অপমান হজম করবেন যেভাবে- How to Handle Insult
How to Handle Insult

অপমান হজম করবেন যেভাবে- How to Handle Insult

সবাইকে খুশি রাখা একটা মানুষের পক্ষে কখনও সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সুখী রাখার চিন্তা মাথাতে থাকলে তা সরিয়ে ফেলাটা বুদ্ধিমান বা বুদ্ধিমতীর কাজ। কেউ আপনাকে অকারণে আঘাত করছে তাতে করে নিজেকে হয়তো তুচ্ছ বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কেননা আপনি অন্যায় বা খারাপ কাজ করলেই আপনার শত্রু তৈরি হবে ব্যাপারটি এমন নয়। কে যে কোন কারণে কাকে অপছন্দ করে সেকথা বলা মুশকিল। তাই বুঝেশুনে চলুন।


১. শান্ত থাকুন। মনে রাখবেন, উত্তেজনা কোনো সমাধান নয়। শান্ত থাকাটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। আপনি যদি শান্ত না থাকেন, তাহলে আপনার আর অপর পক্ষের ভেতর কী পার্থক্য থাকল? মাথা ঠান্ডা রাখুন। বিশ্বাস করুন এর ফল আপনি পাবেন।

২.কিছু ব্যাপার দেখেও না দেখা। কেউ আপনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে, কিংবা অকারণেই ঝামেলা করার চেষ্টা করছে? তাদের এই আচরণগুলো দেখেও না দেখার ভান করুন। কেউ আপনাকে তখনই অপমান করতে পারবে যখন তার কৌশল বা চেষ্টা আপনি দেখবেন এবং প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। যা আপনি দেখতেই পান নি, সেই জিনিস কীভাবে আপনাকে আঘাত করবে? এমন ভাব করুন যেন তাদের অপমান করার চেষ্টা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না।

৩. অপর পক্ষ যা-ই বলুক না কেন, ইতিবাচকতা থেকে পিছু হটবেন না। কোনো কিছু নিয়ে অনুশোচনা করবেন না। অনুশোচনায় কেবল সময় নষ্ট হয়, নিজের হতাশা বাড়ে। অনুশোচনা কোনো সমাধান বয়ে আনে না। ইতিবাচক পরিবর্তনে বিশ্বাসী হোন। এমন কিছু করুন, যাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। যত দিন ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছেন, তত দিন আশা থাকবে।

৪. কথা দিয়ে জবাব দিতে যাবেন না। কাজে বিশ্বাসী হোন। কাজের মধ্য দিয়ে উত্তর দিন। অপর পক্ষ যাতে নিজেই অনুধাবন করতে পারেন যে তিনি ভুল ছিলেন। কথায় বলে, সফলতার চেয়ে বড় প্রতিশোধ আর নেই। আপনি প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সফলতার পেছনে ছুটবেন, বিষয়টা এমন নয়। বরং আপনি যদি সফল হন, সেটা তাঁদের জন্য একটা বার্তা হিসেবে পৌঁছাবে যে তাঁরা ভুল ছিলেন।

৫. ভালো কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ, উৎসাহী, ইতিবাচকতায় ভরপুর, কৃতজ্ঞ আর খোলা মনের মানুষদের আশপাশে থাকুন। এতে আপনার এ রকম কোনো পরিস্থিতিতে পড়তেই হবে না।

৬.সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। একজন ভালো মানুষ কখনো অন্যকে অপমান করার কথা চিন্তা করে না। এগুলো কেবল তারাই চিন্তা করে যাদের মন খুবই ছোট। তাই কেউ আপনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে বলে নিজেকে দোষী ভাববেন না, বা তার কোন কাজ ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। জানবেন যে সমস্যা তাদের।

৭. একান্তই যদি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে ওই স্থান পরিত্যাগ করুন। হাঁটুন, দৌড়ান, কারও সঙ্গে কথা বলুন। এমন কিছু করুন, যাতে আপনার শরীর ঘামে। এতে আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। কেননা, ঘামলে হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হয়।

৮.যিনি আপনাকে কটূক্তি করেছেন, আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, সমস্যাটা তাঁর। কেউ খারাপ ব্যবহার করলে সেখানে আপনার কোনো হাত নেই। এর দায় একান্তই অন্য পক্ষের। তাই কথাগুলো ‘ব্যক্তিগত’ভাবে নেবেন না। কোন কথা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, নির্ভর করে ওই ব্যক্তি কে, তিনি কী পরিস্থিতিতে কথাগুলো বলছেন, আর কোন উদ্দেশ্যে বলছেন—এই তিন প্রশ্নের উত্তরের ওপর।

৯.কেউ খারাপ ব্যবহার করলেই কি পাল্টা খারাপ ব্যবহার করতে হবে? আপনি তো তাদের মত নন, আর তাই তাদের মত আচরণও করবেন না। বরং সম্ভব হলে খুবই ভালো ব্যবহার করুন। এতে হয়তো তারা একটু হলেও লজ্জা পেতে পারেন আর অন্যায় চেষ্টা থেকে সরে আসার চেষ্টা করতে পারেন।

১০.অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিজের আছে। যারা আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে চায়, তাদেরকে আপনি ভালো বানাতে পারবেন না। কিন্তু নিজের আচরণ অবশ্যই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যত যাই হোক, উত্তেজিত হবেন না। মাথা খুবই ঠাণ্ডা রাখুন। তারা যেমন আচরণ করবে আপনার সাথে ঠিক তার বিপরীত আচরণ করুন।