অনলাইনে ইনকাম করার উপায় - Ways to Online Income
Online Income

অনলাইনে ইনকাম করার উপায় - Ways to earn online

বর্তমানে প্রযুক্তির এর যুগে মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রযুক্তির উপরে নির্ভরশীল। মানুষের এই প্রযুক্তি ও অনলাইন নির্ভর মানসিকতা ইন্টারনেটে ইনকামের অনেক দার উম্মোচন করেছে। খুব সহজেই মানুষ ভালো একটা পরিমানের অর্থ অনলাইন থেকে উপার্জন করছে। দেশের লাখ লাখ মানুষ এখন এই অনলাইন ইনকাম (Online Income) এর উপরে নির্ভরশীল। চাইলেই খুব সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আপনিও ইনকাম করতে পারবেন। আপনি কি সেটি চান? যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই।

অনলাইন ইনকাম সাইট (Online Income Site)

আমি আপনাদের সাথে এই পোস্টে অনলাইন ইনকামের উপায় শেয়ার করার পাশাপাশি কয়েকটি অনলাইনে ইনকাম করার বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট শেয়ার করব। সেই ওয়েবসাইটগুলোতে আপনি তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

যদিও শুরুতে আপনার কাছে একটু কঠিন মনে হতে পারে। তাই বলে হাল ছেড়ে দিলে তো আর হলো না। ধৈর্য ধরে একবার যদি ইনকাম শুরু করতে পারেন, ওই সকল ওয়েবসাইট থেকে, তাহলে একটা সময়ে গিয়ে আপনি ভালো পরিমাণ অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।

১. ওয়েবসাইট তৈরি করে/ ব্লগিং করে অনলাইনে ইনকাম ২০২৩

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম বা ব্লগিং করে অনলাইনে আয় একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। আমার পরিচিত অনেকেই ব্লগিং এর মাধ্যমে অনলাইন হতে ভালো পরিমানে অর্থ উপার্জন করছে। তার মধ্যে আবার কয়েকজনের প্রতিমাসে কয়েক লহ্ম পর্যন্ত ইনকাম আছে। যা একজন সাধরন মানুষের পহ্মে বিশ্বাস করা সম্ভবনয়।

সর্বপ্রথম আমি ওয়েবসাইট বানিয়ে ইনকাম করাটা কে আপনার জন্য রিকমেন্ড করব। কেননা এখান থেকে আপনি ভালো পরিমান [ বর্তমান বাজারে চাকরির তুলনায় ] ও পার্মানেন্ট ইনকামের পথ তৈরী করতে পারবেন।

একটা ওয়েবসাইট বানানো খুবই সহজ। একটি ওয়েবসাইট বানানোর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ওয়েব-হোস্টিং ও ডোমেইন। তাছাড়াও ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। কিন্তু সেটি আমি আপনার জন্য রিকমেন্ড করব না কেননা সেটিতে পরবর্তী সময়ে আপনি বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন।

ওয়েবসাইট থেকে যেভাবে টাকা ইনকাম করবেন

একটি ওয়েবসাইট থেকে সাধারণত আপনি তিন ভাবে টাকা আয় করতে পারবেন।

১.গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে।

২.এফিলিয়েট মার্কেটিং করে।

৩.স্পনসর লিংক ব্যবহার করে।

গুগল এডসেন্স  ব্যবহার করে অনলাইনে আয়

আপনার ওয়েবসাইটে যখন ভিজিটর আসবে তখন সেই ভিজিটরের মাধ্যমে গুগল এডসেন্স আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর রা যখন গুগল এডসেন্সের এড দেখবে বা এডে ক্লিক করবে তার মাধ্যমে আপনার এডসেন্স একাউন্টে $ ডলার যোগ হবে, মানে আপনার ইনকাম হবে।

তবে গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য আপনার ওয়েবসাইটের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যা গুগোল তাদের ব্লগে গুগল এডসেন্স এর নিয়ম নীতি শেয়ার করেছে। আপনি চাইলে সেই সকল নিয়ম-নীতি গুগল এডসেন্সের ব্লগ থেকে পড়ে আসতে পারেন।

গুগল এডসেন্স এর জন্য আপনাকে আবেদন করতে হবে যখন আপনার ওয়েবসাইটে অর্গানিক ভিজিটর আসা আসা শুরু করবে। আমার মতে, যখন আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন অর্গানিক ১০০-২০০ ভিজিটর আসা শুরু করবে,তখনই গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করা উচিত।

স্পন্সর লিংক দিয়ে অনলাইনে ইনকাম

ওয়েবসাইট স্পনসর লিঙ্ক হচ্ছে, কোন ওয়েবসাইটের লিংক আপনি চুক্তিবদ্ধ হয়ে আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করবেন। সেই লিংকটি হতে পারে ইমেজ লিংক, ডিরেক্ট লিংক, বা আরও অন্যকোন ভাবে। ওই লিংক ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি ওই ওয়েবসাইটের মালিকের কাছ থেকে টাকা পাবেন মাসিক, ক্লিক বা ইমপ্রেশনের উপর নির্ভর করে।

২. ইউটিউব থেকে আয়

বাংলাদেশের অনেক বড় বড় ইউটিউবার আছে। এদের কারো কারো মাসের ইনকাম ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আপনিও কিন্তু চাইলেই ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে ইনকাম করা শুরু করতে পারেন। এই ভিডিও বানাতে আপনার ক্যামেরা না থাকলেও চলবে। প্রথমে অনেক বড় বড় ইউটিউবার-ই মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে শুরু করে তাদের ইউটিউব যাত্রা। তারপরে সফল হওয়ার পরে এখন তারা দামি দামি গেজেট ব্যবহার করে। আপনার কন্টেন্ট যদি ভালো থাকে, প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে যদি আপনি ভিডিও বানাতে পারেন, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই আপনি ভিউয়ার পেয়ে যাবেন।

তবে এক্ষেত্রে একটি ছোট্ট বিষয় টিপস দিয়ে রাখি আপনাদের। আপনারা যদি সত্যিই প্রফেশনালভাবে ইউটিউবে কাজ করতে করতে চান তাহলে ভিডিওর অডিও ও ভিডিও এডিটিং খুবই ভালো ভাবে করতে হবে। তারপরে সর্বনিম্ন এক হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়ে গেলে এবং ন্যূনতম ভিউ টাইম হয়ে গেলে আপনি মানিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর পরে প্রতিটা ভিডিওতে মানিটাইজেশন একটিভেট করে নিলেই আপনার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।

এছাড়াও বর্তমানে ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়াও আপনি বিভিন্ন জায়গা থেকে স্পন্সারের মাধ্যমেও ইনকাম করতে পারেন। দেখা গেলো কোনো একটা কোম্পানি কোনো একটা পন্যের মার্কেটিং এর জন্য আপনার ভিডিও তে তার ওই পন্য বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য বললো। আপনি এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দিতে সম্মতি প্রকাশ করলে আপনাকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী সে পেমেন্ট করবে।

৩. ফেসবুক থেকে আয়

ফেসবুক হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যোসিয়াল মিডিয়া। পৃথিবী মানবের একটি বিশাল অংশ ফেসবুকের সাথে যুক্ত হয়ে আছে। প্রত্যেক সেকেন্ডে গড়ে ০৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে থাকে। প্রতিমাসে ২.৫ বিলিয়ন একটিভ ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে।  প্রতিদিন ১.৪৫ বিলিয়ন লোক তাদের ফেসবুক একাউন্টে লগিন করে।

আপনি কিন্তু এই বিশাল সোশ্যাল মিডিয়াকে অনলাইনে ইনকামের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। অবশ্য ফেসবুক থেকে ইনকাম করাটা একটু কঠিন। তবে ধৈর্য ধরে সঠিক গাইডলাইনে এগুতে থাকলো খুব দ্রুত ফেসবুক থেকে ইনকাম করা সম্ভব।ফেসবুক থেকে অনেকভাবে ইনকাম করা যায়। তবে আমি জনপ্রিয় কয়েকটি মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করব। যেগুলো আপনি ব্যবহার করে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন।

ফেসবুক পেজ থেকে আয়

ইউটিউব এর মত ফেসবুক পেজে ভিডিও আপলোড দেওয়ার মাধ্যমে ফেসবুক থেকে টাকা আয় করা যায়। এটি সাধারণত ভিডিওতে এড দেখানোর মাধ্যমে টাকা ইনকাম হয়। তবে ফেসবুক পেজের ভিডিওতে অ্যাড আসার পূর্বে ফেসবুক পেজের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

১.একটা ফেসবুক পেজ থাকতে হবে।

২.ফেসবুক পেজে এর ফলোয়ার সংখ্যা ১০,০০০ বা এর বেশি হওয়া লাগবে।

৩.পেজটির ভিডিওগুলোতে বিগত ৬০ দিনে কমপক্ষে (১ মিনিটের বেশি সময় ধরে দেখা হয়েছে এমন) ৩০,০০০ ভিউ থাকতে হবে। যেসকল ভিডিও ৩ মিনিটের বেশি সময়ের, শুধুমাত্র সেগুলোই এক্ষেত্রে হিসাবের ভেতরে পড়বে।

ফেসবুকের এই শর্তগুলো পূরণ করার করার পর আপনার ফেসবুক পেইজের ভিডিওতে এড আসার উপযোগী হবে। তারপর আপনার ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন এর জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। তারা আপনার ফেসবুক পেজটি রিভিউ করে দেখবে যদি তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন এর উপযুক্ত হয়, তাহলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আপনার ভিডিওতে এড দেবে। আর আপনার ভিডিও গুলোতে এড দেখানোর মাধ্যমে আপনি ফেসবুকে পেজ দ্বারা অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

ফেসবুক গ্রুপ থেকে ইনকাম

ফেসবুক গ্রুপ থেকে ইনকাম করা সম্ভব। আমি অনলাইনে অনেক ফেসবুক গ্রুপ দেখেছি, যেগুলিতে কোন ওয়েবসাইটের লিংক বা কোন এড দেওয়ার জন্য টাকা দিতে হয়। যেমন বাংলাদেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। যেগুলোতে বাংলাদেশের অনেক চাকরির ওয়েবসাইট এর মালিকরা তাদের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শেয়ার করে। এবং লিংক শেয়ার করার জন্যে ঐ ফেসবুক গ্রুপ গুলির মালিকদের মাসিক টাকা দিতে হয়।

তবে একটা ফেসবুক গ্রুপ থেকে টাকা ইনকাম করতে গেলে সেই গ্রুপে প্রচুর পরিমাণে একটিভ সদস্য প্রয়োজন। যা কয়েকজন মিলে লম্বা সময় ধরে কাজ করলে সম্ভব। একা একটি ফেসবুক গ্রুপকে টাকা ইনকামের পর্যায়ে নিয়ে যেতে অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই আপনার কাছের কয়েকজন বন্ধু বান্ধব মিলে টাকা ইনকামের জন্য একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করতে পারেন।

৪. ব্লগিং (Blogging) করে আয়

ব্লগিং অনলাইন আয়ের বেশ পুরাতন কিন্তু অনেক কার্যকরী একটা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বেশ ভালো অঙ্কের একটা টাকা প্রতি মাসেই ইনকাম করা সম্ভব। এটি মূলত একটি ডিজিটাল নিউজ পেপার এর মতো। আপনি আপনার মন মতো কোনো একটি বিষয় নিয়ে লিখবেন। যার ওই বিষয়টি জানার দরকার সে এসে পড়ে যাবে।

আপনি এখন যে লেখাটি পড়ছেন এটিও একটি ব্লগ। অতএব বুঝতেই পারছেন বিষয়টা। লেখালেখি যদি আপনার আগ্রহ থাকে, তাহলে আপনি খুব সহজেই এখান থেকে ইনকাম করতে পারেন। আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ, জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা বেশি সে বিষয়ে ব্লগিং করলে তা সবথেকে বেশি কাজে দেয়।

তাই আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী সেই নিশেই (niche) কাজ করতে পারেন। নিশ(niche) বলতে মূলত নির্দিষ্ট কিছু বিভাগ বোঝায় যেমন, খেলাধুলা, টেকনোলজি, আইন, রান্না, জীবনী, ভ্রমন, ইত্যাদি। উদাহরণ স্বরূপ ভ্রমনের ক্ষেত্রে আপনি কোনো এক জায়গায় ভ্রমনে গিয়ে কি কি অভিজ্ঞতা হয়েছিলো সেটি নিয়ে একটি বিস্তারিত ব্লগ লিখে ফেলতে পারেন।

এখন মূল বিষয় হলো আপনি কোথায় লেখা লিখি করবেন। এক্ষেত্রে সব থেকে ভালো হয় আপনি যদি একটি ব্লগ সাইট নিজে বানিয়ে নিতে পারেন। এখন অনেক সহজে কোনো খরচ ছাড়াই ব্লগ সাইট বানানো যায়। তবে ফ্রি সাইটগুলো কে মানুষ একটি কম বিশ্বাস করে।

তাই আমাদের পরামর্শ থাকবে প্রথমে কিছু টাকা খরচ করে ডোমেন কিনে হোস্টিং ঠিক করে আকর্ষণীয় একটি সাইট তৈরি করুন। এরপর ওখানে লেখা লেখি শুরু করুন। দেখবেন বেশ ভালো ফল পাচ্ছেন। একটি ডট কম ডোমেন কিনবেন সাথে এক জিবি হোস্টিং এবং একটি ফ্রি থিম। এই তিনটা জিনিসই আপনার ব্লগিং শুরু করার জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে আপনার তিন হাজার টাকা মতো খরচ হতে পারে।

এইভাবে খরচ করে ব্লগিং করলে আপনার ব্র্যান্ডিং টা ভালো হবে এবং ইনকাম এর পরিমানও অনেক বেশি হবে ফি সাইটের তুলনায়। আর ভবিষ্যতে আপনার সাইট এর দামও অনেক হবে। ক্ষেত্র বিশেষে একটি ভালো সাইটের মূল্য কয়েক লক্ষ্য পর্যন্ত হয়ে যায়।

আর ফ্রি সাইট গুলোর ক্ষেত্রে আপনাকে পুরো ডোমেইন দিবে না গুগোল। আপনি সেক্ষেত্রে পাবেন সাব ডোমেইন। এভাবে ব্লগ সাইট খোলার ক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই ব্লগস্পট দিয়ে ১০ মিনিটেই একটি ব্লগসাইট খুলতে পারেন। আর এক্ষেত্রে আপনি মোবাইল এবং কম্পিউটার উভয় মাধ্যমেই কাজ করতে পারেন। তাই যারা মোবাইলে অনলাইন ইনকামের কথা ভাবছেন, তাদের জন্যও এটি একটি সেরা সুযোগ হতে পারে।

তবে এতো কিছুর পাশাপাশি আপনার যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর কিছুটা ধারনা থাকে তাহলে কিন্তু আপনি খুব সহজেই আপনার সেই ব্লগে প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক বা ভিজিটর আনতে পারবেন। যার মাধ্যমে আপনি কিন্তু আপনার ইনকামের পরিমাণ বহুগুণে বাড়িয়ে ফেলতে পারবেন খুব সহজেই।

৫. গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয়

গ্রাফিক্স যাকে বলা হয় “অঙ্কন বিষয়ক জ্ঞান” গ্রাফিক্স ডিজাইন হল এমনি একটি সদৃশ মাধ্যম যার দ্বারা কোন পৃষ্ঠার উপরে (যেমন, একটি ক্যানভাসের উপর, একটি পর্দার উপর, একটি কাগজের উপর, কিংবা একটি ওয়ালের উপর) ছবি বা নকশা আঁকাকে বুঝায়।  যা একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে এবং তা আমাদেরকে কোন ভাবার্থ বা বিনোদন অথবা স্বচিত্রক ভাব প্রকাশ করে ।

আপনি যদি একজন ভাল মানের গ্রাফিক ডিজাইনার হতে পারেন, তাহলে আপনি প্রতিমাসে হাজার ডলার তারওে বেশি আয় করতে পারবেন।

আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন  গুগলে সার্চ করে বা ইউটিউবে সার্চ করে টিটোরিয়াল দেখে শিখতে পারবেন। যদি আপনার এই কাজ শিখার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকে। তাছাড়া আপনি ইচ্ছা করলে কোন বিশ্বস্ত আইটি কোম্পানির অধীনে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর উপরে কোর্স করতে পারেন।

৬. ওয়েব ডিজাইন

ওয়েব ডিজাইনিং হল ওয়েব সাইটের জন্য লেআউট, কনটেন্ট প্রোডাকশন, ওয়েবপেইজ ইত্যাদি ডিজাইন করে দেওয়া। ওয়েব ডিজাইনিং এর অনেক মূল্য বর্তমান বাজারে অনেক। যতগুলি ওয়েবসাইট আছে প্রত্যেক ওয়েবসাইটে একটি ওয়েব ডিজাইনার প্রয়োজন হয়।

যদি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট কেউ করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই একজন ওয়েব ডিজাইনার এর সাহায্য নিতে হবে।ভালো মানের ওয়েব ডিজাইনারের ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস অনেক মূল্য। কাজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের রেটও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

যদি ভালোভাবে ডিজাইন শিখতে পারেন অনলাইনে ইনকাম করার জন্য আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। এবং যা হবে আপনার জন্য দীর্ঘস্থায়ী অনলাইন ইনকামের পথ। যদি আপনার এই কাজ শিখার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকে, তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইন  গুগলে সার্চ করে বা ইউটিউবে সার্চ করে টিটোরিয়াল দেখে শিখতে পারবেন।

আর আপনি ইচ্ছা করলে কোন বিশ্বস্ত আইটি কোম্পানির অধীনে ওয়েব ডিজাইন এর উপরে কোর্স করতে পারেন।

৭. প্রোগ্রামিং

প্রোগ্রামিং এর সংজ্ঞায় ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিকশনারি অনুসারে,“প্রোগ্রামিং হল কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখার জন্য করা ক্রিয়াকলাপ।”

কম্পিউটার কত রকমের কাজ করে। ছবি ভিডিও সেভ করা থেকে এক্সেল শিট এর হিসাব রাখা এসব কাজই কম্পিউটার করতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার কি এসব নিজে থেকে করতে পারে? না, কম্পিউটার অবশ্যই এসব নিজে থেকে করে না। এজন্য তার মধ্যে অবশ্যই এই প্রোগ্রাম গুলো সেট করে দিতে হবে।

মানুষ যেমন একে অপরের সাথে কথা বলার জন্য ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে, কম্পিউটার কেও ঠিক নির্দেশনা দেবার জন্য সুনির্দিষ্ট ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করতে হয়। C++, Python এরকম কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যার সাহায্যে কম্পিউটার কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার কম্পিউটার কে এমন ভাবে নির্দেশনা দিবে যার ফলে কম্পিউটার বিভিন্ন সফটওয়্যার এবং এপ্লিকেশন কে কাজ করাতে পারবে।

ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে সবচেয়ে উচুদরের কাজগুলো র মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং অন্যতম। একজন প্রোগ্রামার অনেক সময় ধরে এসব প্রোগ্রামিং এর কাজ শিখে কম্পিউটার কে নির্দেশনা দিতে পারে কোন এপ্লিকেশন রান করাবার।

আপনি যদি একাডেমিক ভাবে প্রোগ্রামিং শিখতে চান তাহলে আপনি কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এ পড়তে পারেন। এই ডিপার্টমেন্টে আপনি সার্টিফিকেট পাবার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে ও জানতে পারবেন।

তাছাড়া ইউটিউব ঘাটা-ঘাটি করে আপনি শিখতে পারেন। আর যদি অনলাইন কোন কোর্স করতে চান তাহলে আমি Udemy, Udacity, coursera এই ৩ টি ওয়েবসাইট রিকমেন্ড করব।

প্রোগ্রামিং এর কাজ শেখা সময়সাধ্য হলেও আপনি প্রোগ্রামিং এর কাজ ভালভাবে শিখলে আপনার জন্য খুলে যাবে অবারিত সুযোগ। তখন আপনি প্রোগ্রামিং করেই ভালো পরিমানে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন।

৮. ডিজিটাল মার্কেটিং

অনলাইনে বিখ্যাত চাকরির ওয়েবসাইট লিংকড ইন এর কথা আপনারা অবশ্যই সবাই শুনেছেন।  এই ওয়েবসাইটে সবচাইতে বেশি যে চাকরির জন্য চাওয়া হয়েছে তা হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং এক কথায় সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন। তবে আমি আপনাদেরকে উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পোস্ট করে পণ্যের প্রচারণা, ইমেইল মার্কেটিং, ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিয়ে পন্যের প্রচার করা এবং এসব স্ট্র‍্যাটেজি প্রণয়ন করা সম্পর্কিত বিষয় হল ডিজিটাল মার্কেটিং। আপনি যদি ডিজিটাল ডিজিটাল মার্কেটিং সাইটে আসতে চান তবে প্রথম দিকে আপনার একটু স্ট্রাগল অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু সুখবর হচ্ছে আপনি যত বেশি ডিজিটাল মার্কেটিং এ অভিজ্ঞ হবেন আপনার কাজের মূল্য তত বাড়বে।

৯.ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing)করে অনলাইন আয় ২০২৩

অনলাইনে যে পদ্ধতিতে সবথেকে বেশি মানুষ রোজগার করে সেটি হলো ফ্রিলান্সিং। বাংলদেশের বেকারত্ব কমাতে এই খাতটি অনেক বড় ভুমিকা পালন করছে এবং সাথে সাথে অনেক দক্ষ মানুষ এই খাতে কাজ করে আমাদের দেশকে রিপ্রেসেন্ট করছে ।

পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরছে। আসলে বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশের মানুষের জানতোই না যে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ বলে একটা দেশ আছে। সেসব মানুষের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করছে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সারগণ।

সাথে সাথে প্রতি মাসে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স তারা এনে দিচ্ছে বাংলাদেশে। তাই এই ফ্রিলান্সিং এ যোগদান করে আপনি টাকা আয় করার পাশাপাশি এই গৌরবেরও অংশীদার হতে পারবেন। এখন আসি কিভাবে শুরু করবেন এই কাজ। ফ্রিলান্সিং বলতে মুলত বিভিন্ন ধরনের কাজ যে কাজে আপনি দক্ষ সে কাজটি একটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এর বিনিময়ে করে দেয়া।

এখানে আপনার কাজ করার এবং আপনার যে ইমপ্লয়ার (Employer) তার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নাই। আপনি ঘরে বসেই আপনার কাজ সম্পাদন করতে পারবেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট হবে বিভিন্ন দেশের। সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে থাকবে।

যাহোক, সবার প্রথমে এখানে আপনার দরকার একটি নির্দিষ্ট বিষয় দক্ষতা। এটা হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং (Graphics Design), হতে পারে ফটো এডিটিং (Photo Editing), হতে পারে ওয়েব ডিজাইনিং (Web Design), ওয়েব সাইট মেকিং (Website Making), কপি রাইটিং (Copywriting), কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing), লোগো ডিজাইন (Logo Design), ইত্যাদি।

এসবের যেকোনো একটি কাজে আপনি দক্ষতা অর্জন করতে পারলেই আপনি ফ্রিলাঞ্চিং করতে পারবেন। আপনি যদি একাধিক কাজ পারেন সেক্ষেত্রে আপনার টাকা ইনকামের সুযোগ বেশি হয়ে যায়।

কাজ শেখার পর আপনাকে বিভিন্ন ফ্রিলান্সিং সাইটে (যেমন- Freelancer, Upwork, Fiver, ইত্যাদি)  আপনার তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এর পরে আপনি কোন কোন কাজে পারদর্শী সেগুলো ওই সাইটে মেনশন করে দিতে হবে।

তবে একটা বিষয় আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। বর্তমান সময়ে অনলাইন ইনকাম সাইট অনেক আছে। কিন্তু সঠিক ও ভালো মানের সাইট খুব একটা নেই। তাই যেকোনো ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ভালো ভাবে সাইটটি দেখে নিবেন। যদি সব কিছু দেখে আপনার কাছে ভালো বলে মনে হয় কেবল তাহলেই আপনি সেই সাইটে কাজ করা শুরু করবেন।

তারপর, আপনি যে কাজ পারেন তার প্রমানের জন্য আপনার পূর্বেই সম্পাদিত কোনো কাজ থাকলে সেটা পোর্টফোলিও আকারে ওই ওয়েবসাইটে সাজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে আপনার ক্লায়েন্ট এসে আপনার পোর্টফলিও দেখে পছন্দ করলে আপনাকে কাজে নিয়োজিত করবে।

এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ থাকবে অবশ্যই ভালো একটা পোর্টফলিও তৈরি করার জন্য কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নতুন হিসাবে ওই পোর্টফোলিও গুলোই আপনাকে কাজ পেতে সহায়তা করবে। প্রথম প্রথম আপনাকে কাজ পেতে একটি অসুবিধা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার পরিচিত কেও যদি ফ্রিলান্সার থাকে তার রেফারেন্স নিতে পারেন।

এই রেফারেন্স এর মাধ্যমে কাজ পেয়ে আপনার প্রথম ক্লায়েন্ট যখন আপনাকে ভালো একটা রিভিউ দিবে, তখন দেখবেন কাজ আসতেই থাকবে। এছাড়াও প্রথমে গিয়ে বিভিন্ন কন্টেস্টে অংশগ্রহন করতে পারেন। ওখান থেকেও ক্লায়েন্ট পেতে পারেন। আমাদের মতে ফ্রিলান্সিং এর ক্ষেত্রে প্রথম কাজটা পাওয়াই একটু কঠিন।

১০. ইমেইল মার্কেটিং

ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন অনলাইন থেকে আয় এর আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম। ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে আপনার কাছে যত জন গ্রাহকের ইমেইল থাকবে আপনি ততজন গ্রাহককে আপনার নতুন কোন পণ্য আসলে বা বিভিন্ন লেখা ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠান এর সাথে তাদের জুড়ে রাখবেন। ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ার ফলে তারা আপনার নতুন পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

শুধু পন্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য যে তাদেরকে ইমেইল পাঠাতে হবে এমন না। আপনি তাদেরকে ছোটখাটো গল্প, ব্লগ ইত্যাদিও পাঠাতে পারেন আপনার পাঠকদেরকে আকর্ষণ করার জন্য। তাহলে তারা একদিকে যেমন বিরক্ত হবে না পাশাপাশি আপনার ইমেইল আসার পর তারা তা খুলে দেখতে উৎসাহিত হবে।

আপনার সংগ্রহীত ইমেইল গুলি আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিক্রি করে অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি গুগলে সার্চ করেন ইমেইল বিক্রির ওয়েবসাইট, তাহলে অনেক সাইট পাবেন যেগুলোতে আপনার ইমেইল গুলো বিক্রি করতে পারবেন।আরো বিভিন্নভাবে ইমেইলের মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম করা যায়।

১১. সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার

আপনাদের এখানে আমার লেখাটি পড়ছেন এমন অনেকে আছে যাদের ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে আছে হাজার হাজার ফলোয়ার। আপনারা আপনাদের এই সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার ব্যবহার করেই মাসে অনায়াসে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন হাজার হাজার টাকা।

ইউটিউব এ বিভিন্ন রকম ভিডিও দেখার সময় আপনারা খেয়াল করেছেন যে ইউটিউবাররা প্রায়ই বিভিন্ন রকম পণ্যের প্রচারণা করে। যেমন কেউ বলে তার ভিডিওটা শুট করা হয়েছে এই ক্যামেরা দিয়ে তো আরেকজন বলে এই ভিডিওটার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত অর্থ স্পন্সর করেছে অমুক কোম্পানি। ঠিক একই রকম কাজটি আপনি ও আপনার ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করতে পারেন। যেমন আমার এক বন্ধুর ইনস্টাগ্রামে 13 হাজার ফলোয়ার থাকা সত্ত্বেও সে তার ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট থেকে কোনরকম ইনফ্লুয়েন্সিং মার্কেটিং করে না। সে আসলে বিষয়টি সম্পর্কে যথেষ্ট জানে না।

যেমন ধরুন আপনি কোন টি শার্টের ছবি তুলে ফেসবুকে বা ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করলেন তারপর লিখে দিলেন যে হচ্ছে এই টি-শার্ট বানানো হয়েছে অমুক কোম্পানি থেকে। এই যে আপনি যে বলবেন আপনার টি শার্ট অমুক কোম্পানি থেকে নেয়া নেওয়া হয়েছে আর তার ফলে আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের এবং আপনার সমস্ত ফলোয়ার জানবে যে অমুক কোম্পানিটির শার্টের ডিজাইন এরকম।

তার ফলে তারব ওই কোম্পানির টি শার্ট কিনতে উৎসাহিত হবে আর এটার জন্য ওই কোম্পানি আপনাকে কিছু অর্থ দিবে এভাবে আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সিয়াল বহির্বিশ্বে অনেক দাম আছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি বাংলাদেশের এর ব্যবহার অত্যন্ত কম। এর মূল কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে না জানা। সবাই যেন জানতে পারে যে আপনি একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সার আর এটার জন্য আপনি যা করতে পারেন:

আপনার ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের বায়োডাটা তে আপনি লিখে রাখতে পারেন যে হচ্ছে আপনি একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সিং যে করেন সে সম্পর্কিত পোস্ট এবং ফটো অবশ্যই আপলোড দিবেন। 

১২. ড্রপশিপিং করে অনলাইন আয়

ড্রপ শিপিং অনলাইনে ইনকামের এক অদ্ভুত উপায় যেখানে আপনি কোন পণ্য না কিনেও আপনি অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে পণ্য নামিয়ে বিক্রি করতে পারবেন। শপিফাই ড্রপশিপিং এর জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। ড্রপ শিপিং এর জন্য শপিফাই এক নাম্বার ওয়েবসাইট এর কথা বলেই আমরা বিষয়টা আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ। 

শপিফাই আপনি ১৪ দিনের দিনের জন্য ট্রায়াল বেসিস এ ফ্রী একাউন্ট খুলতে পারবেন তারপর আপনাকে 30 ডলার থেকে 130 ডলার পর্যন্ত এই প্যাকেজ এর মধ্যে যেকোনো একটা প্যাকেজ বেছে নিতে হবে। মাসে মাসে এই পরিমাণ অর্থ আপনার শপিফাই কে দেওয়া লাগবে। বিনিময় শপিফাই তার ওয়েবসাইটে আপনার প্রোডাক্ট শো করবে।

আপনি কোন পণ্য না কিনেও অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে খুব সহজে আপনার ওয়েব পেজে পণ্যগুলি দেখাতে পারবেন এবং বিক্রি করতে পারবেন। শপিফাই একাউন্ট খোলার পর আপনাকে Oberlo এক্সটেনশন ইন্সটল করতে হবে। আপনি আলিবাবা আলী এক্সপ্রেস সহ বিভিন্ন অনলাইন শপিং স্টোর থেকে আপনার পণ্যগুলো সবই আপনার শপিফাই স্টোরে ডাউনলোড করতে পারবেন। পণ্যগুলো আপনার শপিফাই স্টোরে এড করার পর আপনি পণ্যগুলোতে আপনার সুবিধামতো দাম বসিয়ে। প্রডাক্টগুলো ডেসক্রিপশন দিবেন যাতে কাস্টমাররা কিবোর্ড দিয়ে সার্চ দিলে সহজেই খুঁজে পায়। 

এভাবেই কোন রকম পণ্য উৎপাদনের সাথে যুক্ত না হয়েও ড্রপশিপিং এর মাধ্যমে অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন হাজার হাজার ডলার।

১৩. ছবি ও ভিডিও বিক্রি

অনলাইনে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত ট্রাভেল ব্লগার আছে। তো আমি এরকম প্রায়ই ট্রাভেল ব্লগারদের ভিডিও দেখে থাকি তো। ট্রাভেল ব্লগারদের ভিডিও দেখার সময় একজন ট্রাভেল ব্লগার বর্ণনা করেছিল যে সে কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার মত অর্থ উপার্জন করে। সে বলছিল যে তার অর্থ উপার্জনের মূল সোর্স গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সে তার ছবি এবং ভিডিও গুলো বিক্রি করে টাকা উপার্জন করে। 

তখন আমি বিষয়টা বুঝতে না পারলেও এখন আমি বিষয়টা বুঝতে পারি। সেটা হচ্ছে আপনি অনলাইন থেকে ছবি এবং ভিডিও বিক্রি করে উপার্জন করতে পারেন অনেক টাকা। istockphoto, shutterstock এর মতন কিছু ওয়েব সাইট আছে যেখান থেকে আপনি আপনার ছবি এবং ভিডিও বিক্রি করতে পারেন এবং অনলাইন থেকে এই পদ্ধতিতে আপনি আয় করতে পারেন অনেক টাকা।

১৪.অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) করে আয়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) বর্তমানে সারা বিশ্বেই অনেক জনপ্রিয় একটি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও আস্তে আস্তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর সংখ্যা বাড়ছে। এটি অনেক সহজ একটি মাধ্যম। কিন্তু সাধারন মানুষের অনেকেরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা না থাকার কারনে এই কাজে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করছেনা। আসুন বিষয়টা খুব সহজে বুঝে নেই।

বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ই-কমার্স (E-Commerce) সাইট রয়েছে। এদের ভেতরে অনেকগুলো আবার সারা বিশ্বেই পন্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। এইসব ই-কমার্স (E-Commerce) সাইটে প্রত্যেকটাতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) নামে একটি সেকশন রয়েছে।

আপনি সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে খুব সহজেই তাদের মেম্বার হয়ে যেতে পারেন। তারপর আপনার একটা গ্রুপ তৈরি করতে হবে বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে। এরকম গ্রুপ আমাদের প্রতিটি মানুষেরই আছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে।

এখন ওই নির্দিষ্ট ই-কমার্স (E-Commerce) সাইট থেকে আপনি বিভিন্ন পন্যের বিবরন সহ ওই লিঙ্ক কপি করে বিভিন্ন গ্রুপে পাঠাতে হবে। এবার ওখানে থেকে ওই লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কেও পন্যটি কিনে তাহলে আপনি সেটার থেকে নির্দিষ্ট পরিমানের একটি কমিশন পাবেন। এক্ষেত্রে আপনার কমিশনের জন্য কিন্তু পন্যটির দাম বাড়বে না। পন্যটির আসল যে দাম সেটি দিয়ে  মানুষ কিনতে পারবে আপনার পাঠানো লিঙ্ক থেকে।

তবে এ ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং সর্ম্পকেও পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট ধারনা থাকা চাই। এভাবে অনেক টাকায় ইনকাম করা সম্ভব হয় যদি আপনি ভালো একটি কমিউনিটি তৈরি করে ফেলতে পারেন। তাছাড়া আপনি চাইলে এখান থেকে ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমেও ইনকাম করতে পারেন।

এর জন্য আপনার দরকার অনেক গুলো একটিভ ইমেইল। আপনি যদি হাজার খানের একটিভ ইমেইল ম্যানেজ করে  ফেলতে পারেন, তাহলেই খুব সহজে এখানে থেকে ভালো অঙ্কের একটি টাকা ইনকাম করে ফেলতে পারেন। বর্তমানে অ্যামাজন এফিলিয়েশন প্রোগ্রাম (Amazon Affiliation Program) বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

১৫.অনলাইন রিসেলিং (Online Reselling) করে আয়

অনলাইনে পন্য বিক্রি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে বেশ বড় বড় কয়েকটি অনলাইন ব্যবসা রয়েছে। আপনি চাইলে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে বড় পর্যায়ে শুরু করতে হবে। আর এতে আপনার পুরো সময়টাই ব্যয় করতে হবে এবং সাথে সাথে আরও অনেক দিকে খেয়াল রাখতে হবে যেটা ছাত্রজীবনে করা একটি কষ্টকর হয়ে যায়।

সেক্ষেত্রে আপনি অনলাইন রিসেলিং (Online Reselling) করে বেশ ভালো ইনকাম করতে পারেন। অনলাইন রিসেলিং মুলত অনলাইনে পন্য বিক্রির কাজ কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে বেশি কিছু করা লাগবেনা। আপনি শুধু একটি রিসেলিং কোম্পানি (Reselling Company) তে আপনার একাউন্ট খুলবেন এবং এখান থেকে পন্যের ছবি এবং বিবরন নিয়ে আপনি নিজে একটা পেজ খুলে বিক্রি করবেন।

রিসেলিং কোম্পানির কাছে অনেক কম দামে পন্য পাবেন আর ওইগুলা তার থেকে সামান্য বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করে আপনি নিজের লাভ বের করবেন। বেশি কিছু রিসেলিং কোম্পানি (Reselling Company) বাংলাদেশে রয়েছে। এর মধ্যে শপআপ (ShopUp) অন্যতম।

এখানে আপনাকে পন্য বিক্রয় করার জন্য নিজের কোনো পন্য লাগবে না। পন্য যোগাড় থেকে শুরু করে বাকি সব কাজই ওই রিসেলার কোম্পানি করে দিবে।