শাপলা এর উপকারিতা ও গুনাগুন - Benefits and qualities of Water lilies
Water lilies

শাপলা এর ভেষজ গুনাগুন ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

শাপলা পুষ্প বৃক্ষ পরিবারের এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ। এ পরিবারভূক্ত সকল উদ্ভিদই শাপলা নামে পরিচিত। সাদা শাপলা ফুল বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। শাপলা ফুল ভোর বেলা ফোটে এবং দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে পাঁপড়ি বুজে যায়। সরাসরি কাণ্ড ও মূলের সাথে যুক্ত থাকে। শাপলার পাতা আর ফুলের কাণ্ড বা ডাটি বা পুস্পদণ্ড পানির নিচে মূলের সাথে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির উপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতার জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয় কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। পাতার সাইজ ২০ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার এবং এদের ব্যাপ্তি প্রায় ০.৯ থেকে ১.৮ মি। শাপলা ফুল নানা রঙের দেখা যায় যেমনঃ গোলাপী, সাদা, নীল, বেগুনি ইত্যাদি। এই ফুলে ৪ থেকে ৫ টি বৃতি থাকে ও ১৩ থেকে ১৫ টি পাপড়ি থাকে। ফুলগুলো দেখতে তারার মত মনে হয়। কাপের সমান বৃতিগুলো ১১-১৪ সেমি হয়ে থাকে। প্রায় বছরের সব সময় শাপলা ফুটতে দেখা যায় তবে বর্ষা ও শরৎ এই উদ্ভিদ জন্মানোর শ্রেষ্ঠ সময়।

বাংলা ভাষায়, এদের শাপলা, শালুক বলা হয়।

ইংরাজি নাম: water lily

বৈজ্ঞানিক নাম: Nymphaeaceae

বিস্তৃতি (expansion)

বাংলাদেশ ছাড়াও এই ফুল থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান ইত্যাদি দেশের পুকুর ও হ্রদেও এই ফুল প্রচুর দেখা যায়। শ্রীলংকার জাতীয় ফুলও শাপলা। তবে শাদা শাপলা নয়, নীল শাপলা। শ্রীলংকায় এই ফুল নীল মাহানেল নামে পরিচিত। নর্থ আমেরিকা, সাউথ আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায়ও বিভিন্ন রঙের শাপলা জন্মে।

শাপলা ফুল কি (What a water lily)

শাপলা একটি ভাসমান ফুল সহ একটি জলজ উদ্ভিদ। এই ফুলের পাতাগুলি বড় গোলাকার ভাসমান এবং বৃহত, সাধারণত কাপ আকারের এবং সাদা, গোলাপী, লাল, নীল বা হলুদ বর্ণের ফুল রয়েছে।

শাপলার পুষ্টিগুণের উপকারিতা (Nutritional benefits of water lily)

আঁশ (1.1 গ্রাম)

আঁশ –ফাইবার বা আঁশ আমাদের শররের খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফাইবার হজম স্বাস্থ্য এবং নিয়মিত অন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

প্রোটিন (3.2 গ্রাম)

প্রোটিন –  শরীরের ত্বক, চুল, নখ, হাড় বিকাশে প্রোটিন প্রয়োজন। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে শরীরকে প্রতিরক্ষা করে।

ক্যালসিয়াম (75 মিলিগ্রাম)

ক্যালসিয়াম – শরীরের হাড় এবং দাঁত মজবুত করতে সহায়তা করে।

খনিজ (1.2 গ্রাম)

ভিটামিন সি

ভিটামিন সি – ভিটামিন সি অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির মধ্যে একটি। ভিটামিন সি শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

ভিটামিন বি ১

ভিটামিন বি ১ – ভিটামিন বি ১ শরীরকে কার্বোহাইড্রেটকে শক্তি হিসাবে ব্যবহার করতে সক্ষম করে। এটি গ্লুকোজ বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় এবং এটি স্নায়ু, পেশী এবং হার্টের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন বি ৭

ভিটামিন বি ৭ – ভিটামিন বি ৭, যা সাধারণত বায়োটিন নামে পরিচিত, একটি জল দ্রবণীয় ভিটামিন যা শরীরের বিপাক এবং কার্যক্ষমতার জন্য অত্যাবশ্যক।

ফসফরাস

ফসফরাস –  দেহের বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় কাজগুলি সম্পাদন করা প্রয়োজন।

শাপলা এর ভেষজ গুনাগুন (Herbal properties of  water lily)

১.শাপলা স্বাস্থ্যের জন্য ভেষজ ঔষধ হিসাবে পরিচিত। যা স্বাস্থ্য সমস্যা বা রোগ নিরাময়ে সক্ষম। শাপলা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি।

২.শাপলা অ্যালার্জি ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। শাপলা প্রধানত এসিডিটি, অ্যানেসথেসিক, সেরোটিক, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগে ব্যবহৃত হয়।

৩.শাপলাতে থাকা গ্যালিক এসিড এনজাইম ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৪.শাপলাতে থাকা ফ্লেভনল গস্নাইকোসাইড মাথায় রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে মাথা ঠান্ডা রাখে।

৫.যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তারা শাপলা ফুল খেতে পারেন। এছাড়াও যাদের আমাশয় বা পেট ফাঁপা জনিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য শপলা কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

৬.শাপলা ফুল ইনসুলিনের স্তর স্থিতিশীল রেখে রক্তে শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৭.শাপলা শরীরকে শীতল রাখে, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় ও পিপাসা দূর করে।

৮.প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপায় শাপলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

৯.মানব শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যকৃত। যকৃত শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজ করে থাকে। আয়রন ও গ্লাইকোজেন সঞ্চয় করে। দেহ থেকে টক্সিক পদার্থ বের করে এছাড়াও আরো বিভিন্ন কাজ করে থাকে। তাই যকৃতের সুস্থতা রক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যকৃতের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে ভূমিকা পালন করে

১০.এ গাছের বিভিন্ন অংশ নানান রোগে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যাদের ঠান্ডার সমস্যা রয়েছে তারা যদি শাপলার শুকনো ফুলের গুড়ো ব্যবহার করেন তাহলে ঠান্ডা থেকে মুক্তি পাবেন।

১১.এছাড়াও অনেকের কষা হয়ে থাকে শাপলার শুকনো ফুলের গুড়ো এই কষা দূর করতেও সাহায্য করে। শাপলার বীজ বিভিন্ন চর্ম রোগ এমনকি কুষ্ঠ রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

১২.শাপলার ডাটা পাকস্থলী থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে। শাপলার মোথা সবচেয়ে বেশি উপকার করে থাকে।

১৩.অর্শ, অজীর্ণ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে শাপলার মোথা কাজে লাগে।

১৪.বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এর জন্য এই শাপলা অত্যন্ত উপকারী।

১৫.যাদের শুষ্ক ত্বক রয়েছে তাদের জন্য শাপলা খুবই কার্যকর। এটি ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে তোলে। ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি ত্বক পরিষ্কার রাখে।