কফির উপকারিতা ও অপকারিতা - Advantages and disadvantages of coffee
coffee

কফির উপকারিতা ও অপকারিতা

শরীরের পক্ষে কফি ভালো। ক্যাফেইনের অনেক উপকারিতা রয়েছে। কিন্তু খালি পেটে কফি শরীরের পক্ষে মারাত্মক। আর তা যদি হয় ব্ল্যাক কফি, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুন বেড়ে যায়।

ঘুম থেকে উঠে সরাসরি কফি পান করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। শুধু তাই নয়, রাতভর শরীরে নানা রকম প্রক্রিয়া চলার কারণে পাকস্থলিতে অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ হয়। এই অবস্থায় খালিপেটে কফি পড়লে গা গুলোনো ও বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই দিনের যে সব সময় দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে, তখন কফি পান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অর্থাত্‍ সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত কফি খাওয়ার আদর্শ সময়। তবে লাঞ্চ বা ডিনারের পর কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

কফির উপকারিতা

এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ রিবোফ্লাভিন (ভিটামিন বি১২), ৬ শতাংশ প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি-৫), ৩ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ ও পটাশিয়াম, ২ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম ও নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩) থাকে।

চর্বি কমায়

ক্যাফেইন প্রায় ৩ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত আমাদের মেটাবোলিক রেট বা বিপাকের গতি বাড়ায়। এটি আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে যা চর্বি ভাঙতে উৎসাহ জাগায়। একইসঙ্গে এটি আমাদের রক্তের এপিফ্রাইন বাড়াতে সাহায্য করে। এই হরমোন আমাদের শারীরিক পরিশ্রম করতে উদ্দীপনা জাগায়।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

কফি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। ফলে এটি আলঝেইমার্সের মতো স্মৃতিবিলোপকারী রোগ প্রতিরোধ করে। সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি কফি পানেও উপকার পাওয়া যাবে।

যকৃৎ সুরক্ষায় কার্যকর

যকৃতের সুস্থতায় বিশেষ ভূমিকা রাখে কফি। প্রতিদিন অন্তত তিন কাপ কফি সিরোসিস আর ক্যানসার থেকে রক্ষা করে। কফিতে রয়েছে নানা ধরনের অন্তত শতাধিক রাসায়নিক যৌগ। এ নিয়ে চলছে আরও গবেষণা।

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

আগে মনে করা হতো হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে কফির শত্রুতা আছে। সবাই বলতো ক্যাফেইন হার্টের ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, ক্যাফেইন হৃৎপিণ্ডের উপকারই করে বেশি। প্রতিদিন তিন কাপ কফি পানে রক্তনালীতে ক্যালসিয়াম তৈরি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে হৃৎপিণ্ডের রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট

গবেষণায় দেখা গেছে কফিতে ফল ও শাকসবজির তুলনায় বেশি অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট রয়েছে। মানুষের শরীরের কোষের ক্ষতি করে ফ্রি র‌্যাডিক্যালস। কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ধ্বংস করে। শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে কিংবা স্থিতিশীল রাখতেও ভূমিকা রাখে কফি।

বিষণ্নতা কমায়

২ লাখ ৮ হাজার ৪২৪ জনের ওপর একবার একটি গবেষণায় হয়েছিল। দেখা গেছে যারা দিনে ৪ কাপ বা এর বেশি কফি পান করেছে তাদের মধ্যে বিষণ্ণতায় ভুগে আত্মহত্যার প্রবণতা ৫৩ শতাংশ কম দেখা গেছে।

ঠেকাবে পারকিনসন্স ও আলঝেইমারস

নিয়মিত কফি পানে মস্তিষ্কের রোগ পারকিনসন্স ও আলঝেইমারসের ঝুঁকি কমে। এ রোগে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ নষ্ট হতে থাকে। ক্রমে অসাড় হতে থাকে শরীর। গবেষণা বলছে, পারকিনসন্সের প্রাথমিক উপসর্গ দূর করতে বিশেষ কার্যকর ক্যাফেইন। তাই কফি মস্কিষ্ককে এই রোগের আক্রমণ রুখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আলঝেইমার্সের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

শরীরের কোন অংশে অনিয়ন্ত্রিত কোষের বৃদ্ধিকেই ক্যানসার বলে। বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার। আর সব ক্যানসারের মধ্যে লিভার ক্যানসার মারা যাওয়ার দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আর কলোরেক্টাল ক্যানসার আছে চতুর্থ অবস্থানে। লিভার ও কলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় কফি। স্তন ও প্রস্টেট ক্যানসার ঠেকাতে কফি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এমনকি ডিম্বাশয় ও পাকস্থলীর ক্যানসার প্রতিরোধ করে থাকে।

কর্মক্ষমতা বাড়ায়

কফির ক্যাফেইন মানুষের মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাডেনোসাইনকে ব্লক করে। ফলে নোরপাইনফ্রাইন ও ডোপামিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। যা নিউরনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। কফি পান করলে এই ক্যাফেইন রক্তে মিশে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যা আমাদের মেজাজের উন্নতিতেও সাহায্য করে। এ সব কারণে কফি খেলে আপনি তুলনামূলক কম ক্লান্ত অনুভব করবেন।

কফির অপকারিতা

হৃদয়ের জন্য ভালো নয়

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ক্যাফেইন হৃদপিণ্ডের রক্তসরবরাহকরী ধমনীতে রক্ত চলাচল ধীর করে দেয়। বিশেষ করে যখন বেশি দরকার, যেমন: ব্যায়ামের সময়। তাছাড়া বুকধড়ফড়ানি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা উচ্চ রক্তচাপের জন্যেও শরীরের অতিরিক্ত ক্যাফেইন দায়ী।

ঘুমের ব্যঘাত

এক কথা অনেকেই জানেন, চা বা কফি খেলে ঘুম কম হয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা দিনে তিন কাপের বেশি কফি পান করেন তাদের শান্তির ঘুম খুব কমই হয়। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কফি খান না তাদের থেকে কফি পানকারীদের ৭৯ মিনিট কম ঘুম হয়। তাই ঘুমের সমস্যা থাকলে কফিকে না বলুন।

চিনির সঙ্গে আত্মিয়

যদিও অনেকে চিনি ছাড়া কফি পান করেন। তবে কফির সঙ্গে কেক, বিস্কুট বা সকালের নাস্তার অনেক পদেই থাকে চিনি। সবমিলিয়ে দেখা যায়, সারা দিনে হয়তো ১১ টেবিল-চামচ চিনি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। তাই যারা ওজন কমানোর চেষ্টায় আছেন, তাদের চেষ্টা তখন বিফলে যাবে।

মেজাজের জন্য খারাপ

ক্যাফেইন শরীরের অ্যাড্রেনালিন নামক একধরনের হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। যে কারণে শরীরের টানটান উত্তেজনা বা ঘাবড়িয়ে যাওয়ার অনুভুতির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

সন্তান ধারণে অক্ষমতা

দৈনিক পাঁচ কাপের বেশি কফি খেলে গর্ভধারণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। যদি মা হতে চান, তবে অবশ্যই কফি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। আর গর্ভধারেণের পর কফি বাদ দিন। কারণ দৈনিক ২০০ মি.গ্রাম ক্যাফেইন শরীরে গেলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি জন্মক্রটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।