অড়হর ডালের উপকারিতা - Benefits of  pigeon pea
pigeon pea

অড়হর ডালের ঔষধি গুণ ও উপকারিতা

অড়হর হার্ব জাতীয় বর্ষজীবি গাছ। পাতা কিছুটা লম্বা ও মাথা চোখা আকারের হয়। ফুল হলদে, এর বীজ ছোটো গোলাকার। ফল আকারে ছোটো কড়াইন শুটির মতো, কিন্তু একটু চ্যাপ্টা হয়। এটি যেকোন জমিতে জন্মায়।

ইংরেজি নাম: pigeon pea।

বৈজ্ঞানিক নাম: Cajanus cajan

পরিবার: leguminosae

বিস্তার

অড়হর ডালের আদি নিবাস বোম্বাই, মাদ্রাজ, যুক্তপ্রদেশ, মায়ানমার, মধ্যভারত, বাংলায় ও আসামে চাষ হয়। বাংলাদেশে উত্তরবঙ্গে চাষ হয়।

চাষাবাদ

সারা বিশ্বে আনুমানিক ৪৪.৯ লক্ষ টন অড়হর ডাল উৎপাদন হয়। এই উৎপাদনের প্রায় ৬৩% ভারতে উৎপন্ন হয়।[ বাংলাদেশে বেশির ভাগ অড়হরের চাষ করা হয় কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর ও যশোর জেলায়। এর বীজ ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে পাকে। বীজ লাগাতে হয় এপ্রিল-মে মাসে অর্থাৎ বর্ষার আগে।

১. রোগ প্রতিরোধ কমাতে বাড়ায় (Increases resistance to disease)

অড়হর ডাল খেলে যে কেবলমাত্র আমাদের শরীর সুস্থ থাকে তাইই নয়, বরং তা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে। অড়হর ডালে থাকে ইমিউনোমডুলেটরি (Immunomodulatory) গুণ। এই গুণ আমাদের শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার অর্থাৎ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। 

২. ডায়াবেটিস রুখতে সাহায্য করে (Helps prevent diabetes)

শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণ চাপের স্তর বেড়ে গেলে তা মধুমেহ রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অড়হর ডালে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে। তাই এটি ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগের হাত থেকে বাঁচাতে আমাদের ভীষণ সাহায্য করে।

৩. ওজন কমাতে সাহায্য করে (Helps in weight loss)

অড়হর ডালে অন্যান্য ডালের মতো পুষ্টিগুণ থাকলেও, এটিতে ফাইবার ভরপুর থাকে। আর আমরা সকলেই জানি ফাইবার যুক্ত খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা (Protection from heart disease)

বেশ কিছু কারণের জন্যই হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হল শরীরে ফ্রি রেডিকেলস (Reactive Oxygen Species)- এর প্রভাব। হার্টের রোগের জন্য যে কারণগুলি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যেমন- ডায়াবেটিস, মোটা হয়ে যাওয়া কিংবা উচ্চ রক্তচাপ অর্থাৎ সেগুলি কমাতে সাহায্য করে অক্সিডেটিভ উপাদান। সেভাবেই অড়হর ডালে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ উৎসেচক ফ্রি রেডিকেলসের প্রভাব কমিয়ে হার্টের রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৫. ক্যান্সার রুখতে সাহায্য (Help prevent cancer)

ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী একটি রোগ রুখতে অড়হর ডালের ব্যবহার বেশ কিছু ক্ষেত্রে উপকারী প্রমাণিত হয়ে থাকে। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ নিউট্রিশন (হায়দ্রাবাদ)-এর একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অড়হর ডাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি অন্যতম উৎস। আর এই গুণের কারণে এটি আমাদের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণ চাপের কারণে হওয়া ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

৬.জন্ডিস (Jaundice)

এটি লিভার জনিত রোগ। অনেক ঔষধ খেয়েও এই রোগ সহজে নির্মূল হতে চায় না। যদি কেউ এই অড়হর গাছের পাতার রস দুই থেকে তিন চামচ সামান্য লবণ সাথে মিশিয়ে খাবার পর সামান্য গরম করে খেলে এই জন্ডিস দ্রুত্ব ভালো হয়।

৭.অশ্বরোগ নিরাময় (cure Haemorrhoids)

এটি একটি মারাক্ত্য এবং বেদনাদায়ক রোগ। এই রোগে যে একবার আক্রান্ত হয়েছে সে বুঝবে তার যন্ত্রনা বা বেদনা কতো কষ্টের হয়। এই গাছের পাতার রস দুই চামচ সামান্য গরম করে সকালে এবং বিকালে দুইবার খেলে ভালো হয়ে যাবে। যদি অড়হর এর ডালের সাথে ঘী দিয়ে ভেজে খেলে আরোও অনেক উপকারিতা পাবে।

৮.মুখের অরুচি (Disgust of the mouth)

যে সব মানুষের খাওয়ার রুচি কমে যায় বা মুখে অরুচি তাদের জন্য এই ডালের বিচি বা ডালের জুস পরিমাণ মতো আদা, মরিচ, সামান্য লবণ মিশিয়ে দিনে এক থেকেদেড় কাপ সামান্য সামান্য করে খেতে হবে। এটি নিয়মিত খেলে মখের অরুচি দ্রুত্ব ফিরে আসবে।

৯.জিহ্বায় ক্ষত (Wounds on the tongue)

অনেক মানুষের জিহ্বায় বা মাড়িতে ক্ষত হয়ে থাকে এবং সহজে সারে না। তাদের জন্য এই গাছের কচি পাতা ভালো করে ধুয়ে লাগাতের কয়েক দিন খেলে নিশ্চিত ভালো হয়ে যাবে।

১০.কাশি নিরাময় (Cough Remedies)

যাহাদের হালকা কাশি রয়েছে বিশেষ করে শীত কালে কাশি হয়ে থাকে তারা যদি নিয়মিত অড়হর গাছের পাতার রস সাত থেকে আট চা চামচ সামান্য গরম করে তার সাথে মধু মিশিয়ে সেবন করলে দ্রুত্ব সেফা লাভ করবেন।