জলপিপি
Bronze Winged Jacana

Bronze Winged Jacana

জলপিপি

ইংরেজি নাম: Bronze Winged Jacana

বৈজ্ঞানিক নাম: Metopidius indicus

বর্ণনাঃ

লম্বায় পুরুষ পাখি ২৯ সেন্টিমিটার, স্ত্রী পাখি ৩২ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড়, গলা, বুক উজ্জ্বল নীলাভ-কালো। চোখের ওপরের দিক থেকে চওড়া টান ঘাড়ে গিয়ে ঠেকেছে। পিঠ এবং ডানা সবুজাভ-ব্রোঞ্জ। ওড়ার পালক কালচে-বাদামি। লেজ খাটো, পাটকিলে লাল। ঠোঁট সবুজাভ-হলুদ। ঠোঁটের গোড়ায় সামান্য লাল ছোপের সঙ্গে সিসে-লাল বর্মদ্বারা আচ্ছাদিত, যা কপাল পর্যন্ত ঠেকেছে। লম্বা পা, ময়লা-সবুজ বর্ণ। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম।

স্বভাবঃ

জলাভূমিতে বিচরণকালে অদ্ভুত সুন্দর পি -পি -পি সুরে ডাকার কারণে, এদের আমরা বাংলায় জলপিপি বলে থাকি। এদের পা ও পায়ের আঙুলগুলি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লম্বা হয়ে থাকে। এরা জলে ভাসমান পাতা গুলির উপর ভর দিয়ে অতি দ্রুত চলাচল করতে সক্ষম। এরা যখন ওড়ে তখন এদের গলা সামনের দিকে ও পা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে।

খাদ্য তালিকাঃ

জলজ উদ্ভিদের পাতা ,ঘাস,ছোটখাটো পোকামাকড়, জলজ বিভিন্ন ফল ও বীজ এদের প্রধান খাবার।

প্রজননঃ

প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগস্ট। বাসা বাঁধে ভাসমান জলজ উদ্ভিদের ওপর পানা বা ঘাসপাতা দিয়ে। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিমে তা দেয়া থেকে শুরু করে বাচ্চা প্রতিপালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পুরুষ পাখির ওপরে থাকে । এদের ডিম গুলি দেখতে শঙ্কু আকৃতির, উজ্জ্বল বাদামী রঙের । ডিমের উপরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮-২০ দিন। এই বাচ্চাগুলি মোটামুটি দশ সপ্তাহের মধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে যায়।

বিস্তৃতিঃ

পাখি গুলি ভারত, বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিভিন্ন দেশগুলিতে দেখতে পাওয়া যায়।

অবস্থাঃ

আই ইউ সি এন এই প্রজাতিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে চিহ্নিত করেছেন । কিন্তু ক্রমবর্ধমান মানব সভ্যতার অট্টালিকার বিস্তার এই সমস্ত পাখিদের বাসস্থান গুলিকে ক্রমেই সীমিত করে চলেছে।এছাড়াও নদী জলাভূমি গুলিতে আগাছা ও আবর্জনার বৃদ্ধি এই সমস্ত পাখিদের খাদ্য সংস্থানের অভাব ঘটাচ্ছে। 


পরবর্তী খবর পড়ুন : কাও ধনেশ