কাটা খুরা গাছের উপকারিতা

পরিচিতি

গাছঃ কাটা খুরা নটে বর্ষজীবী গুল্ম শ্রেণীর উদ্ভিদ। সাধারণ ভাবে এর কান্ড এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। কান্ড শক্ত গাঁটযুক্ত এবং কাঁটায় ভরা থাকে।

পাতাঃ পাতার আকৃতি অনেকটা ছোট। পাতার আগার দিকটা ক্রমশঃ সরু।

ফুলঃ ফুলের রং ফিকে সবুজ, গুচ্ছবদ্ধঅবস্থায় থাকে। কাঁটাখুরা দেশের সর্বত্র পতিত স্থান ও পথের ধারে জন্মে। ফুল ও ফল সারা বছর হয়। কাণ্ড ও শিকড় বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। বীজ থেকে চারা হয়। ভারত, শ্রীলংকা ও বিভিন্ন উষ্ণ অঞ্চলে এ গাছ পাওয়া যায়।

বংশবিস্তারঃ বীজ থেকে বংশবিস্তার হয়ে থাকে। বীজের রং কালো তবে রং উজ্জ্বল হয়ে থাকে। বর্ষার শেষে গাছে ফুল ফোটে, আশ্বিন মাসে ফল ধরে। পতিত জমি ও ক্ষেতের আইলে নিজে থেকেই জন্মে থাকে। এমনকি শাক-সবজির ক্ষেতেও দু’চারটে কাঁটাখুরা দেখতে পাওয়া যায়। একে কাটিং এর মাধ্যমেও বংশ বিস্তার ঘটানো যায়।বাংলাদেশের সর্বত্র কাঁটাখুরা দেখা যায়।

পুষ্টিগুণঃ

কাঁটাখুরা শাকে পুস্টি উপাদানঃ কাঁটাখুরা উন্নত মানের পুস্টি রয়েছে। আহার উপযোগী কাঁটাখুরা শাকে রয়েছে-প্রোটিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি৬, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, থায়ামিন, রিভাফ্লাভিন, নিয়াসিন, খনিজ উপাদানের মধ্যে রয়েছে: ক্যালসিয়াম, আইরন, ম্যানেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম, আরও রয়েছে লাইসিন, ট্রিপটোফেন ইত্যাদি।

কাটা খুরা গাছের উপকারিতা

কাঁটানটে শাক হিসেবে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও গাছটি ভেষজ গুণে অনন্য। গ্রামের মানুষ অবশ্য এ গাছের বহুমাত্রিক ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞাত। এ গাছের পাতা, মূল বা সব অংশই বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। এ ছাড়া গনোরিয়া, অ্যাকজিমা, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ফোঁড়া, সাপের কামড় ও মাতৃদুগ্ধ স্বল্পতায় গাছটির শিকড় ও পাতা ব্যবহার্য।

১.গায়ে গুটি উঠলে গাছের মূল পাথরে ঘষে রস বের করে আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন ১ বার ৩ দিন লাগালে সেরে যাবে।

২.আট গ্রাম কাঁটাখুরা মূল এবং এক গ্রাম গোলমরিট, এ দুটোকে সামান্য পানি দিয়ে বেটে কপালে প্রলেপ দিলে মাথা ধরা সেরে যাবে।

৩.যারা মা হতে চলেছেন যারা ছোট শিশুর মা যারা সদ্য মা হয়েছেন সেসব মেয়েরাই কাঁটাখুরা শাক খেলে উপকার পাবেন । যাঁরা শরীরের দিক থেকে খুব দুর্ব্ল তাদেরও নির্ভয়ে খেতে দেওয়া যেতে পারে।

৪.তিন থেকে চার গ্রাম কাঁটাখুরার মূল এবং এক গ্রাম রসাঞ্জন। এ দুটিকে রোজ একবার করে খেলে পেটে যন্ত্রণার রোগী অব্শ্যই উপকার পাবেন।

৫.নারীদের ঋতুস্র্রাব মাস দুয়েক বন্ধ থাকলে পরিমাণ মতো গোলমরিচ, রসুনসহ শিকড় পাথরে ঘষে রস বের করে প্রতিদিন ২ বার ৪ চা-চামচ রস খাবারের আগে ১ সপ্তাহ খেলে উপকার হবে।

৬. গনোরিয়া রোগের জন্য কাঁটাখুরা টাটকা তুলে এনে তা সামান্য পানি দিয়ে শিলে বেটে তার সম্পূর্ণ্ রস আধা কাপ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে দেড় চা চামচ চিনি বা মিছরির গুড়া কিংবা সম পরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অব্যর্থ্ সুফল পাওয়া যায়।

৭.প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সারাতে গোড়াসহ গাছটির শিকড় মাটি থেকে তুলে ভালো করে পরিস্কার পানিতে ধুয়ে পিষে চাল-ধোয়া পানিতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ভিজিয়ে চিনি বা মিছরির সঙ্গে মিশিয়ে দৈনিক ৩ থেকে ৪ বার খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৮.যে সব মায়েরা বাচ্চাদের দুধ খাওয়ান তারও কাঁটাখুরা শাক ভাজা করে খেলে সুফল পাবেন কারণ নটে শাক স্তন্যদুগ্ধব।

৯.কাঁটাখুরা শাক ভাজা, কাঁটাখুরা শাকের রস বা পাতা পিষে নিয়ে খেলে রক্তপিত্ত সারে নাক মুখ থেকে রক্তপড়া বন্ধ হয়।

১০.যদি কোনো বৃদ্ধ যিনি কোষ্ঠকাঠিন্য ভূগছেন তিনি নিয়মিত শাক খান তাহলে তারা এই কষ্ট দূর হবে এবং শরীর ও পুষ্টি লাভ করবে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : শতমূলের উপকারিতা ও ঔষদি গুণ