পাইলসের কার্যকরী ঘরোয়া সমাধান
An effective home remedy for piles

পাইলসের কার্যকরী ঘরোয়া সমাধান

পাইলস (Hemorrhoids) কি?

পাইলস হলো পায়ুপথ বা মলদ্বারের একটি রোগ যাকে মেডিকেলের ভাষায় Hemorrhoids বলা হয়।‌ এই রোগটি অর্শরোগ নামেও প্রচলিত। মূলত পায়ুপথের রক্তনালীতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে অথবা দীর্ঘদিনের কোষ্টকাঠিন্যের ফলে পায়ুপথের রক্তনালী (Veins) ফুলে গিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। সাধারণত রক্তনালী ফুলে গিয়ে এক বা একাধিক নরম গোটা (আঙুরের মত) হয়ে থাকে যা পায়ুপথের ভিতরে অথবা বাইরে অবস্থান করতে পারে।

পাইলস (Hemorrhoids) কত ধরনের হয়?

অবস্থানের উপর ভিত্তি করে পাইলস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন:

অভ্যন্তরীণ (Internal hemorrhoids): এই ধরনের পাইলস পায়ুপথের ভিতরে হয়ে থাকে এবং সাধারণত বাইরে থেকে হাত দিয়ে অনুভব করা যায় না।

বাহ্যিক (External hemorrhoids): এই ধরনের পাইলস সবচেয়ে বেশি হারে হতে দেখা যায় যা পায়ুপথের বাইরে আঙুরের থোকার মত ঝুলে থাকে।

পাইলস এর লক্ষণ

পাইলস বা অর্শ রোগের অন্যতম চারটি লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো। এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।

১. পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া

পাইলস হলে পায়খানার সাথে উজ্জ্বল লাল বর্ণের অর্থাৎ তাজা রক্ত যেতে পারে। সাধারণত পায়খানার পরে টয়লেট পেপার ব্যবহার করলে সেখানে রক্তের ফোটা লেগে থাকতে পারে। অথবা কমোডে বা প্যানের গায়ে টকটকে লাল রক্তের ছোপ দেখা যেতে পারে।। পাইলস হলে পায়ুপথের মুখে থাকা অ্যানাল কুশনগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয়। এই রক্ত বেরিয়ে গিয়ে জমাট বাধার সুযোগ পায় না। এ কারণে এক্ষেত্রে তাজা লাল রঙের রক্ত দেখা যায়।

কিন্তু যদি কোনো কারণে পায়খানার সাথে গাঢ় খয়েরী রঙের রক্ত যায়, বা আলকাতরার মতো কালো ও নরম পায়খানা হয়, তবে তা সাধারণত পাইলস এর কারণে নয়। পরিপাকতন্ত্রের কোনো অংশে রক্তপাতের কারণে পায়খানার সাথে এমন গাঢ় রক্ত যেতে পারে, তাই এমনটা হলে রক্তপাতের কারণ জানার জন্য দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

২. পায়ুপথের মুখের অংশগুলো বেরিয়ে আসা

পাইল হলে সাধারণত মলত্যাগের পরে অ্যানাল কুশনগুলো নরম গোটার মতো বের হয়ে আসে। এগুলো কিছু সময় পর নিজে নিজেই ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে এগুলো আঙ্গুল দিয়ে ভেতরে ঢোকানোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে পাইলস এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে আঙ্গুল দিয়েও গোটাগুলো ভেতরে ঢোকানো যায় না।

৩. পায়খানার রাস্তায় ব্যথা হওয়া

পাইলস রোগে সাধারণত তীব্র ব্যথা হয় না। তবে যদি পায়ুপথের গোটা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে সেগুলো আঙুল দিয়ে ঠেলেও ভেতরে ঢোকানো না যায়, এবং সেগুলোতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে অনেক সময় তীক্ষ্ণ বা তীব্র ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত ১-২ দিন স্থায়ী হয়। ব্যথা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে ঘরোয়া উপায়ে ব্যথার চিকিৎসা করা যায়।

৪. পায়খানার রাস্তায় চুলকানি

পাইলস হলে কখনো কখনো পায়ুপথে বা এর মুখের আশেপাশে চুলকানি হতে পারে। এছাড়া পায়ুপথ দিয়ে মিউকাস বা শ্লেষ্মা-জাতীয় পিচ্ছিল ও আঠালো পদার্থ বের হতে পারে। অনেক সময় মলত্যাগ করে ফেলার পরও বারবার মনে হতে পারে যে পেট পরিষ্কার হয় নি, আবার মলত্যাগ করা প্রয়োজন।

পাইলস এর চিকিৎসা

লক্ষণ ও জটিলতার উপর ভিত্তি করে পাইলসের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভিন্নতর হয়ে থাকে। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যার ক্ষেত্রে জীবন যাপন পদ্ধতির পরিবর্তন ও কতিপয় ঘরোয়া উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে সুস্থ থাকা যায়।

পাইলসের কার্যকরী ঘরোয়া সমাধান

অর্শরোগ বা পাইলস (হেমোরয়েড) খুব পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। বৃহদান্ত্রের শেষাংশে রেকটামের ভিতরে ও বাইরে থাকা কুশনের মতো একটি রক্তশিরার জালিকা। যা প্রয়োজন সাপেক্ষে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এর নাম হেমোরয়েড বা পাইল। যখন পায়ুপথের এসব শিরার সংক্রমণ এবং প্রদাহ হয়, চাপ পড়ে তখন হেমোরয়েড বা পাইলসে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। যাকে সাধারণ কথায় অর্শরোগ বা পাইলস বলা হয়। মলদ্বারে যন্ত্রণা, রক্ত পড়া, মলদ্বার ফুলে ওঠা, জ্বালা করা ইত্যাদি অর্শ্বরোগের সাধারণ উপসর্গ।

ফাইবারযুক্ত খাবারের অভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলতা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকার অভ্যাস ইত্যাদি কারণে এই রোগ শরীরে বাড়তে থাকে। তবে কিছু ঘরোয়া উপায়েও এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। জেনে নিন সেই উপায়গুলো সম্পর্কে

১.র‌্যাডিশ জুস

র‌্যাডিশ হল মূলা ঘরানার একটি সবজি। এই সবজি পাইলসের সমস্যায় অত্যন্ত উপকারি। এই সবজির রস খেলে উপকার পাবেন। প্রথমে ১/৪ কাপ দিয়ে শুরু করুন। তারপর পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়িয়ে ১/২ কাপে নিয়ে আসুন।


২.বরফ

ঘরোয়া উপায়ে অর্শ নিরাময় করার অন্যতম উপাদান বরফ। বরফ রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং ব্যথা দূর করে দেয়। একটি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ পেঁচিয়ে ব্যথার স্থানে ১০ মিনিট রাখুন। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার বরফ ব্যবহার করলে ভাল ফল পাবেন।


৩.বেদানা

বেদানার দানা ভালো করে ফোটান। যতক্ষণ না বেদানার দানা ও পানির রং বদলাচ্ছে ততক্ষণ ক্রমাগত ফুটিয়ে যান। এই পানি ছেঁকে রেখে দিন। দিনে দুবার করে এই পানি খান।


৪.অ্যালোভেরা

বাহ্যিক (এক্সটারনাল) অর্শরোগের জন্য আক্রান্ত স্থানে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। এটি দ্রুত ব্যথা কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে। আভ্যন্তরীণ অর্শরোগের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা পাতার কাঁটার অংশ কেটে জেল অংশটুকু একটি প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এ বার এই ঠান্ডা অ্যালোভেরা জেলের টুকরো ক্ষত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এটি জ্বালা, ব্যথা, চুলকানি কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে।


৫.ডুমুর

শুকনো ডুমুর এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে এই অর্ধেক পানি খেয়ে নিন। আবার বিকেলের দিকে বাকি অর্ধেক পানি খেয়ে নিন।


৬.আদালেবুর রস

ডিহাইড্রেশনও পাইলসের অন্যতম কারণ। আদা ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে তাতে ১ চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে নিন। দিনে দুবার করে এই মিশ্রণটি খান। এতে শরীর হাইড্রেট হবে এবং পাইলসের সমস্যাও কমবে।


৭.কাঁচা পেঁয়াজ

পাইলসের কারণ যে মলদ্বার থেকে রক্ত পরার সমস্যা তৈরি হয়, কাঁচা পেঁয়াজে সে সমস্যা অনেকটাই কমে। অন্ত্রের যন্ত্রণা প্রশমিত করতেও সাহায্য করে।


৮.অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

একটি তুলোর বলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে ব্যথার স্থানে লাগান। শুরুতে এটি জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর এই জ্বালাপোড়া কমে যাবে। এটি পদ্ধতিটিও দিনে বেশ কয়েকবার অবলম্বন করুন। অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) অর্শরোগের জন্য এক চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এক গ্লাস জলে মিশিয়ে দিনে দু’বার খান। এর সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।


৯.ব্যায়াম

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমাতে ও শরীরে রক্তচলাচল স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। তবে যদি খুব পরিশ্রম করেন বা ভার উত্তোলন করেন তাহলে পাইলসের সমস্যা বাড়তে পারে। সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো হাল্কা ওয়ার্কআউট করুন।


১০.হলুদ

কাঁচা হলুদ পানিতে ফোটান ভাল করে। আর এই পানি নিয়মিত খান। এতে পাইলসের সমস্যায় অনেকটা উপকার পাওয়া যায়।


১১.কলা

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সবচেয়ে উপকারি এবং অব্যর্থ ওষুধ হল কলা। বিনা কষ্টে মলত্যাগ করতে সাহায্য করে কলা। এর ফলে মলদ্বারে কোনও চাপ পড়ে না, ফলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি হয় না। কলা সোয়াবিনের দুধ দিয়ে খেলে আরও তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়া যাবে।


১২.ডাল

মসুর ডাল, খেসারি ডাল, তিসির ডাল, এই ধরনের খাবার পাইলসের সমস্যা নিরাময়ে খুবই উপকারি।


এপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষণ - Symptoms of appendicitis
গর্ভাবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে দম্পতির ইচ্ছে ও কিছু ভ্রান্ত ধারণা
গর্ভাবস্থায় ঘুমের সমস্যা, কী করবেন - Sleep problems during pregnancy, what to do
শুচিবাই কি?শুচিবাই থেকে মুক্তির উপায়
গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাদ্য-Nutritious food during pregnancy
অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ ও করণীয়
ব্লাড ক্যান্সারের কারণ ও এর প্রতিকার - Causes and treatment of blood cancer
মাথা ব্যথার ঔষধের নামের তালিকা - List of names of headache medicines
গলা ব্যথা সারানোর উপায় - Ways to cure sore throat
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়ার নিয়ম - Eating rules for patients with gestational diabetes