দুই সাংবাদিককে হত্যার হুমকি,সন্ত্রাসীদের জিম্মিদশায় অবরুদ্ধ পরিবার
নোমান চৌধুরী/ সিরাজুল ইসলাম


চরফ্যাসনের দুলারহাট থানা এলাকায় সম্পত্তি বিরোধ নিয়ে আমার সংবাদের পত্রিকার চরফ্যাসন প্রতিনিধি  ও বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চরফ্যাসন উপজেলা শাখার ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক  নোমান চৌধুরী  ও জাতীয় দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার চরফ্যাসন উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চরফ্যাসন উপজেলা শাখার সদস্য  সিরাজুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়ে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী বাহিনী মতিন, হানিফ ফারুকও মিছিরের নেতৃত্বে ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিরন, হান্নান, এমরান. ফরাদ,আলামিন, শামিম, শরিফদের বিরুদ্ধে। রোববার উপজেলার দুলারহাট থানার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে সম্পত্তি  জবর দখলে ব্যার্থ হয়ে দুই সাংবাদিককে হুমকি ধামকি ও বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনার পর পরই সাংবাদিক নোমান চৌধুরী বাদি হয়ে ১১ জনকে আসামী করে দুলারহাট থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারন ডাইরি করেন। সন্ত্রাস বাহিনীর অব্যহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে তাদের পরিবার।  
সাংবাদিক নোমান চৌধুরী ও সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ফরিদাবা মৌজায় তাদের বাবার বসত বাড়ির বাগানের অংশের ৮ শতাংশ জমি দীর্ঘ ৬০ বছর পর্যন্ত ভোগ করে আসছে। সম্প্রতি সময়ে মতিন মাঝি, হানিফ তাদের বাবার দখলীয় ওই জমির মালিকানা দাবী করে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ২০ শে জুলাই স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ মতিন মাঝি, হানিফের নেতৃত্বে বহিরাগত কিশোর গ্যাং বাহিনী পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাদের বাবার  বাগানের ভোগ দখলীয় জবর দখলের চেষ্টা চালান। এবং জোর পূর্বক তাদের অংশের বাগন থেকে নারিকেল পারতে শুরু করেন। এ সময় তার ভাই সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বাঁধা দেয় এবং তিনি তাদের এসব কর্মকান্ডের ছবি তুলতে গেলে অভিযুক্ত হান্নান অশ্লীল ভাষায় গালিগালমন্দ করতে থাকে একপর্যায়ে হান্নান তাকে খুন করার উদ্দেশ্য শাবল নিয়ে তেড়ে আসে। সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম গালমন্দ করার কারণ জিজ্ঞেস করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ওৎপেতে থাকা কিশোর গ্যাং বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  দুই সাংবাদিকসহ তাদের পরিবার কে খুন করার উদ্দেশ্য হামলার চেষ্টা চালান। দুই সাংবাদিক ও পরিবারের সদস্যরা ওই কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজ ঘরে আশ্রয় নেয়। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নোমান চৌধুরী ও সিরাজকে বাহিরে বের হতে বলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ওই দিন রাত ৮ টায় সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই ও বাবা মসজিদে নামাজ পড়াকালীন সময় তাদেরকে সমজিদের মধ্যেই অবরুদ্ধ করে রাখে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা বাড়ি ফিরে আসলেও  মসজিদ থেকে বের হলে খুন করার হুমকি দেয়। পরে ওই চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে  রাত ১০ টার দিকে তাদের বাড়ির বসত ঘরে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং  তাদের পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। সন্ত্রাস বাহিনীর অব্যহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে তাদের পরিবার।
অভিযুক্ত মতিন মাঝি ও হানিফ এসব ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাদের দাবী ওই খতিয়ানে তাদের জমি রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, হিরন, হান্নান, শামিম, ফরহাদ ও আল-আমিন এরা কিশোর গ্যাং এর সাথে জড়িত। এরা এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে কিশোর গ্যাং গড়ে তুলছে। মতিন, হানিফ, ফারুক ও মিছির এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। মতিন-হানিফের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এরা এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত।
দুলারহাট থানার ওসি মুরাদ হোসেন  জানান, এ ঘটনায় সাংবাদিক নোমান চৌধুরী বাদী হয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছে। ডাইরিটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : কালমেঘ পাতার উপকারিতা ও গুণাগুণ