ঈশের মূল লতার উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন - Benefits and Medicinal Properties of Indian birthwort
Indian birthwort

ঈশের মূল লতার উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

ঈশের মূল হল একটি লতানো গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। ‌এটি তিতা স্বাদ যুক্ত লতানে গুল্মবিশেষ এটি মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে বাড়ে। আবার গাছপালা লতাপাতা দিয়ে উপরে বেয়ে চলে। প্রতিটি পাতা ঘন গিরা বিশিষ্ট হয় পাতার বোটার ধারে কিছুটা কালচে হয়। গাছটিতে বছরে একবার ফুল ও ফল ফোটে এই গাছে এক প্রকার আলকুশি জাতীয় পোকা দেখা যায়। এর শিকড় থেকে নতুন চারা গজায় শীতকালে পাতা ঝরে যায়। এর ফল পাখির উৎকৃষ্ট খাবার। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল এ গাছ পাওয়া যায় তবে পরিমাণে খুব কম। সরকারি নার্সারিতে এ গাছের চারা বিক্রি হয়। পাহাড় পার্বত্য অঞ্চলে ও পাথর মাটির খাঁজে খাঁজে ও বালুকাময় ভূমিতে এই গাছটি বেশি জন্মে।

বৈজ্ঞানিক নাম: Aristolochia indica

ইংরেজি নাম: Indian birthwort

বিস্তার

ভারতের আদিবাসী এবং পূর্বমুখী; কখনও কখনও ইন্দো-চীনে চাষ করা হয়। মায়ানমারে বাগো, মান্দালে এবং ইয়াঙ্গুনে পাওয়া যায়। এটি দক্ষিণ ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কায় এটি সাপসাদা নাামে পরিচিত। এই ঘন সবুজ উদ্ভিদটি রুদ্র জটা নামেও পরিচিত।

ঈশের মূল লতার ঔষধি গুনাগুন

১.জ্বরে:

এটা অনেক কারণে হ’তে পারে- যেমন ম্যালেরিয়া জ্বরে, ফাইলেরিয়ায়, প্রচণ্ড রোদ (রৌদ্র) থেকে এসে ঠাণ্ডা জলে স্নান, হঠাৎ কোন কারণে অতিসার হয়েছে, অথচ তার নিবৃত্তি হয়নি, সেই অবস্থায় ঠাণ্ডা জলে স্নান, ঠাণ্ডা লাগানো, আবার দীর্ঘদিন ভুগতে থাকলে অথবা বৃদ্ধ বয়সে কি যেকোন বয়সে রক্তের জোর কমে গেলে যদি হঠাৎ ঠাণ্ডা জল গায়ে পায়ে লাগে তাতেও কাঁপুনি আসে, এছাড়া অত্যধিক ক্রোধে মাথায় রক্তের চাপ হওয়া, এইসব কারণেও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে থাকে।

এক্ষেত্রে ৫০০ মিলিগ্রাম ঈশের মূল চূণ আধ কাপ গরম জলে ভিজিয়ে ২ ঘণ্টা বাদ সেটাকে ছেকে ওই জলটা সকালের দিকে একবার এবং বিকালের দিকেও আর একবার খেলে ওই কম্পজ্বরের শান্তি হয়। প্রথম দুই/একদিন ওই জলটাকে দু’বারে খেতে হবে, তারপর ওই মাত্রায় দু’বার খাওয়া চলে।

২. অজীর্ণ দোষে:

সে যে কোন প্রকারেরই হোক না, পেটের ব্যথায় ৫০০ মিলিগ্রাম মুল চূর্ণ অল্প গরম জল সহ খেলে ব্যথাটার উপশম হবে। আর কয়েকদিন এটা ব্যবহার করে অজীর্ণদোষের শান্তি হবে।

৩. প্রবল সর্দিতে (শিশুদের):

যেক্ষেত্রে জ্বর নেই অথচ নাক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, পায়খানা করছে না, যা খাওয়ানো হচ্ছে সবই বমি করে ফেলছে, সেক্ষেত্রে এর পাতার রস ২/৩ ফোঁটা একটু, দুধের সঙ্গে খাওয়ালে বমি করে ওটাকে তুলে দেয়। এই মাত্রায় ৪/৫ ঘণ্টা বাদ আরও একবার দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে শিশুর বলাবলও বিবেচনা করে এটা প্রয়োগ করার ব্যবস্থা দিতেন, সুতরাং কোনো চিকিৎসকের নির্দেশ না পেলে শিশুর ক্ষেত্রে এটা প্রয়োগ করা সমীচীন হবে না।

৪. উদরাময়ে (শিশুদের):

অনেক ক্ষেত্রে দাঁত ওঠার পূর্বে এদের পেটের দোষ হয়। কারও কারও জ্বরও হয়, পিচকারি দিয়ে পায়খানা করতে থাকে, এর ফলে চোখ মুখ ব’সে যায়, সেই সময় মূল চূর্ণ ৫০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম জলসহ সকালে ও বিকালে দুবার খাওয়াতে হবে। এইভাবে ২ থেকে ৩ দিন খাওয়ালে ওই অসুবিধেটা আর থাকবে না।

৫. হাঁপানিতে:

এ রোগের বর্ণনা নিপ্রয়োজন, কারণ এই গ্রন্থের বিভিন্ন খণ্ডে এ রোগ সম্পর্কে বহুবার বলা হয়েছে। এই রোগে কিছুদিন ভুগতে ভুগতে এর সঙ্গে আসে হৃদরোগ। এ আর যেতে চায় না তখন দুটোকেই সামলাতে হয়;

এক্ষেত্রে ইশ্বরমূল বা রুদ্রজটা মূল চূর্ণ ২৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় জলসহ খেলে হাঁপের টানটা কমে যায়। মূল না থাকলে পাতা চূর্ণ দিলেও উপকার হয়। তবে এটা বলে রাখি, যে রোগ জন্মসূত্রে এসেছে তাকে সারানো যাবে না তবে উপশম হবে।

৬. সাপের কামড়ে:

ইশ্বরমূল পাতা ও মূল বেটে ক্ষতস্থানে প্রলেপ দেওয়ার রেওয়াজ আছে।