মাছমুরাল পাখি
Osprey

Osprey

মাছমুরাল

মাছমুরাল, অসপ্রে বা উখস Pandionidae (প্যান্ডিয়নিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Pandion (প্যান্ডিয়ন) গণের অন্তর্ভুক্ত একমাত্র সদস্য। মাছ মুরাল যাকে সমুদ্র বাজপাখি, নদীর বাজপাখি এবং মাছের বাজপাখিও বলা হয়। একটি মহাজাগতিক পরিসরের একটি দৈনিক, মাছ-ভোজনকারী শিকারী পাখি।

ইংরেজি নাম: Osprey

বৈজ্ঞানিক নাম: Pandion haliaetus

বর্ণনাঃ

এটি একটি বড় মাছ মুরাল, যার দৈর্ঘ্য ৬০ সেন্টিমিটার এবং ডানা জুড়ে ১৮০ সেন্টিমিটার এর বেশি। এটি উপরের অংশে বাদামী এবং প্রধানত মাথা এবং নীচের অংশে ধূসর। তবে পুরুষ মাছমুরাল থেকে স্ত্রী মাছমুরালের ডানা বড়। লম্বায় ৪৪.৫-৫১.৮ সেমি.। স্ত্রী পাখি ওজনে প্রায় ২ থেকে আড়াই কেজি। পাখিটির শরীরের তুলনায় মাথা খাটো। মাথায় বাদামি ধূসর রং। আকারে চিলের মতো। এদের পেট সাদা ও পিঠ কালচে বাদামি। ডানা বেশ লম্বা। চোখের সামনে ও পেছনে লম্বা কালো দাগ। লেজ কালচে ডোরা। চঞ্চু কালো। শক্ত-মজবুত ধারালো ঠোঁটের অগ্রভাগ বড়শির মতো বাঁকানো। চোখ হলদে। লম্বা পা সাদা পালকে ঢাকা। পায়ে বাঁকানো কালচে নখ। ঘাড় ও গলা লালচে-বাদামি। পেট সাদা। লেজ বাদামি, বৃত্তাকার ও খাটো।

বিস্তৃতিঃ

বাংলাদেশ ছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, লাওস, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ায় এদের দেখা যায়। 

বিচরণঃ

মাছ মুরাল এর দৃষ্টি আছে যা বাতাস থেকে পানির নিচের সব কিছু দেখতে পায়।  শিকার খুঁজে জলাশয়ের ওপর চক্কর মেরে। তারা জলের দেহে ডুব দিয়ে মাছ ধরে, তাদের পুরো শরীরকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দেয়। পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরে।মোহনা এবং উপকূলের কাছাকাছি জলাশয় ও নিম্নভূমির বন প্রান্তরে বিচরণ করে।  প্রজাতির দেখা মেলে একাকি বা জোড়ায়। মিঠা জলের জলাশয় এদের বিচরণের জন্য উত্তম। দুর্দান্ত সাহসী ও হিংস ।অন্ধকার সময়ে বিশেষ করে জলের উপর দিয়ে উড়ে যায় এবং প্রতিদিন গড়ে ২৬০-২৮০ কিমি উড়তে পারে।

খাদ্য তালিকাঃ

ইঁদুর, খরগোশ, অন্যান্য পাখি, এবং ছোট সরীসৃপ শিকার করতে পারে।

প্রজননঃ

জলের কাছে যে কোনো স্থানে বাসা বাঁধে যা পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করে। প্রজনন মৌসুম জুন-আগস্ট । স্ত্রী পাখি এক মাসের মধ্যে দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে এবং  স্ত্রী পাখি ডিমে তাপ দিয়ে বাচ্চা ফুটায়। ডিমগুলো লালচে-বাদামী রঙের গাঢ় দাগ সহ সাদা এবং প্রায় ৬.২ সেমি এবং ওজন প্রায় ৬৫ গ্রাম । ডিম ফুটতে সময় লাগে প্রায় ৩৫-৪৩ দিন । বাচ্চা গুলো ৪-১০  সপ্তাহের মধ্যে উড়তে শিখে। সাধারণ জীবনকাল ৭-১০ বছর।

অবস্থাঃ

সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস, প্রায় ৩ কোটি ১৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।


পরবর্তী খবর পড়ুন : মেটেমাথা কুরাঈগল