চরফ্যাসনের বেতুয়া-ঢাকাগামী কর্নফুলী-১২ লঞ্চের স্টাফ কর্তৃক যাত্রীদের ওপর হামলা
কর্নফুলী ১২ লঞ্চ


চরফ্যাসনের বেতুয়া থেকে ঢাকাগামী কর্নফুলী-১২ লঞ্চে কেবিন যাত্রীদের ওপর হামলা মালমাল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। কেবিন বয় ও মালিক পক্ষের ডিজেল কালাম উদ্দিন ও জামালের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার সদরঘাটে যাত্রীদের নামার সময় এ ঘটনা ঘটে। এসময় লঞ্চস্টাফ ও মালিক পক্ষের লোকজনের হামালায় ১ শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।স্বজনরা আহত ৫জনকে হামলাকরীদের কবল থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানাগেছে।এঘটনায় আহত যাত্রী শওকতউল আলম বাদী হয়ে মালিক পক্ষের ডিজেল  কামাল ও জামালসহ অজ্ঞাত ১৫/১৬ জনের বিরুদ্ধে সদর ঘাট নৌ- বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানাযায়, গত কয়েদিন আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাসনের নিজ বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সোমবার বিকালে বেতুয়া থেকে একটি ভিআইপি কেবিন ও এক ডাবল এবং একটি সিঙ্গেল কেবিন নিয়ে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।মঙ্গলবার সকালে লঞ্চেরে ভাড়া পরিশোধ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লঞ্চ থেকে নামার জন্য গেইটে আসেন।বেবিন বয়রা বকশিস হিসেবে অতিরিক্ত টাকা দাবী করেন। কেবিন বয়দের দাবীকৃত বকশিস না দিলে তারা ক্ষিপ্ত হন।এবং ৭ বছরের এক শিশুর ডেক ভাড়া ৩শ টাকা দাবী করেন। বকশিস ও ৭ বছরের শিশুর ডেক টিকেটের ভাড়া দিয়ে অস্বীকায় করায় মালিক পক্ষের লোক ও ডিজেল কালাম উদ্দিন,  জামালের সাথে তাদের তর্ক বাধে। তর্কে জড়িয়ে শাহারিয়ার নামের এক যাত্রীকে মারধর করে। এসময় শাহারিয়ার স্বজনরা প্রতিবাদ করলে ডিজেল কালাম ও জামালের নেতৃত্বে একাধিক কেবিন বয়রা মিলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে জখম করে।অপর যাত্রী ও স্বজনরা হামলাকারীদের কবল থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে রক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। হামলার সময় অভিযুক্তরা  তাদের সাথে থাকা নগদ টাকাও কাপড়ের ব্যাগ ও মোবাইলসহ একটি গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন।
একধিক যাত্রীরা অভিযোগ করেন, কর্নফুলী-১২ লঞ্চে যাতায়াতের সময় কেবিন বয় ও স্টাফরা প্রায় সময়ই যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরন করেন। এবং কেবিন বয়রা বকশিসের নামে কেবিন যাত্রীদের জিম্মিকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও বেবিন একা নারী যাত্রীদেরকে যৌন নিপিড়রনসহ কেবিনে ঢুকে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান যাত্রী ও তাদের স্বজনরা।
কর্নফুলী ব্রাদার্স নেভিগেশনের সহকারী ম্যানেজার রুমন খান জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মালিক পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ নিয়ে সমযোতা করে করে দেয়া হবে বলে ভুক্তভোগি পরিবারকে  বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত কামাল ও জামালের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানাযায়নি। নৌ-বন্দর থানার এসআই শহিদুল আলম জানান, যাত্রীদের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।



পরবর্তী খবর পড়ুন : তালকপ্রাপ্ত নারীর খোরপোষের টাকা হাতিয়ে নিলেন তিন গ্রাম্য মাতাব্বর