দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ - Symptoms of gum cancer
Symptoms of dental cancer

দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

দাঁতের সঠিক যত্ন না নিলে একদিকে যেমন দাঁতে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ঠিক তেমনই দাঁতে পোকা, মুখের ভিতরে ঘা এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হবে নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এখানেই ভোগান্তির ইতি নয়। দাঁত এবং মুখের যথাযথ যত্ন না নিলে আপনার অজান্তেই জীবনে প্রবেশ করতে পারে ওরাল ক্যান্সার। ওরাল ক্যান্সার শুধুমাত্র মুখের ভিতরের আস্তরণের উপর প্রভাব ফেলে তা নয়, মুখের ভিতরের হাড়, মাংসপেশি এবং শিরা আস্তে আস্তে নষ্ট করে দেয়। সময়মতো চিকিত্‍‌সায় মুখের ক্যান্সারও সেরে যায়, কিন্তু সমস্যা হল বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের এই রোগ হয়েছে। তাই অসাবধানতা এবং অবহেলার মাসুল চোকাতে হয় নিদারুণ ভাবে। বাংলাদেশের ক্যান্সার রোগীদের মাঝে প্রতিবছর ৮.৯% রোগী মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ৭.৯% রোগী এই রোগে মৃত্যুবরণ করেন।

দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ

মাড়ির ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ হচ্ছে মুখের মধ্যে না ঠোঁটের আশপাশে লাল বা সাদাটে ভাব দেখা যাবে। চামড়া অনেক সময় স্বাভাবিকের তুলনায় মোটা হয়ে যায়, এবং মুখের মধ্যে বারবার আলসার বা ফোঁড়া হতে থাকে। সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কিন্তু এটাকে অনেকেই সাধারণ মাড়ির ব্যথা বা জ্বলুনি ভেবে ভুল করেন। কিন্তু দুটো জিনিস আলাদা এবং সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন দু ক্ষেত্রেই।

মাড়ির কিছু সমস্যায় মুখে যদি দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য দেখা যায় তাহলে রোগীদের প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর মধ্যে পরফিরোমোনাস জিনজিভালিস নামে ব্যাকটেরিয়াটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। দেখা গেছে, এ ব্যাকটেরিয়াটি যাদের পাওয়া গেছে, তাদের প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে গেছে ৫৯ শতাংশ। একইভাবে অ্যাগরিগ্রাটিব্যাকটার অ্যাকটিনোমাইসেটিমকোমিট্যান্স নামে আরেকটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায় প্রায় ৫০ শতাংশ।

প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ

- পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, যা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়

- জন্ডিসের লক্ষণ ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার পরেও চোখ সাদা থাকা

- হঠাৎ খাবারের রুচি কমে যাওয়া ও হঠাৎ ওজন কমা

- মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি

- হজমে সমস্যা

- বমি বমি ভাব

- ৫০ বছর বয়সের পর টাইপ টু ডায়াবেটিসের সূত্রপাত

কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার মাড়ির ক্যান্সার হয়েছে কিনা?

* মুখের মধ্যে কোনও ফোলা ভাব যদি ৩-৪ সপ্তাহেও না কমে

* ঠোঁটের আশপাশে এবং মুখের ভিতর লাল বা সাদা ভাব থাকলে

* দাঁত নড়বড় করলে

* মুখের মধ্যে টিউমার জাতীয় কিছু অনুভব করলে

* কানে এবং মুখে ব্যথা হলে

* চিবোতে বা গিলতে যদি সমস্যা হয়

* হঠাৎ ওজন কমে গেলে

* দাঁত থেকে রক্ত পড়লে

চলুন জেনে নিই কী কী কারণে দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়?

১) তামাক বা তামাকজাত যে কোনও পণ্য সেবন (যেমন- বিড়ি, সিগারেট, সাদা পাতা, গুল, হুঁকা, চুরুট, খইনি ইত্যাদি) এবং জর্দা, সুপারি, চুন দিয়ে পান খাওয়া।

২) অতিমাত্রায় অ্যালকোহল সেবন।

৩) ধারালো বা বাঁকা দাঁত; ত্রুটিযুক্ত ডেঞ্চার, ফিলিং, আর্টিফিসিয়াল ক্রাউন, ব্রিজ বা অ্যাপ্লায়েন্স দ্বারা মুখগহ্বরের কোনও অংশে ক্রমাগত আঘাত লাগা।

৪) সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির সরাসরি সংস্পর্শে থাকা (ঠোঁটের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়)।

৫) Human papilloma virus এর সংক্রমণ।

৬) বংশগত ইতিহাস থাকা।

৭) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা।

৮) খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস(ভিটামিন এ, সি, ই) এর ঘাটতি।

চিকিৎসা

চিকিৎসা শুরুর আগে কিছু জিনিস দেখা প্রয়োজন, প্রথমত রোগীর স্বাস্থ্য, বয়স সহ ক্যান্সারের উৎস থেকে আর কোন কোন জায়গায় এই রোগ ছড়িয়েছে সেটা দেখে নেওয়া দরকার। ক্যান্সার কতটা ছড়িয়েছে তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজন হলে সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি অথবা কেমোথেরাপি করতে হবে।

১. ম্যান্ডিবুলেক্টমি: এই ক্ষেত্রে মাড়ি থেকে ক্যান্সারাস টিউমার বাদ দেওয়া হয়।

২. পার্শিয়াল ম্যাক্সিলেক্টমি: মূর্ধা অথবা উপরের মাড়িতে থাকা ক্যান্সার এই উপায়ে অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয়।

৩. ম্যান্ডিবুলেক্টমি করতে হলে পায়ের হাড়, মূলত ফিবুলা থেকে হাড় নিয়ে মাড়ির হাড় পুনর্গঠন করা হয় মাইক্রোভাসকুলার সার্জারির মাধ্যমে।

৪. ফাইনাল প্যাথোলজি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে কেমো বা রেডিও থেরাপি হবে কিনা সেটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যত দ্রুত এই রোগ ধরা পড়বে তত সহজেই অপারেশন করা সম্ভব হবে। এবং চিকিৎসার পর সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বাড়বে। তাই নিয়মিত দাঁত মাজা এবং মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি।