গোলাপের উপকারিতা ও ঔষধি গুণাগুণ - Benefits and Medicinal Properties of Rose
Rose

গোলাপের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

বাংলা গোলাপ, কাঁটা গোলাপ, চীনা গোলাপ, চায়না গোলাপ,বেঙ্গল ক্রিমসন বা বেঙ্গল বিউটি হলো রোজা গণভুক্ত একটি উদ্ভিদ। এরা এক ধরনের গুল্ম-জাতীয় উদ্ভিদ। এরা ১–২ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এরা ঘন হয়ে অনেকটা ঝোপের আকার ধারণ করে। এদের পাতাগুলো পক্ষল, পাতায় ৩–৫টি উপপত্র থাকতে পারে। প্রতিটি উপপত্র ২.৫–৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ১–৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। বন্য প্রজাতি বা প্রকরণগুলোতে পাঁচটি ঈষৎ গোলাপি থেকে লাল রঙের পাপড়ি থাকে। এদের ফলগুলো ১–২ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট। উদ্ভিদের শক্ত, সরু শাখাগুলোতে উন্মুক্ত, ঈষৎ বাদামি বাকল থাকে। শাখা ও কাণ্ডে বাঁকা, পুরু, সরল কণ্টক বা কাঁটা থাকতে পারে। পর্যায়ক্রমে সজ্জিত পাতা বৃন্ত ও পত্রফলকে বিভক্ত। পাতাগুলো দৈর্ঘ্যে ৫ থেকে ১১ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।

উদ্ভিদের বৃন্ত ও র‍্যাকিস সামান্য প্রলম্বিত, গ্রন্থিময় ও লোমশ। এদের পক্ষল পাতায় তিন থেকে পাঁচটি এবং কখনো কখনো সাতটি পর্যন্ত পিনা বা উপপত্র থাকতে পারে। উপপত্রগুলো গোলাকার, প্রলম্বিত গোলাকার, ঈষৎ গোলাকার বা প্রশস্ত কীলকাকৃতির হতে পারে। এগুলো উপর থেকে নিচের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে যায়। উপপত্রগুলো ২.৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ১ থেকে ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হয়। পাতাগুলো প্রায় অনাবৃত এবং এদের উপরিভাগ চকচকে গাঢ় সবুজ রঙের। উপপত্রগুলো মূলত পাতার বৃন্তের সাথে যুক্ত। বৃন্তের মুক্ত অঞ্চল কাণ্ডের সাথে যুক্ত, সম্পূর্ণটি উপরের দিকে উত্থিত এবং প্রায়শই গ্রন্থিময় ও লোমশ হয়ে থাকে।

ইংরেজি নাম: China rose,Chinese rose, or Bengal rose

বৈজ্ঞানিক নাম: Rosa chinensis

কোন রঙের গোলাপ কি অর্থ প্রকাশ করেঃ

লাল গোলাপঃ ভালবাসা ও প্রেম নিবেদনের প্রতীক

হলুদ গোলাপঃ বন্ধুত্বের প্রতীক

কমলা গোলাপঃ সম্পর্ক টিকে রাখার প্রতীক

গোলাপী গোলাপঃ কৃতজ্ঞতার প্রতীক

সাদা গোলাপঃ শুদ্ধতার প্রতীক

সবুজ গোলাপঃ ভাগ্যের প্রতীক।

কালো গোলাপঃ মৃত্যু বা শোকের বার্তা বাহক।

গোলাপের ঔষধি গুণাগুণ

কোন রোগের জন্য গোলাপ ব্যবহার করা হয় তা জানার আগে এর ঔষধিগুণ সম্পর্কে জানা জরুরী।

১.কোমল ত্বক পেতে

ত্বক কোমল করতে গোলাপের পাপড়ি বেশ কার্যকরী। ২ কাপ পানিতে একটি তাজা গোলাপ ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে উঠে সেই গোলাপ ভিজিয়ে রাখা পানিতে মুখ ধুয়ে নেবেন। এটি ছাড়া আরেক উপায়েও ত্বক কোমল করতে পারেন। গোলাপের শুকনা পাপড়ি, সমপরিমাণ মধু ও দুধ মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রণের জায়গায় লাগিয়ে নিন। সকালে উঠে ধুয়ে নেবেন। এতে ব্রণ দূর হওয়ার পাশাপাশি ত্বকও হবে কোমল।

২.গলা ব্যথা

তুষার তৈরি করে গোলাপ ফুল দিয়ে গার্গল করলে মুখের ফোলাভাব, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং গলা ব্যথার চিকিৎসায় সাহায্য করে। এছাড়া গোলাপ পাতা চিবিয়ে খেলে মুখ ও ঠোঁটের ফোলাভাব কমে যায়।

৩.মাথায় ফোড়া নিরাময়ে

গোলাপ পাতা পিষে লাগালে মাথার ক্ষত, চক্ষুরোগ বা ছানি, দাঁতের রোগ এবং অর্শ বা পাইলস রোগে উপকার পাওয়া যায়।

৪.চোখের পাতার প্রদাহ থেকে মুক্তি পেতে

গোলাপ ফুল পিষে লাগালে চোখের পাতার ফোলাভাব কমে যায়। এছাড়া এটি দাঁতে মালিশ করলে দাঁতের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া ২-২ ফোঁটা গোলাপের নির্যাস চোখে লাগালে চোখের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৫.যক্ষ্মা নিরাময়ে

ফুসফুসের রোগ, টিবি নিরাময়ে গোলাপ ফুলের ব্যবহার ওষুধে ব্যবহৃত হয়। এটি এই রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করে।

৬.পেটের রোগে

গোলাপ ফুলের গুঁড়া 2-4 গ্রাম মধুর সাথে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য , ফোলাভাব এবং ডায়রিয়ায় উপকার পাওয়া যায়।

৭.লিভারের রোগে

রক্তের ব্যাধি এবং লিভার সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসায় লাল গোলাপ ফুল ব্যবহার করা হয়।

৮.লিউকোরিয়া

গোলাপ ফুল পিষে যোনিপথে লাগালে লিউকোরিয়ায় উপকার পাওয়া যায় এবং ফুল ও শিকড় পিষে আলসার বা ক্ষতস্থানে লাগালে দ্রুত সেরে যায়।

৯.কুষ্ঠ রোগের

গোলাপ ফুল অনেক রঙের, সাদা রঙের ফুল কুষ্ঠরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। সাদা গোলাপ ফুলের গুঁড়া লাগালে কুষ্ঠ ও অন্যান্য পিত্তজ ব্যাধি নাশ হয়।

১০.জ্বরে

জ্বর নামতে না থাকলে গোলাপের তৈরি গুলকন্দ খেলে পিত্তজ্বরে উপকার পাওয়া যায়।

গোলাপ ফুলের চা

১. গোলাপ ফুলের পাপড়ি গরম পানিতে সেদ্ধ করে চা তৈরি করা যায়।

২. নির্দিষ্ট পরিমাণ চায়ের গুড়ার সঙে শুকনো পাপড়ি যোগে চা বানানো যায়।