নীলকান মাছরাঙা
Blue-eared Kingfisher

নীলকান মাছরাঙা

Blue-eared Kingfisher

নীলকান মাছরাঙা হল একধরনের মাছরাঙা প্রজাতির পাখি যাদেরকে সাধারণত এশিয়া মহাদেশে দেখতে পাওয়া যায়। অ্যালসিডিনিডি পরিবারভুক্ত পাখিটি নীলাভকান ছোট মাছরাঙা নামেও পরিচিত। 

ইংরেজি নাম: Blue-eared Kingfishers, Deep Blue Kingfisher, Malaysian Kingfisher।

বৈজ্ঞানিক নাম: Alcedo meninting

বর্ণনাঃ

নীলকান মাছরাঙা দেখতে অনেকটা ছোট বা পাতি মাছরাঙার মতো হলেও আকারে আরও ছোট। লম্বায় ১৬ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার ও ওজনে ২৩ থেকে ২৭ গ্রাম। দেহের ওপরটা গাঢ় নীল ও নিচটা গাঢ় কমলা। গালের চারদিক, ঘাড় ও ডানা-ঢাকনি বেগুনি-নীল। গলা ও ঘাড়ের পাশে সাদা পট্টি। কান-ঢাকনি উজ্জ্বল নীল। চোখ বাদামি। পা, পায়ের পাতা ও নখ গোলাপি-কমলা। ছোট মাছরাঙার সঙ্গে মূল পার্থক্য (কান-ঢাকনি কমলার পরিবর্তে নীল, দেহের রং গাঢ় নীল ও বুক-পেট গাঢ় কমলা। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম হলেও পুরুষগুলো বেশি উজ্জ্বল। পুরুষের উভয় ঠোঁট কালচে হলেও স্ত্রীর ওপরের ঠোঁট কালচে ও নিচের ঠোঁট লালচে-কমলা। অল্প বয়স্কগুলোর কান-ঢাকনি লালচে-কমলা ও ঠোঁটের অগ্রভাগে সাদা দাগযুক্ত।

খাদ্য তালিকাঃ

চিংড়ি, ফড়িং, লার্ভা এবং মাছ। অন্যান্য পোকামাকড় যেমন ঘাসফড়িং, গঙ্গাফড়িং ইত্যাদিও খেয়ে থাকে।

প্রজননঃ

প্রজনন কাল হল প্রধানত মে থেকে জুন মাস উত্তর ভারতে এবং দক্ষিণ ভারতে জানুয়ারি মাসে। তাদের বাসা প্রধানত ১ মিটার লম্বা হয় টানেলের মতোন দেখতে আর এরা নদীর বা পুকুর বা জলপ্রপাতের ধারেই বাসা বাঁধতে পছন্দ করে। বাসায় তারা ৫ থেকে ৭ টা ডিম পাড়ে। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৭ দিন।

বিচরণঃ

সাধারণত এরা একাকী বিচরণ করে। মাঝেমধ্যে জোড়ায় জোড়ায়ও দেখা যায়। নীলকান মাছরাঙার বিচরণক্ষেত্র প্রধানত চিরসবুজ বনাঞ্চলের ভেতর প্রবহমান নদ-নদীর ওপর গাছের ঝুলন্ত ডালে। শিকারের প্রতীক্ষায় দীর্ঘসময় বসে থাকে সেখানে।

বিস্তৃতিঃ

ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান প্রভৃতি দেশে এবং আরোও দূরের মায়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে। এদেরকে দেখতে পাওয়া যায় পুকুর, ছোটো ছোটো জলপ্রপাত প্রভ্রিতির ধারে। আর এরা থাকতে ভালোবাসে ঘন জঙ্গলে, যে জঙ্গলগুলো প্রধানত ১,০০০ মিটার এর নিচে অবস্থান করে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : কোড়া বা জলমোরগ