চরফ্যাসনে প্রেমিকের ধর্ষণে তিন মাসের অন্তস্বত্ত্বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী, মামলা
প্রতীক ছবি


চরফ্যাসনের শশীভূষণ থানার জাহানপুর ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ডের স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপুর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জসিম উদ্দিন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। কথিত প্রেমিকের ধর্ষণে ওই নারী তিন মাসের  অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পরলে সটকে পরেন প্রেমিক জসিম উদ্দিন। গত ৫ ডিসেম্বর জাহানপুর ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পের ভিক্টিমের বাবার ঘরে এঘটনা ঘটে। ভিক্টিম নারী বাদী হয়ে ১০ এপ্রিল শশীভূষণ থানায় লিখিত এজারহার দাখিল করলেও পুলিশ মামলা না নেয়ায়  আজ মঙ্গলবার  ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষক প্রেমিক জসিম উদ্দিন ও আরো দুই সহযোগিকে আসামী করে ভোলা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত ওই নারীর দায়ের করা মামলাটি  এফআইআর করার জন্য শশীভূষণ থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্ত জসিম একই গ্রামের আবদুল লতিফ মাঝির ছেলে।
ভিক্টিম ও মামলা সুত্রে জানাযায়,৪ বছর আগে স্বামী এক সন্তানসহ তাকে ফেলে চলে যায়। নিরুপায় হয়ে  শিশু সন্তান নিয়ে  জাহানপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে আবাসন প্রকল্পে বাবার ঘরে আশ্রয় নেন তিনি। গত এক বছর আগে বাবার বাড়িতে পরিচয় হয় প্রতিবেশী জসিম উদ্দিনের সাথে। পরিচয়ের সুত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেম প্রনয় গড়ে উঠে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর রাতে  প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভিক্টিমের সাথে শারিরিক  সম্পর্কের প্রস্তাব দেন জসিম উদ্দিন। তার প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করলে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। কথিত প্রেমিকের ধর্ষণে তিনি ৩ মাসের অন্তস্বত্ত¡া হয়ে পরলে লজ্জায় বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে অন্তস্বত্ত¡ার বিষয়টি এলাকায় জানাযানি হয়ে পরলে ভিক্টিম প্রেমিক জসিমকে জানান এবং বিয়ের জন্য চাপ দেন। প্রেমিক জসিম বিয়ে করতে পারবেনা বলে ভিক্টিমকে সাফ জানিয়ে দেন এবং তার গর্ভের আগত সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। তিনি বিষয়টি ধর্ষক জসিমের পরিবারকে জানালে তারা ভিক্টিমকে মারধরের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত জসিম ও তার পরিবার বিয়ের মাধ্যমে সমোঝতার আস্বাস দেন ভিক্টিম পরিবারকে। গত তিন মাস সময় ক্ষেপনের পর সটকে পরেন ধর্ষক জসিম উদ্দিনের পরিবার। স্থানীয় গন্যমান্যদের জানালে তারা বিয়ের চেষ্টায় ব্যর্থ হন। বিয়ের সমোঝতার আস্বাসে ব্যার্থ হয়ে ভিক্টিম নারী বাদী হয়ে গত ১০ এপ্রিল শশীভূষণ থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোন আইনি ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোলা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে ধর্ষক প্রেমিক জসিম উদ্দিনসহ সহযোগি ধর্ষকের বড় ভাই মো. মিন্টু ও স্থানীয় শালিশদার মিজানকে  আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত জসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানাযায়নি। তবে তার বড় ভাই মিন্টু জানান, ষঢ়যন্ত্র করে আমার ভাই জসিমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ওই নারী ও তার পরিবার।
শশীভুষণ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভিক্টিম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের পর বিষয়টি পুলিশের তদন্ত কালে কোন স্বাক্ষী প্রমান না পাওয়ায় এহাজারটি মামলা হিসেবে নেয়া হয়নি। অভিযোগটির তদন্ত চলমান রয়েছিলো।  ভিক্টিম আদালতে মামলা দায়ের করছেন কিনা তা আমার জানা নাই।  



পরবর্তী খবর পড়ুন : চরফ্যাসনের দুলারহাটে ছিনতাইকারীর খপ্পড়ে ঢাকা ফেরত দুই শ্রমিক