মন্দার গাছ
কাঁটা মান্দার হল বৃক্ষ জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। বাংলাদেশে বেশ কয়েক প্রজাতির মান্দার গাছ দেখতে পাওয়া যায়। কাঁটা মান্দার গাছ পানিয়া মান্দার নামেও পরিচিত।
বৈজ্ঞানিক নাম: erythrina fusca
বিস্তৃতিঃ
বাংলাদেশে গাছটি বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও গঙ্গার নিম্ন এলাকায় বেশি দেখা যায়। দক্ষিণাঞ্চল ছাড়াও এটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি পরিচিত উদ্ভিদ।
ব্যবহারঃ
বাড়ির চারপাশে বেড়া দিতে, জ্বালানি কাঠ হিসেবে ও মাছের ঝাউ (পুকুর কিংবা নদীর অগভীর অংশে মাছ ধরার জন্য গাছের ডাল দিয়ে তৈরি আবাস) দেওয়ার কাজে এ গাছের ডাল ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও দেশলাই তৈরিতে এই গাছ ব্যবহৃত হয়।
বর্ণনাঃ
এটি নরম কাণ্ডবিশিষ্ট বৃক্ষ। অসংখ্য কালো বর্ণের কাঁটা দ্বারা কাণ্ড পরিবেষ্টিত। শাখা-প্রশাখা ফ্যাকাশে ধূসর। বাকল গভীরভাবে ফাটা। পাতা সবুজ রঙের। দীর্ঘদিন পর হলদে হয়ে ঝরে পড়ে। শাখার আগায় ফুলের মঞ্জরি হয় এবং একটি মঞ্জরিতে একাধিক ফুল থাকে। বসন্তের শুরুতে ফাল্গুন মাসে গাছে ফুল আসে। ফুল টকটকে লাল (সিঁদুরে রঙ) এবং উজ্জ্বল বর্ণের, ৩.৪—৪.৩ সেন্টিমিটার লম্বা। ফল পড, পাকলে বহিত্বক ফেটে বীজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বীজ কালো, বৃক্কাকার ও মসৃণ।কাঁটা মান্দারগাছের কোনোটির কাণ্ডের গায়ে ঘন ও প্রচুর কাঁটা থাকে, আবার কোনোটির কাণ্ডে কাঁটার পরিমাণ কম। ফাল্গুন মাসে গায়ের গো-শালিক পাখি বাসা তৈরির জন্য এ গাছটিকে বেছে নেয়। কাঁটার ভয়ে গায়ের দুষ্ট ছেলের দল গাছে উঠতে পারে না, পাখিরাও সে ব্যাপারটি আঁচ করতে পেরেছে।
মন্দার ফুল
বংশবিস্তারঃ
বীজের মাধ্যমে এই গাছের বংশবিস্তার হয়। এছাড়া কলমের মাধ্যমেও এর চারা তৈরি করা যায়। বুনো গাছ হওয়ার কারণে যত্ন করার প্রয়োজন হয় না। কাঁটা মান্দার স্বাদু পানি ও জোয়ার-ভাটা এলাকায় ভালো জন্মে। এরা জলের কাছের ঝোপঝাড়ে বেড়ে ওঠে এবং কেটে না ফেললে অনেক বছর বাঁচে।
মান্দার ফুলের চাটনী:
পাকা তেঁতুল, সরিষার তেল ও মান্দারের লাল ফুল চটকিয়ে এক প্রকার চাটনি তৈরি করা হয়, যা বরিশাল এলাকায় ‘তেঁতুল বানানি’ নামে পরিচিত। কাঁটা মান্দার ফুল গ্রামের কিশোর-কিশোরীদের কাছে অতি প্রিয়।
তথ্যসূত্র:উইকিপিডিয়া