নাগেশ্বর-Ceylon ironwood
Ceylon ironwood

Ceylon ironwood-নাগেশ্বর

আরো পড়ুন: পিতরাজ বা রয়না

নাগেশ্বর হচ্ছে Calophyllaceae পরিবারের অন্তর্গত এক প্রকার চিরসবুজ বৃক্ষ। নাগেশ্বর, নাগকেশর ও নাগলিঙ্গম তিনটি ভিন্ন প্রজাতি। নাগেশ্বর হলো শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফুল। শ্রীলঙ্কায় নাগেশ্বর গাছ 'না' বৃক্ষ বলে পরিচিত।

ইংরেজি নাম: Ceylon ironwood বা Indian rose chestnut বা Cobra's saffron

বৈজ্ঞানিক নাম: Mesua ferrea

আরো পড়ুন: রিফিউজি লতা

বর্ণনাঃ

এই গাছ প্রায় ১০০ ফুট লম্বা হয়। গাছের গুঁড়ির পরিধি প্রায় ২ মিটার হতে পারে। এদের ডাল বেশ নরম. বাকল ০.৫ ইঞ্চি পুরু এবং লালচে। এদের কাণ্ড থেকে আঠা পাওয়া যায়। এই গাছের কাঠ বেশ শক্ত হয়। কাঠের রঙ লাল। এটি ধীর গতিতে বড় হয়। এটি শোভা বর্ধক গাছ। এর পাতা ও ফুল উভয়ই সুন্দর। ফুলে সুগন্ধ আছে। এটি এক প্রকার শোভাবর্ধক, চিরসবুজ গাছ। এর পাতা ও ফুল উভয়ই সুন্দর। পাপড়ির রঙ দুধ-সাদা ও একটু কোঁকড়ানো। নাগেশ্বর ফুলের পুংকেশরগগুলো সোনালি, যা ফুলের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে এই ফুল বর্ণে-গন্ধে অনন্য। নাগেশ্বর ফুল সবচেয়ে বেশি ফোটে বসন্তকালে। তবে বর্ষায়ও ফুল ফুটতে দেখা যায়। ফুলে সুগন্ধ আছে। এর ফলের রং প্রথমে তামাটে, পরে ধীরে ধীরে বাদামি রং ধারণ করে। পাতাগুলো সরু ও বল্লমাকৃতি। সারা বছর নতুন নতুন পাতা গজানো এই গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাতার বিন্যাস ঘনবদ্ধ থাকায় গাছটি বেশ ছায়া সুনিবিড়। পিরামিড আকৃতির গঠন, কচিপাতার রংমাখা উচ্ছ্বাস, শুভ্রপুষ্পর স্নিগ্ধ শোভা ইত্যাদি কারণে পথতরু হিসেবে নাগেশ্বর অনন্য। গৃহসজ্জা ও পূজার উপকরণে এ ফুল কাজে লাগে। নাগকেশরের ফুল ভেষজগুণেও অনন্য।

আরো পড়ুন: গনিয়ারি গাছের ঔষধি গুণাগুণ

পাতা: এই গাছে প্রচুর পাতা হয়। পাতার রঙ গাঢ় সবুজ। পত্রফলক ২-৬ ইঞ্চি লম্বা, ১.৫-১.২৫ ইঞ্চি বিস্তৃত হয়। পাতার নিচের দিকে অবনত থাকে। পত্রবৃন্ত .২৫ ইঞ্চি।

ফুল:এই গাছের সুগন্ধি ফুল ফোটে। ফুলগুলো উভয় লিঙ্গিক। ফুলের ব্যাস ৩-৪ ইঞ্চি। ফুলের বহিচ্ছদ ৪টি এবং দুই সারিতে থাকে। পাপড়ির রঙ সাদা। পুংকেশর বহু এবং সোনালি বর্ণের হয়। গর্ভকেশরের মুণ্ডু ঢালের মতো।

ফল:এর ফল মোচার মতো। এর দৈর্ঘ্য ১-১.২৫ ইঞ্চি। ফুল থেকে এক প্রকার আঠা বের হয়। এর বীজ ১-৪টি হয়। বীজের রঙ ধূসর। ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মাসে ফুল ফোটে । সেপ্টেম্বর মাসে ফল হয়।

আরো পড়ুন: কাক পটল


বিস্তারঃ

এর আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা। ১৯৮৬ সালে এটিকে সে দেশের জাতীয় ফুল হিসাবে ঘোষণা করা হয়। শ্রীলঙ্কায় নাগেশ্বর গাছ 'না' বৃক্ষ বলে পরিচিত। সমগ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এটি প্রচুর দেখা যায়। সাগর সমতলের ১০০০ থেকে ১৫০০ মিটার উঁচুতেও এটি জন্মাতে পারে।

আরো পড়ুন: কারিপাতার উপকারিতা

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ

অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পরিপক্ক ফল সংগ্রহ করে তা রৌদ্রে শুকিয়ে বীজ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। বীজ অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষন করা যায়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। অঙ্কুরোদগম হতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগে। বীজ তলায় মাটি ও গোবরের মিশ্রন হতে হবে ১:৪ অনুপাতে। চারার দূরত্ব ৪ থেকে ৫ মিটার হওয়া প্রয়োজন। এক হতে দুই বৎসর বয়সের চারা রোপণের জন্য বেশী উপযুক্ত।

আরো পড়ুন: হলদে কলমি

গুনাগুনঃ

নাগেশ্বর ফুলের জন্য বিখ্যাত হলেও গাছটি ভেষজগুণেও অনন্য। এ গাছের বীজ, ফুল ও বাকল নানান রোগে কার্যকর। বিশেষত অর্শ, কৃমি ও চর্মরোগে উপকারী। তা ছাড়া এটি আনন্দদায়ক, হৃদযন্ত্রের শক্তিবর্ধক, যৌন উদ্দীপক, যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক, বলকারক ও রক্ত পরিস্কারক।

সাধারণত কাশি ও পেটের পীড়ায় ফুলের নির্যাস ব্যবহারের স্থানীয় রেওয়াজ রয়েছে। ক্রনিক আমাশয়েও ফুলের কুঁড়ির স্থানীয় ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

অর্শরোগে ৯-১০ গ্রাম পরিমাণ কাঁচা ফুল রাতে গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে কচলিয়ে ছেঁকে নিয়ে পানিটুকু সামান্য মিছরি বা মধুসহ সেব্য।

বাকলের নির্যাস রক্তক্ষরণ বন্ধ ও ঘাম নিঃসারক ঔষধ তৈরিতে ব্যবহূত হয়।

বীজতেল চুলকানি ও বাতের ব্যথা উপশমে কার্যকর।

তেল এক সময় নিম্নমানের জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহূত হতো।

এই ফুলে উদ্বায়ী তেল, তিক্ত উপাদান, বিটা-এমাইরিন, বিটা-সাইটোস্টেরল; বীজে অনুদ্বায়ী তেল এবং ফলে একটি তেল রজন রয়েছে। ফুল থেকে তৈরি আতর উৎকৃষ্ট মানের। কাঠ দারুমূল্যযুক্ত।

শিমের পুষ্টিগুণ
বহেড়ার গুনাগুণ
পেপারোমিয়া গাছের উপকারিতা
কুমড়োর বিচির উপকারিতা
নুনে শাকের ঔষধি গুন
হলুদ খাওয়ার উপকারিতা ও শত গুণ
অড়হর ডালের উপকারিতা - Benefits of pigeon pea
কুঁচ লতার ভেষজ গুণাগুণ - Herbal properties of jequirity
কুর্চি গাছের ঔষধি গুণাগুণ - Medicinal properties of kurchi plant
মুচকুন্দ গাছের উপকারিতা - Benefits of Oleander Tree