চরফ্যাসনে মাদক দিয়ে যুবকে ফাঁসাতে গিয়ে অবরুদ্ধ চার পুলিশ সদস্য
অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যরা


চরফ্যাসনের মাদ্রাজ ইউনিয়নে আলামিন নামে এক যুবককে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন চরফ্যাসন থানায় কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান। খবর পেয়ে চরফ্যাস থানার ওসি মো. মনির হোসেন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ওই পুলিশ সদস্যসহ অপরদের উদ্ধার করেন। গতকাল শনিবার বিকালে চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের নতুন ¯øুলিজ এলাকায় মৎস্যঘাটে এঘটনা ঘটে।
যুবক আলামিন জানান, নতুন ¯øুলিজ মৎস্যঘটে শনিবার বিকালে তিনি তার বাবার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আইমা ফিসে যান। ওই সময় চরফ্যাসন থানার উপ-পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আড়ৎ থেকে তাকে আটক করে হাতকড়া পড়িয়ে থানায় আনার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি তাকে আটকের কারন জনাতে চাইলে তার সঙ্গে মাদক আছে বলে জানান পুলিশ সদস্য এসআই সিদ্দিকুর রহমন। এসময় তিনি কৌশলে তার প্যান্টের পকেটে মাদক দেয়ার চেষ্টা করেন। মাদক দেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তার বাবার মৎস্য আড়ৎ থেকে ৫ লাখ টাকা ও তার ব্যবহারিত ৬৪ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যান। আলামিনের চাচা বাবুল মিয়া জানান, তার বাবার আড়তে হঠাৎ পুলিশ হানা দিয়ে সাথে মাদক আছে বলে আলামিনকে আটক করেন। কিন্তু স্থানীয়দের সামনে তল্লাশী করে সাথে কোন মাদক পাওয়া যায়নি। পরে তাকে ছেড়ে দিলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ওই সময় চরফ্যাসন থানার উপ-পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে চরফ্যাসন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে  নিয়ে যান এবং তার পরিবারকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
স্থানীয়-ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় রাতেই চরফ্যাসন থানার উপ পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানসহ কিছু পুলিশ সদস্য ওই মৎস্যঘটে হানা দেন । এবং সাধারন ব্যবসায়ী ও জেলে যুবকদের মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। টাকা না পেলে আটক করে থানায় নিয়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করেন।
উপ-পরিদর্শক সিদ্দকুর রহমান  মাদক দিয়ে ফাঁসানো অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে তিনি জানান, ওই যুবককের কাছে মাদক আছে এমন সংবাদের ভিত্তি অভিযান চালিয়ে তাকে  আটক করলে স্থানীয়রা তাকে ছিনিয়ে নেয় এজন্য  তল্লাশী করতে পারিনি। বিক্ষুব্ধ জনতার ঘিরে ধরলে পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমার চলে আসি।
চরফ্যাসন থানার ওসি মো. মনির হোসেন মিয়া জানান, ওই যুবকের কাছে মাদক আছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশ মাদক অভিযানে যায়। স্থানীয়রা পুলিশকে ঘিরে ফেললে ওই যুবক আলামিন তার সাথে থাকা মাদক ফেলে দেয়। এজন্যই তার কাছে কোন মাদক পাওয়া যায়নি।


পরবর্তী খবর পড়ুন : ১০ বছরের শিশুর বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগে মামলা