গোলাপি শির-Pink-headed duck
Pink-headed duck

গোলাপি শির-Pink-headed duck

গোলাপিশির বা গোলাপি হাঁস এক প্রজাতির ভুতিহাঁস যা একসময় ভারত ও বাংলাদেশের গাঙ্গেয় অববাহিকা এবং মায়ানমারের নদীবাহিত জলাভূমিগুলোতে চরে বেড়াত। 

ইংরেজি নাম: Pink-headed duck

বৈজ্ঞানিক নাম: Rhodonessa caryophyllacea

বর্ণনাঃ

গোলাপিশির লম্বা গোলাপি গলার মাঝারি আকারের হাঁস দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি, ওজন ৮৪০ গ্রাম, ডানা ২৬ সেমি, ঠোঁট ৫.৩ সেমি, পা ৪ সেমি, লেজ ১১.৫ সেমি। ছেলে ও মেয়েহাঁসের চেহারায় বেশ পার্থক্য আছে। ছেলেহাঁসের মাথা, মুখ ও ঘাড় গোলাপি; কপাল কালচে বাদামি; ডানার অনেকটা অংশ গোলাপি: ডানার মধ্য-পালক ও ডানাতল-ঢাকনি; বাকি শরীর কালচে বাদামি। মেয়েহাঁসের ধূসর মাথায় হালকা গোলাপি আভা, চাঁদি ও ঘাড়ের পিছনে বাদামি; ডানার মধ্য-পালক ফ্যাকাসে বাদামি; দেহের বাকি অংশে হালকা বাদামি পালকের কিনারা সাদা ছিল। ছেলে ও মেয়েহাঁসের উভয়ের চোখ লাল; ঘন লাল ঠোঁট; লালচে পা ও পায়ের পাতা ছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পালকের সাদা প্রান্ত ছাড়া মেয়েহাঁসের চেহারার সঙ্গে মিল ছিল।

স্বভাবঃ

গোলাপিশির বাদাবন, নলবন, ও উঁচু ঘাসভরা বিলে বিচরণ করত; সাধারণত ছোট দলে দেখা যায় এদের। অগভীর পানিতে সাঁতার কেটে, মাথা ডুবিয়ে এবং ডুব দিয়ে পানির নিচে গিয়ে খাবার খোঁজ করে। গাছপালা ও লতাপাতার আড়াল ছেড়ে এরা সহজে বাইরে আসত না; মাঝে মাঝে ঘরঘরে গলায় শিস দিত ও গ্যাক গ্যাক করে ডাকত।

প্রজননঃ

জুন-জুলাই মাসের প্রজনন ঋতুতে তারা পানির পাশে মাটিতে লম্বা ঘাসের মধ্যে শুকনো ঘাসের স্তুপ বানিয়ে তার ওপর পালকের বাসা করে ডিম পাড়ত। ডিমগুলো ছিল গোল ও গজদন্তের মত সাদা, সংখ্যায় ৫-১০টি

খাদ্য তালিকাঃ

এদের খাদ্যতালিকায় জলজ আগাছা, ক্ষুদ্র শামুক, ও ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

বিস্তৃতিঃ

গোলাপিশির বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি; ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের মিঠা পানির জলাভূমিতে দেখা যেত। এদেশ ছাড়া ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি।

অবস্থাঃ

গোলাপিশির বিশ্বে মহাবিপন্ন বলে বিবেচিত এবং জানামতে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

বাংলাদেশের উভচর ও সরীসৃপের তালিকা - List of amphibians and reptiles in Bangladesh
বাংলাদেশের পাখির তালিকা-List of birds of Bangladesh
বাংলাদেশের সংরক্ষিত উদ্ভিদের তালিকা - List of protected plants of Bangladesh