কেয়া বা কেতকী
কেয়া ফল

কেয়া গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। কেয়া গাছ লম্বায় ১০-১২ ফুট হয়ে থাকে। এর কাণ্ড গোলাকার এবং কণ্টকময়। গাছের প্রধান কাণ্ড থেকে অনেক শাখা-প্রশাখা বের হয়। গাছগুলো প্রায় বক্র হয়। গাছের নিম্নদেশ থেকে মোটা শাখা পর্যন্ত বেশ কিছু মূল বের হয়ে মাটিতে ভিত্তি তৈরি করে। এগুলোকে ঠেসমূল বলা হয়। এই মুল গাছের কাণ্ডকে দৃঢ়ভাবে মাটির সাথে যুক্ত করে এবং গাছের ভারবহনে সহায়তা করে। এ গাছগুলো পরস্পরের সাথে জড়াজড়ি করে নিবিড় এবং দুর্গম পরিবেশ তৈরি করে।সমতলভূমি এলাকায় এদের দেখা গেলেও নোনা মাটিতে ভালো জন্মে।পাতার উভয় প্রান্তে করাতের মতো কাঁটা থাকে। পাতার অগ্রভাগ সরু। পাতাগুলোর অগ্রভাগ মাটির দিকে অবনত থাকে।

কেয়া একলিঙ্গীক গাছ। পুরুষ কেয়াকে বলা হয় সিত কেতকী এবং স্ত্রী কেয়াকে স্বর্ণ কেতকী বা হেম কেতকী। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কেয়া ফুল ফোটে। এই কারণে বাংলাদেশে কেয়াকে বর্ষার ফুল বলা হয়। এর ফুলের রঙ সাদা এবং গন্ধ গভীর ও মাদকতাপূর্ণ। কেয়া ফুল দ্বিবাসী বা ভিন্নবাসী।মানে পুরুষ ফুল স্ত্রীফুল ভিন্ন গাছে ফুটে থাকে। পুরুষ ফুলের গন্ধ উগ্র।এই গাছের ফুল থেকে সুগন্ধী তেল তৈরি করা হয় যা কেওড়া তেল নামে অবিহিত এবং বাস্পীভবন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় কেওড়ার জল।


স্ত্রী ফুলের গাছেই দেখা যায় ফল।আশ্বিন কার্তিক মাসে গুচ্ছাকার ফল হয়। এই ফলের গাত্র বেশ শক্ত হয়। দূর থেকে এই গুচ্ছ ফলকে আনারসের মতো মনে হয়। এর রঙও আনারসের মতো লালচে হয়ে থাকে। কেয়া ফল ১৫-১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা। ফল কমলা, পীত বা ধুসর হয়। অনেকে এই ফল খায়। কেতকী তিতা স্বাদের।

কেয়ার উপকারিতাঃ

কেয়া পাতার রস বসন্ত, ব্রণ, কুষ্ঠ, ডায়াবেটিস রোগে উপকারী। ফুলের তেল পেট ব্যথা কমাতে সহাযতা করে। নানান রান্নায় কেওড়ার ফুলের জল ব্যবহূত হয়ে থাকে। এ ছাড়াও কেয়ার কাণ্ড, পুষ্পদণ্ড, দণ্ড, বীজ ও ঝুরি নানান ওষুধে কাজে লাগে। বিশেষত বিষাক্ত পোকার কামড় ও খুশকি কমাতে কেয়া বেশ উপকারী।

চাল কুমড়ার উপকারিতা
শরিফা ফলের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
ত্বকের উজ্জ্বলতার উপায়
পুরুষদের জন্য সেরা ১০টি পারফিউম
থানকুনি পাতার উপকারিতা
কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
কাঁচা কলার উপকারিতা
শীতে দাড়ির যত্নে যা করবেন - What to do in winter beard care
কেওড়া ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায় - Ways to reduce electricity bills