গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া - Frequent urination during pregnancy
Frequent urination during pregnancy

গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাব কেন হয় এবং করণীয় কি - Why frequent urination during pregnancy and what to do

অনেকেরই গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা হয়। খুব বিরক্তিকর হলেও ঘন ঘন প্রস্রাব করা গর্ভাবস্থার কমন একটি লক্ষণ। গর্ভাবস্থায় সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রস্রাবের হারও কমবেশি হতে দেখা যায়।গর্ভাবস্থায় যেসব সাধারন সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম হলো ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ। গর্ভাবস্থার একেবারে শুরু থেকেই এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হয় এবং প্রস্রাবের থলিতে বাড়তি চাপ প্রয়োগ করে। এ কারণে প্রস্রাবের থলি পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়। সে কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ জন্য দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

গর্ভাবস্থায় কখন থেকে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া শুরু হয়?

গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা শুরু হতে পারে। পরবর্তীতে গর্ভাবস্থার মাঝের তিন মাসে প্রস্রাব হওয়ার মাত্রা অন্যান্য মাসগুলোর তুলনায় কিছুটা কমেও যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসের দিকে আবারও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার হার আগের থেকে প্রায় অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

মাঝেমধ্যে প্রস্রাবের পরিমাণ অনেক কম হলেও বারবার বেগ আসার কারণে বাথরুমে যাওয়া লাগে। কখনো কখনো হাঁচি-কাশি দিলে অথবা জোরে হাসলে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে সামান্য প্রস্রাব বেরিয়ে আসতে পারে। আবার ব্যায়ামের কিংবা ভারী কিছু তোলার সময়েও এমন হতে পারে। তবে সাধারণত সন্তান প্রসবের পরে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যায়।

গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাব কেন হয়?

গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে—

১.গর্ভাবস্থার প্রথম কিছু সপ্তাহে শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের কারণে কিডনির প্রস্রাব তৈরি করার ক্ষমতা অনেকখানি বেড়ে যায়। ফলে কিডনি আরও বেশি করে প্রস্রাব তৈরির কাজ করে।

২. গর্ভে শিশুর অবস্থানের কারণেও প্রস্রাবের বেগ আগের থেকে বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষের দিকে শিশু আগের চেয়ে অনেকটা বড় হয়ে যায়। সেসময়ে তার মাথা মূত্রথলিতে চাপ দেওয়া শুরু করে। ফলে গর্ভধারণের শেষ তিন মাসেও ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থাকতে পারে।

৩. এ ছাড়াও গর্ভাবস্থার প্রথম কিছু সপ্তাহে শিশু তলপেটের নিচের দিকে মূত্রথলির পেছনে থাকে। একারণে মূত্রথলীতে চাপ লেগে প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। আবার গর্ভাবস্থার মাঝের তিন মাসে শিশু তলপেটের ওপরের দিকে চলে আসে। এজন্য তখন প্রস্রাবের বেগ কিছুটা কমে যেতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে এসবের পক্ষে এখনো তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।[৪]

৪. এ ছাড়াও এসময়ে গর্ভবতী নারীদের পা ও গোড়ালিতে পানি জমে যায়। রাতের বেলা কাত হয়ে শুলে শরীর সেখান থেকে পানি শুষে নিতে থাকে। এটিও রাতে বার বার প্রস্রাব হওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

এই সমস্যার সমাধানের উপায় আছে কি?

সত্যিকার অর্থে এ সমস্যা নিরাময়ের কোন উপায় নেই! আমরাও ভাবি, থাকলে ভালোই হতো। কিন্তু তাই বলে আপনি পানি খাওয়া কমিয়ে দেবেন না যেন। দিনে আপনাকে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পরিমান তরল শরীরে নিতেই হবে, আর এর বেশিরভাগটাই হতে হবে পানি। তরলের মাত্রা কমিয়ে দিলে আপনার পানিশূন্যতা হতে পারে। আপনার বাচ্চা যাতে ঠিকমতো পুষ্টি পায় সেজন্য আপনাকে প্রচুর পানি খেতেই হবে।

রাতে বার বার টয়লেটে যাওয়া কমাতে আপনি হয়তো শোবার দুই-এক ঘণ্টা আগে থেকে অল্প করে পানি খেতে পারেন। চা, কফি খাওয়া বন্ধ রাখতে পারেন কারণ এগুলো প্রস্রাবের উৎপাদন বাড়ায়। প্রস্রাব করার সময় ব্লাডার বা মুত্রথলী পুরোপুরি খালি করার চেষ্টা করুন। প্রস্রাব করার সময় সামনের দিকে ঝুকে থাকুন এতে ব্লাডার পুরোপুরি খালি হতে সাহায্য করবে। কখন প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। প্রস্রাব চেপে রাখলে পেলভিক ফ্লোর পেশী আরও বেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে আপনি যাই করুন না কেন, রাতে আপনার প্রস্রাবের পরিমান বেড়ে যেতে পারে কারণ আমাদের পায়ে যে পানি থাকে, যখন আমরা শুয়ে থাকি তা সহজেই রক্তে মিশে যায় এবং ব্লাডারে ফেরত আসে।

তথ্যসূত্র : myfairylandbd

shohay.health