লাল লতিকা হট্টিটি
Red-wattled Lapwing

Red-wattled Lapwing

লাল লতিকা হট্টিটি

হটটিটি বা লাল-লতিকা হটটিটি Charadriidae গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Vanellus গণের অন্তর্ভুক্ত এক প্রজাতির পানিকাটা পাখি। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ডাকের কারণে নাম হয়েছে হটটিটি। 

বৈজ্ঞানিক নাম: Vanellus indicus

ইংরেজি নাম:Red-wattled Lapwing

বর্ণনাঃ

দৈর্ঘ্য ৩৩ সেন্টিমিটার। হলুদ লম্বা পা ও পায়ের আঙুলের এই পাখিদের ঠোঁটটি আলতা লাল, আগাটা কালো। বুক-গলা-পেট-ঘাড়-মাথা ও ওড়ার পালকের অগ্রভাগটা কালো, পিঠ অস্পষ্ট ছাপসহ বাদামি, ঘাড়-বুক-পেট ও লেজের তলাটা সাদা। ঠোঁটের লাল টকটকে লতিকা দুচোখের লাল রঙের মোটা বৃত্তের সঙ্গে মিলে একটা সুদৃশ্য রোদচশমা চোখে পরার মতো লাগে। লাল রঙের ফ্রেমে যেন কালো কাচ বসানো। চোখের মণি কালো, তাই এমন দেখায়। হট্টিটি খুবই চতুর পাখি।

খাদ্য তালিকাঃ

ছোট মাছ, ঘাসের উপরে থাকা ছোট ছোট পোকামাকড় কীটপতঙ্গ, ছোট ব্যাঙ ও ব্যাঙাচি, এবং কেঁচো, এদের খাবার

প্রজননঃ

প্রজনন সময় মার্চ থেকে আগস্ট। মিলন শেষে মাটির অগভীর গর্তে অথবা মাঠ-প্রান্তরের নিরিবিলি স্থানে বাসা বাঁধে। বাসা দেখতে হাস্যকর। মাটির ঢেলা দিয়ে তৈরি করে। চারপাশে ছোট ছোট মাটির ঢেলা সাজিয়ে থালাকৃতির বাসা বানিয়ে মাঝখানে ডিম পাড়ে। ডিমের সংখ্যা ৩-৪টি। স্ত্রী-পুরুষ পালা করে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২১-২৩ দিন। 

বিচরণঃ

জলাধারের আশেপাশে জোড়ায় জোড়ায় অথবা ছোট দলে এদের প্রায়ই চরে বেড়াতে দেখা যায়। অবশ্য শীতকালে এরা বিশাল দল গঠন করে ঘুরে বেড়ায়। এরা আকাশে উড়ে উড়ে সংকেত দিয়ে ছোট ছানাদের যেমন পরিচালিত করতে পারে, তেমনি কুকুর-বেজি বা অন্য প্রাণী বাসার সীমানায় গেলে চেঁচিয়ে মাঠ ফাটাতে ফাটাতে দর্শনীয় ডাইভ দিয়ে শত্রুকে ভড়কে দিতে পারে। সারা বাংলাদেশে বারো মাসই খোলা মাঠে–ময়দানে এই পাখিদের দেখা মেলে। এরা জোড়ায় চলে।

বিস্তৃতিঃ

সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত, প্রায় ৫২ লক্ষ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস। পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ, পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়।

অবস্থাঃ

বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে, আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যেয়ে পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।


পরবর্তী খবর পড়ুন : মদনটাক