি দূর করে। বয়স্ক গাছের মাঝখানে গর্ত দেখা যায়।