চরফ্যাসনে কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষিত, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই
কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চর‌্যফাসন সদরে যানবাহান


করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসাধারনকে ঘরমুখী রাখতে  কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। মানুষ যেন ঘর থেকে বাইরে বের হতে না পরে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন,বিজিবি,  পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করলেও ঘরমুখী রাখা যাচ্ছে না সাধারন মানুষকে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব তৎপরতা উপজেলা ও থানা সদরসহ ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রধান বাজারকেন্দ্রীক হওয়ায় সাধারন মানুষ এখন ছোট ছোট বাজার ও গ্রামভিত্তিক দোকানগুলোকে ঘিরে জটলা পাকাচ্ছে। একই ভাবে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পাহারা দিয়ে চলছে অটোরিক্সা ও যন্ত্রচালিক ছোট ছোট যানবাহন এবং দোকানপাট। বেশীর ভাগ দোকানে সাটারবন্ধ রেখে শুধুমাত্র দরজা খুলে করছে বেচাবিক্রি। ঈদকেন্দ্রীক পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভীর বাড়লেও কেউ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।  ফলে শহরে লকডাউন কার্যকর করা গেলেও গ্রামজুড়ে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি ও কঠোর বিধিনিষেধ।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,চরফ্যাসন উপজেলাসদরসহ গ্রামগঞ্জের বাজারে যানবাহনের পাশপাশি শার্টার  উঠিয়ে দরজা খোলা রেখে অবাধে ব্যবসায়ীরা চালিয়ে যাচ্ছেন বেচাবিক্রি। যেখানে নেই কোন স্বাস্থ্য বিধির বালাই। ১লা জুলাই প্রথম দফায় সরকার ঘোষিত ৭ দিনের  কঠোর বিধি নিষেধের প্রথমদিনে  সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে থাকলেও পঞ্চম ও দ্বিতীয় দফার ৬ষ্ঠ  দিনে দেখা যায়নি প্রশাসনের কোন তৎপরতা। নিত্যপন্য, খাদ্য সামগ্রীর ও ঔষাধের দোকান খোলা থাকার কথা থাকলেও প্রসাশনের সঠিক নজরদারীর অভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু ব্যবসায়ীরা  দোকানের সামনে  পাহারা বসিয়ে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ব্যবসা। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলে ভেতর থেকে দরজা  বন্ধ করে কিছু সময়ে জন্য চুপচাপ বসে থাকেন ক্রেতা-বিক্রেতা। একই ভাবে প্রশাসনের গতিবিধি নজরধারী করে সড়কগুলোতে চলছে অটোরিক্সাসহ ছোট ছোট যন্ত্রচালিত যানবাহন। প্রধান সড়কগুলো এড়িয়ে বিকল্প সড়কগুলোতে যানবাহনের ভীর বেশী দেখা যায়।  ভেঙ্গে ভেঙ্গে এসব যানবাহন চলায় যাত্রিদের গুনতে হচ্ছে অধিক ভাড়া।
এদিকে উপজেলার সবগুলো প্রধান বাজারে সপ্তাহে ২দিন করে মিলছে পশুর হাট। পশুরহাটে ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভীর বাড়ছে। পশুর বাজারগুলোকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে পশুর বাজারে স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই।   
উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন  জানান, কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন থেকে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন দিন-রাত কাজ করছে। কিছু চালক উপজেলার প্রধান সড়কটি ব্যবহার না করে কৌশলে এলাকার সংযোগ সড়কে যাত্রী বহন করতে পারে। তবে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত বাহনের চালকসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে অনেককে জরিমানা-কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে শহরের অলিগলিতে পুলিশ-বিজিবি টহল অব্যাহত রয়েছে। চরফ্যাসন উপজেলায় আমাদের দুইটি মোবাইল টিম বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : চরফ্যাসনে রাতের আধাঁরে হাত বেঁধে জেলে কন্যাকে ধর্ষণ, মামলা