মোটা হওয়ার সহজ উপায় - Easy way to get fat
Easy way to get fat

ওজন বাড়ানোর সহজ উপায়

অতিরিক্ত ওজন যেমন বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়, তেমনি স্বাভাবিকের চেয়ে ওজন কম হলে সেটিও শঙ্কার কারণ হতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস মানা ও নিয়মিত ব্যায়াম করা ওজন বাড়ানোর জন্য আবশ্যক। চিকন শরীর নিয়ে অনেকেই সমস্যাতে আছেন। সবাই চায় তার শারীরিক গঠন আকর্ষণীয় হোক। ওজন বাড়িয়ে সুগঠিত শরীর পাবার আশায় যদি সত্যিই যদি নিজেকে নিয়জিত করে থাকেন, তাহলে আপনার উপকারে আসবে এই টিপস গুলো।

ওজন কম হওয়ার কারণ

বিভিন্ন কারণে ওজন কম হতে পারে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, জেনেটিক কারণ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, ডায়রিয়া, ক্যান্সার, ডায়বেটিস, এইডস, হাইপারথাইরয়েডিজম, আর্থ্রাইটিস, যক্ষ্মা, কিডনির সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যা, ড্রাগ নেওয়া ইত্যাদি। এছাড়া বয়সের জন্যও ওজন কমবেশি হয়ে থাকে। ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এইদিকগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।

মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি

আপনার ওজন যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কমে যেতে থাকে তবে প্রথম তো একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি জটিল কোন রোগে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে নিচের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নেই মোটা হওয়ার সহজ উপায় গুলো।

১.সুষম খাদ্য

মোটা হবার জন্য নির্দিষ্ট দুয়েকটি গ্রুপের খাদ্য মানে কার্বোহাইড্রেট বা চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খান অনেকে। তাতে শরীরের ক্ষতি হয়। বরং সব খাদ্য উপাদান রয়েছে এমন খাবার খেতে হবে। এজন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন, চর্বি, দুধ ও দুধজাতীয় খাবার এবং খনিজ উপাদান-সমৃদ্ধ ফলমূল রাখুন খাদ্য তালিকায়। সাথে প্রচুর পানি পান করতে হবে। সাধারণ নিয়ম হচ্ছে একজন মানুষের উচ্চতার অর্ধেক লিটারে পরিমাপ করে পানি পান করতে হবে।


২.স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন

যে কোনো শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার পূর্ব শর্ত হলো স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ জীবন যাপন করা। অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থেকে যত ভালো খাবার খাওয়া হোক না কেন শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে কোন উন্নতি হবে না। সুতরাং যথাসম্ভব চেষ্টা করুন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশের থাকার।


৩.প্রচুর ফল খান

ফল পুষ্টিকর খাবার। কেননা এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ফল এবং ফলরে রস খান। ফলের তৈরি বিভিন্ন সিরাপ, গাম, জ্যাম, জ্যালি এগুলো বেশি বেশি করে খান। এতে যথেষ্ট পরিমাণে ফ্যাট আছে যা আপনার স্বাস্থ্য মোটা করবে।


৪.ব্যায়াম করুন

অনেকে ভাবেন ওজন কমানোর জন্য মানুষ ব্যায়াম করবে। কিন্তু পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ওজন কমাতে যেমন ব্যায়াম প্রয়োজন, ঠিক তেমনি ওজন বাড়াতেও ব্যায়াম করা দরকার। প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করলে ক্ষুধা বাড়বে, হজম প্রক্রিয়া ভালো হবে এবং ঘুম ভালো হবে।

এজন্য জিমে যেতে পারেন, চাইলে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন, কিংবা ইয়োগা, সাইক্লিং বা সাঁতারও কাটতে পারেন। শারীরিক কসরতের সাথে মানসিক প্রশান্তির জন্য ইয়োগা করতে পারেন।


৫.সময়মত খাবার খান

খাবারের সময় ঠিক রাখুন। অর্থাৎ সকালের নাস্তা সময়ের অভাবে খেতে পারলেন না, দুপুরে খেতে ইচ্ছে করলো না, কিংবা রাতে একেকদিনে একেক সময়ে খাবার খাচ্ছেন, এসব সুস্থ শরীরের জন্য একেবারেই অনুচিত।

ফলে ওজন বাড়াতে চাইলে বা কমাতে চাইলে এই নিয়ম সবার জন্যই এক। তা হচ্ছে সময়মত খেতে হবে। বড় কোন অসুবিধা না থাকলে প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা।


৬.কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ

যারা ওজন কমাতে চায় তাদের সব সময় কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহন করতে বারণ করা হয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বোহাইড্রেট এর প্রধান উৎস হলো ভাত এবং রুটি। তাই খাবারের তালিকায় প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার উচ্চ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। 


৭.পর্যাপ্ত ঘুমান

শরীরকে যথাযথ কাজ করানোর অবস্থায় সুস্থ রাখার জন্য ঘুম খুবই প্রয়োজন। ওজন বাড়ানোর জন্যও একথা সত্য। প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা অবশ্যই ঘুমাতে হবে। ঘুম এর থেকে কম হওয়া যাবে না। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে যাওয়া খাবার ঠিকমত হজম হবে না, এবং শরীরে পুষ্টির যোগান ঠিকমত হবে না।

ঘুম যাতে পর্যাপ্ত হয়, সেজন্য সময়মত ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমানোর আগে একটু হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস করা যেতে পারে।


৮.বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ করুন

অনেক সময় আমাদের বাজে অভ্যাসের কারণে শরীরের ওজন কমে যায়।  যেমন অতিরিক্ত পরিমাণে স্বপ্নদোষ, হস্তমৈথুন, পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তির এবং যৌনাসক্ত মনোভাবের কারণে আমাদের ওজন কমে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে।  সুতরাং এই ব্যাপারগুলোতে আমাদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরী।