লক্ষ্মীপেঁচা পাখি
Barn owl

Barn owl

লক্ষ্মীপেঁচা

লক্ষ্মীপ্যাঁচা বা লক্ষ্মীপেঁচা এক ধরনের পেঁচা প্রজাতির পক্ষীবিশেষ। মাঝারি থেকে বৃহৎ আকৃতির হয়ে থাকে এ পাখিটি। শরীরের তুলনায় মুখমণ্ডল অনেকাংশেই বড় হয়ে থাকে। লম্বা পাখনা, ফ্যাকাশে ও হৃদয় আকৃতি মুখের গড়ন এবং বর্গাকৃতির লেজ প্রধান এর বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য শিকারী পাখি - ঈগল, বাজের ন্যায় এর লম্বা, শক্তিশালী পায়ের থাবার সাথে সুতীক্ষ্ণ নখর রয়েছে।

ইংরেজি নাম: Barn Owl

বৈজ্ঞানিক নাম:Tyto alba

বাংলাদেশে টাইটেনিডে পরিবারভূক্ত লক্ষ্মীপেঁচার ৩টি প্রজাতি রয়েছে। সেগুলো হলো - অস্ট্রেলেশিয়ান গ্রাস-আউল (Tyto longimembris), লক্ষ্মীপেঁচা (Tyto alba) এবং অরিয়েন্টাল বে-আউল (Phodilus badius)।

বর্ণনাঃ

লক্ষ্মীপেঁচার পাখার দৈর্ঘ্য ৭৫-১১০ সেন্টিমিটার। শারীরিক গঠন ২৫-৫০ সেন্টিমিটারবিশিষ্ট। প্রজাতিভেদে ওজন ১৮৭ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার লক্ষ্মীপেঁচা তুলনামূলকভাবে কম ওজনের হয়। এ পাখির চোখের পুরো অংশই সাদা। চোখের তারা এবং পা হলুদ রঙের হয়। পিঠের দিক গাঢ় বাদামি, তার ওপর সাদা সাদা অনেক ফোটা থাকে। এদের লম্বা পাখনা, ফ্যাকাশে ও হৃদয় আকৃতি মুখের গড়ন এবং বর্গাকৃতির লেজ রয়েছে। অন্যান্য শিকারি পাখি ইগল ও বাজের ন্যায় এর লম্বা, শক্তিশালী পায়ের থাবার সঙ্গে সুতীক্ষ নখর রয়েছে।

প্রজননঃ

বসন্ত ঋতুতে এদের প্রজনন মৌসুম। উঁচু গাছের গর্তে এরা বাসা বাঁধে। লক্ষ্মীপেঁচা সারা বছরই বাসা বাঁধে, তবে বর্ষাকালে নয়। বছরে দুবার ডিম দেয়। ডিমের রং সাদা। ডিম নষ্ট হলে কিছুদিন পর আবারো ডিম পাড়ে। লক্ষ্মীপেঁচা ডিম দেয় ৬টি থেকে ৭টি। কখনো ৯টি ডিমও পাড়ে। পুরুষ ও মেয়ে পাখি উভয়েই ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে ৩০ থেকে ৩৩ দিন লাগে। জন্মের ৫২-৫৫ দিন পর উড়তে শেখে লক্ষ্মীপেঁচার ছানারা।

খাদ্য তালিকাঃ

ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ, মাছ, পোকামাকড়সহ ছোট পাখি শিকার করে জীবনধারণ করে।

স্বভাবঃ

নিশাচর ও শিকারী পাখি হিসেবে লক্ষ্মীপেঁচার আচরণ অন্যান্য পেঁচার ন্যায়। কিন্তু গোধূলীলগ্নে এটি সক্রিয় হয়ে উঠে। মাঝে মাঝে দিনের বেলায়ও কিঞ্চিৎ দেখা মেলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০০ মিটার উপরে কিংবা ৩০০০ মিটার নিচে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার খামার ও ঘাসপূর্ণ এলাকা, বনভূমিতে এদেরকে দেখা যায়। শিকার নিয়ে কোন কাঠ বা খুঁটির উপরিভাগে বসতে পছন্দ করে। খুবই নিঃশব্দে এদের পদচারণা ঘটে অর্থাৎ আওয়াজবিহীন অবস্থায় এরা উড়তে সক্ষমতা প্রদর্শন করে। এদের শ্রবণশক্তি খুবই তীক্ষ্ণ।এ ধরনের বৈশিষ্ট্য সমগোত্রীয় প্রজাতি হিসেবে টি. এ. গুট্টাটা এবং টি. এ. এল্বা পেঁচায় দেখা যায় যারা ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাংশ এবং আইবেরিয়ান উপত্যকা ও দক্ষিণ ফ্রান্সে বসবাস করে।

বিস্তৃতিঃ

লক্ষ্মীপেঁচা হল বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তৃত পেঁচার প্রজাতি এবং সমস্ত প্রজাতির পাখির মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত একটি, মেরু এবং মরুভূমি অঞ্চলগুলি ছাড়া বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়, হিমালয়ের উত্তরে এশিয়া। , ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ এবং কিছু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ।

প্রশান্ত শৈলবগাদারুচিনি চড়ুই

দেশি পানকৌড়িসবুজ মৌটুসী পাখি


পরবর্তী খবর পড়ুন : পিতরাজ বা রয়না