স্নেক আইল্যান্ড (সাপের দ্বীপ)
snake island brazil

স্নেক আইল্যান্ড (সাপের দ্বীপ)

এক মাইল কিংবা দুই মাইল নয়, দীর্ঘ ২০ মাইল দীর্ঘ এক দ্বীপ। আর পুরোটা দ্বীপ জুড়ে কেবল সাপ আর সাপ। চার হাজার সাপের বিশাল একদল রাজ্য গড়ে তুলেছে এই দ্বীপে। সেখানে মানুষ নেই, নেই বসতি। দ্বীপের একপাশ থেকে আরেক পাশ পর্যন্ত একই প্রজাতির সাপের বিচরণ। তাই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে সাপের দ্বীপ। যদিও এই দ্বীপের কেতাবি নাম 'লা দ্য কুইমাদা গ্রানাদে'।

স্নেক আইল্যান্ড কি? 

আমাজন সংলগ্ন দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল। ব্রাজিলের সাও পাওলোর উপকূল থেকে ২১ মাইল দূরের এই দ্বীপ পৃথিবীর ভয়ংকর দ্বীপগুলোর একটি। এটি প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটারের একটি ছোট দ্বীপ। যার নাম ইহা ডি কুইমাডা গ্রান্ডি।

পর্তুগীজ শব্দ ‘কুইমাডা’র অর্থ ‘পুড়িয়ে ফেলা’। স্থানীয়রা একসময় এই দ্বীপে ফলের চাষ করতে জমি পরিষ্কার করার জন্য রেইনফরেস্টের কিছু অংশ পুড়িয়ে ফেলে। আর এ কারণেই দ্বীপটির এমন নামকরণ করা হয়।

১১০ একরের এই দ্বীপের প্রায় ৬২ একর রেইনফরেস্টে ঢাকা। এর বাকি অংশে রয়েছে বিভিন্ন ছোট বড় পাথর ও বিস্তৃত তৃণভূমি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দ্বীপটির উচ্চতা প্রায় ২০৬ মিটার বা ৬৭৬ ফুট। এর পার্শ্ববর্তী দ্বীপ নিমারের মত স্নেক আইল্যান্ডের জলবায়ুও নাতিশীতোষ্ণ।

কোথায় স্নেক আইল্যান্ড?

ইলহা দ্য কুইমাডা গ্রান্ডে (Ilha da Queimada Grande) যা স্নেক আইল্যান্ড (Snake Island)নামে পৃথিবীতে পরিচিত। একটি ছোট দ্বীপ যা ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটি সাও পাওলো রাজ্যের অংশ এবং নিজের রেইনফরেস্টের জন্য পরিচিত।

স্নেক আইল্যান্ডটি ব্রাজিলের সাও পাওলোর মূল ভূখণ্ডের সমুদ্রতট থেকে প্রায় কুড়ি মাইল দূরে অবস্থিত। এত দূরে থাকায়, তাই সাপগুলি সমুদ্রের প্রবল ঢেউ উপেক্ষা করে সাঁতরে দ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।

কেন এই দ্বীপ নিষিদ্ধ?

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও স্নেক আইল্যান্ড শীর্ষ পর্যটক স্থানগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারেনি। দ্বীপের প্রতি বর্গ মিটারে একটি সাপ থাকা মানে দ্বীপে নেমে কয়েক পা ফেলতেই এই বিষাক্ত সাপের মুখোমুখি হওয়া।

গোল্ডেন লাঞ্চহেড সাপের বিষের তীব্রতা এত বেশি যে এক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় মানুষ। তাই দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য বেশ বিপদজনক।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এ দ্বীপে যারা বিভিন্ন কারণে পদার্পণ করেছে তাদের কেউই আর ফিরে আসেনি। রহস্যময় এই দ্বীপটি নিয়ে অনেক রকমের গল্পও শোনা যায়। এর মধ্যে কিছু সত্য আবার কিছু মিথ্যা গল্পও রয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকে বিশ্বাস করে এই দ্বীপে জলদস্যুরা তাদের সম্পদ গচ্ছিত রেখেছে। আর তাদের এ সম্পদের পাহারায় নিয়োজিত আছে এই সাপগুলো। আবার প্রচলিত আছে, একবার এক জেলে দুর্ভাগ্যবশত এই দ্বীপে আটকে পড়ে। পরের দিন ওই জেলেকে খুঁজতে গিয়ে নৌকায় তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

১৯০৯ সালে জাহাজের যাতায়াতের সুবিধার জন্য এই দ্বীপে একটি লাইট হাউস তৈরি করা হয়। সে সময় লাইট হাউসের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্রাজিলিয়ান নেভির একজন অফিসার তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এই দ্বীপে ছিলেন।

কিন্তু পরবর্তীতে ওই পরিবারের সবাই সাপের কামড়ে মারা যায়। কয়েকদিন পর নেভির অফিসাররা এসে তাদের মৃত অবস্থায় পান। এরপর থেকে লাইট হাউসে অটোমেটিক সিগনালের ব্যবস্থা করা হয়।

গোল্ডেন লাঞ্চহেড ভাইপার

গোল্ডেন লাঞ্চহেড পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপ হিসেবে স্বীকৃত। গোল্ডেন লাঞ্চহেড সারা পৃথিবীতে কেবল স্নেক আইল্যান্ডেই পাওয়া যায়। ব্রাজিলিয়ানরা এদের বলে ফার ডি ল্যান্স। অত্যন্ত বিষাক্ত এই সাপটি পিট ভাইপার প্রজাতির।

এর আরেক নাম বোথরোপস আইসুলারিস। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় জানা যায়, স্নেক আইল্যান্ডে ২০০০ থেকে ৪০০০ এর মত গোল্ডেন লাঞ্চহেড রয়েছে।

এরা লম্বায় প্রায় ১-২ মিটার অর্থাৎ প্রায় ৩ ফুট থেকে সাড়ে ৬ ফুট হয়ে থাকে। এদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল হলুদাভ ও বাদামী বর্ণের। এরা গড়ে প্রায় ২৮ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। তবে সর্বোচ্চ ৪৬ ইঞ্চি লম্বা সাপ ও দেখা যায় এই দ্বীপে।

লাঞ্চহেড নামটি এসেছে সাপের মাথার আকৃতি থেকে যা অন্য বথরোপস প্রজাতি থেকে আলাদা। এদের মাথা কিছুটা তীক্ষ্ণ আকৃতির। তাই এদের লাঞ্চহেড ভাইপার নামেও ডাকা হয়।