নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৩-Nilsagar Express train schedule 2023
Nilsagar Express train schedule

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৩-Nilsagar Express train schedule 2023

নীলসাগর এক্সপ্রেস বাংলাদেশের রেলওয়ে একটি আন্তঃনগর দ্রুতগামী ট্রেন। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাম্বার হচ্ছে  ৭৬৫/৭৬৬। ট্রেনটিতে আসনবিন্যাস আছে, ঘুমানোর ব্যবস্থা সহ খাদ্য সুবিধা রয়েছে। ট্রেনটি প্রতি ঘণ্টায় 100 কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। ট্রেনটিতে এসি, নন এসি, শোভন এই তিন শ্রেণীতে যাত্রী সেবা দিয়ে থাকে।নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২০০৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর ঢাকা থেকে নীলফামারী রুটে চালু করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।পরিকাঠামোর কারণে নীলফামারী থেকে যাত্রা শুরু করতে পারে না।

যার ফলে উত্তর অঞ্চলের মানুষ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন শুরু করে।পরবর্তীতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১০ সালের সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন এর জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চিলাহাটিতে একটি ওয়াশপিট সহ চিলাহাটি রেল লাইনের উন্নয়ন করা হয়।এরপর ২০১৫ সালের ২৮ শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে ট্রেনের চিলাহাটি থেকে যাত্রা শুরু করে।

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

নিলসাগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে চিলাহাটি যাতায়াত করে  । ঢাকা থেকে চিলাহাটি যাওয়ার সময় ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশনে  সকাল  ৬:৪০ ছেড়ে যায়  । চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছার দুপুর ৩ঃ০৫ মিনিটে  । অপরদিকে চিলাহাটি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে রাত ৮ঃ০০ এবং ঢাকা পৌঁছায় ভোর ৫:৩০ মিনিটে । ঢাকা থেকে চিলাহাটি যাওয়ার সময় এটি সোমবার বন্ধ থাকে অপরদিকে চিলাহাটি থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় এটি রবিবার বন্ধ থাকে ।

স্টেশনের নাম
ছাড়ায় সময়
পৌছানোর সময়
ছুটির দিন
ঢাকা টু চিলাহাটি
সকাল  ৬:৪০
দুপুর ৩ঃ০৫ মিনিট
সোমবার 
চিলাহাটি টু ঢাকা
রাত ৮ঃ০০
ভোর ৫:৩০ মিনিট
রবিবার

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন উত্তরের জেলা নীলফামারী চিলাহাটি থেকে যাত্রা শুরু করে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রাপথে নীলসাগর এক্সপ্রেস আরো অনেকগুলো শহর কে অতিক্রম করে। এসব ট্রেলার রেলওয়ে স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিরতি দেয়। আমি নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশনগুলোর নাম এবং দাঁড়ানোর সময় উল্লেখ করলাম। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে চিলাহাটি উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং রাস্তায় বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ৭.৭ মিনিটে, জয়দেবপুর রেলস্টেশনে ৭:৩৩ পৌঁছায়,নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ১১:১৬ এবং সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে ১২:১৫ মিনিটে ট্রেনটি বিরতি দেয়।এরপর আক্কেলপুর, জয়পুরহা্‌ট, বিরামপুর, ফুলবাড়ি হয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন বিরতি দেয় দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে।সর্বশেষ সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে ২:৪২ এবং নীলফামারী রেলস্টেশনে বিকাল ৩ টা ৫ মিনিটেএবং ডোমার রেলস্টেশনে পৌঁছায় বিকাল ৩ টা ২৬ মিনিটে।

বিরতি স্টেশন নাম
ঢাকা থেকে (৭৬৫)
চিলাহাটি থেকে (৭৬৬)
বিমান বন্দর
 সকাল ৭ঃ৭ 
ভোর ০৪ঃ৫৩
জয়দেবপুর
সকাল ০৭ঃ৩৩
ভোর ০৪ঃ২৭
বঙ্গবন্ধু সেতু
সকাল ০৯ঃ০০
রাত ০৩ঃ১০
মুলাডুলি
সকাল ১০ঃ৩৯
রাত ০১ঃ৪৫
নাটোর
সকাল ১১ঃ১৬
রাত ০০ঃ৩৩
আহসানগঞ্জ
সকাল ১১ঃ ৪০
রাত ১১ঃ ৪৫
সান্তাহার
দুপুর ১২ঃ ১৫
রাত ১১ঃ ৩০
আক্কেলপুর
দুপুর ১২ঃ ৪০
রাত ১১ঃ ০১
জয়পুরহাট
দুপুর ০১ঃ ০৪
রাত ১০ঃ ৪৫
বিরামপুর
দুপুর ০১ঃ ৩৬
রাত ১০ঃ ১৪
ফুলবাড়ি
দুপুর ০৩ঃ ৫০
রাত ১০ঃ ০০
পার্বতীপুর
দুপুর ০২ঃ ১৫
রাত ০৯ঃ ৪০
সৈয়দপুর
দুপুর ০২ঃ ৪২
রাত ০৯ঃ ০৩
নীলফামারী
দুপুর ০৩ঃ ০৫
রাত ০৮ঃ ৩৯
ডোমার
দুপুর ০৩ঃ ২৪
রাত ০৮ঃ ২১

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাংলাদেশের একটি বিলাসবহুল এবং দ্রুতগামী ট্রেন।ট্রেনটি বাংলাদেশের বিলাসবহুল এবং দ্রুতগামী হলেও এটি ব্যয়বহুল নয়। আপনি ট্রেনের টিকিট খুব সহজেই কিনতে পারবেন। এই ট্রেনের টিকিটের মূল্য খুব সহজলভ্য।নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের মূল্য এর মানের উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।আপনি যদি ভাল মানের আসন চান তবে আপনাকে মূল্য একটু বেশি দিতে হবে। বাংলাদেশ অফিশিয়াল রেলওয়ে সাইট থেকে সংগৃহীত ভাড়ার তালিকা আমি নিচে প্রদান করছি।নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের শোভন ৩৬০,  শোভন চেয়ার এর মূল্য  ৪৩৫ টাকা , প্রথম সিট ৫৭৫ টাকা, প্রথম বার্থ ৮৬৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৭২০ টাকা, এবং এসিবার্থ ১২৯৫ টাকা। আমি নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য খুব সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিলাম।

আসন বিভাগ
টিকেটের মূল্য
শোভন
৩৬০ টাকা
শোভন চেয়ার
৪৩৫ টাকা
প্রথম সিট
৫৭৫ টাকা
প্রথম বার্থ
৮৬৫ টাকা
স্নিগ্ধা
৭২০ টাকা
এসি বার্থ
১২৯৫ টাকা

নীলসাগর এক্সপ্রেস যোগাযোগ

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ফোন নাম্বার :935 8634, 9331822

মোবাইল নাম্বার: 01711 69 1612

বিমানবন্দর স্টেশন নাম্বার: 1924 239

খাবারের ব্যবস্থা

প্রায় সব ট্রেনেই খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা, করিডোরের মাধ্যমে ট্রেনের যেকোনো প্রান্ত থেকে খাবারের গাড়িতে গিয়ে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। সেখানে পাবেন বিভিন্ন ধরনের খাবার এবং তার মূল্য তালিকা টানানো রয়েছে গাড়িতে। এছাড়াও পেপার-পত্রিকা পাওয়া যায়

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের অনলাইন টিকিট

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের অনেক সুনাম রয়েছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি হইতে ঢাকা যায়। আবার ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন হতে নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশনে আসে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটির অনলাইন টিকিট সিস্টেম তৈরি হয়েছেন। আপনারা চাইলেই নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন টিকিট অনলাইনেও বুকিং করতে। স্টেশন থেকে যাদের বাড়ি অনেক দূরে স্টেশনে জাতি অনেক সময় লাগে তারা মোবাইল দিয়েই অনলাইনে টিকিট বুক করতে পারেন।

অনলাইনে টিকেট কাটার নতুন নিয়ম

ই-টিকিটিং সিস্টেমে টিকেট কেনার নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেক্ষেত্রে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে একবার রেজিস্ট্রেশন করলেই চলবে। 

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

টিকিট কাটতে অবশ্যই একবার যাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সে জন্য প্রথমে www.eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

সেখানে ওয়েবসাইটটির নিচের দিকে Registration বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর Create an Account নামের নতুন একটি Page আসবে। এখানে Personal Information এর সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করে Security code ঘরের পাশে দেখানো Security Code দিয়ে পূরণ করে Register বাটনে ক্লিক করতে হবে।

সব তথ্য সঠিক থাকলে Registration Successful নামে নতুন একটি Page আসবে।

ই-টিকেটিং সিস্টেম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার দেয়া ই-মেইলে Bangladesh Railway থেকে একটি মেইল পাঠানো হবে।

Bangladesh Railway থেকে আসা মেইলটি খুলে সেখানে মেসেজে থাকা Click লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে। এরপর যাত্রীর Registration সম্পন্ন হবে।

টিকিট কাটার প্রক্রিয়া

রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারবেন। এ জন্য তাকে প্রথমে www.eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

সেখানে থাকা Log in প্যানেলে ই-মেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড এবং সিকিউরিটি কোড পূরণ করতে হবে।

পরে যে Page আসবে তাতে Purchase ticket বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখানে যাত্রীকে পূরণ করতে হবে তিনি কোন তারিখের টিকিট কাটতে চান, কোন স্টেশন থেকে কোন স্টেশন পর্যন্ত, ট্রেনের নাম, শ্রেণি, টিকেট সংখ্যা।

পরে দেখানো হবে Registration Seat Available কি না এবং টিকিটের দাম। সেখানে সবকিছু ঠিক থাকলে Purchase ticket বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশ কার্ড কিংবা ব্রাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকিটের দাম পরিশোধ করতে পারবেন যাত্রীরা। পরে যাত্রীর ই-মেইলে ই-টিকেটটি পাঠিয়ে দেবে বাংলাদেশ রেলওয়েল।

এরপর সেই টিকিট প্রিন্ট দিয়ে ফটো আইডিসহ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন। কিংবা ই-টিকেট প্রদত্ত Ticket Print Information দিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে যাত্রার পূর্বে ছাপানো টিকেটও সংগ্রহ করতে পারবেন।