প্রতিক ছবি


চরফ্যাসন পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডেস্থ কালিয়া কান্দি গ্রামে  গৃহবধূ নাছরিন খাদিজা(২৯)কে পিটিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বসত ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে স্বামীর বসত ঘরে এঘটনা ঘটেছে। দম্পত্য কলহলের জের ধরে স্বামী এবং তার পরিবারের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নাছরিন খাদিজার চাচা মো.কবির হোসেন  জানিয়েছেন।পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। ঘটনার পরপরই স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।  
নাছরিনের চাচা করিব হোসেন জানান, দেড় বছর আগে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আবুল হোসেন দেওয়ানের ছেলে কামাল দেওয়ানের সাথে তার ভাইয়ের মেয়ে নাছরিন খাদিজার বিয়ে হয়। গত শনিবার নাছরিন খাদিজার একটি নবজাতক শিশুর জম্ম হয়। রোববার বিকালে নবজাতক শিশুসহ নাছরিনকে হাসপাতাল থেকে স্বামীর বাড়িতে নেয়ার পথে নাছরিন নবজাতক শিশুকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে না গিয়ে বাবার বাড়ি যেতে চাইলে এনিয়ে স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয় এর জের ধরে বিকালে নাছরিন খাদিজাকে স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা  স্বামীর বাড়িতে  দফায় দফায় মারধর করেন। মারধরে অসুস্থ হয়ে পরলে রাতে পর গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বসত ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেয়। চরফ্যাসন থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। এছাড়াও বিয়ের সময় জামাতার পরিবারের সদস্যরা তার পুর্বের স্ত্রী থাকার বিষয়টি পোপন রাখেন। এনিয়ে বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি ছিল। পুর্বের স্ত্রীকে বিতারিত করতে প্রায় সময় নাছরিনকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিতেন । ওই টাকা না দেয়ায় নাছরিন খাদিজাকে নির্যাতন করতেন স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা। অপরদিকে গৃহবধুর স্বামী কামাল দেওয়ান মুঠোফেনে জানান, নবজাতক শিশুকে নিয়ে তার স্ত্রী রুমের দরজা বন্ধ করে শেয়ন কক্ষে ছিলেন। নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকতে থাকেন । গৃহবধুর কোন শাড়া শব্দ না পেয়ে তার প্রতিবেশীদের খবর দেন । প্রতিবেশিরা সন্দেহবশত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ বন্ধ শয়ন কক্ষের দড়জা ভেঙে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত তার লাশ উদ্ধার করেন। নবজাতক শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি না যেতে পেরে অভিমানে নাছরিন খাদিজা আত্মহত্যা করেছেন।
চরফ্যাসন থানার  ওসি মনির হোসেন মিয়া জানান, স্বামীর বসত ঘরের ফ্যানের সাথে  গলায় ফাঁস দেয়া গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ভোলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারন স্পষ্ট নয়। আপাদতঃ অপমৃত্যু মামলা নেয়া হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলে মৃত্যুর কারন জানা যাবে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : চরফ্যাসনে চেয়ারম্যান, সচিব ও গ্রাম আদালত সহকারীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপনার মতামত লিখুন :