ধূপনি বক
Grey Heron

ধূপনি বক

Grey Heron

সবাই চেনে 'ধুপনি বক' কিংবা 'ধূসর বক' নামে। তবে বাংলা নাম অঞ্জন। বিশ্বজুড়ে ১১ প্রজাতি এবং বাংলাদেশে রয়েছে চার প্রজাতির ধুপনি বক।

ইংরেজি নাম:Grey heron

বৈজ্ঞানিক নাম: Ardea cinerea

বর্ণনাঃ

প্রজাতিটি লম্বায় ৮৪-১০২ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড় ও বুক সাদা। মাথার চূড়া কালোডোরা যুক্ত। মাথার তালু ফুঁড়ে বেরিয়েছে কালো পালকের লম্বা ঝুঁটি। লম্বা গলার মাঝ বরাবর রয়েছে মোটা ছাড়া ছাড়া দাগের ডোরা। রয়েছে ঝালর আকৃতির পালক। পিঠ ধূসর। পেটের দুই পাশে কালো ছোপ। উড়ার পালক কালো। ঠোঁট ও চোখের সামনের চামড়া হলুদ। পা কালো-হলুদ। প্রজনন মৌসুমে রং বদলায়। এ সময় ঠোঁট ও পা কমলা-লালচে দেখায়।

প্রজননঃ

এদের প্রজননকাল জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ।ধূসর বক সাধারণত কলোনিতে বাসা তৈরি করে। লম্বা গাছে বাসা তৈরি করতে পছন্দ করে। গাছের ডাল ও ঘাসের সমন্বয়ে ৪০-৪৫ সেন্টিমিটার প্রশস্ত বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরির উপকরণ পুরুষ পাখি সংগ্রহ করে। স্ত্রী পাখি সবুজাভ নীলবর্ণের ৩-৬টি ডিম পাড়ে। ২৪-২৭ দিন তা দেয়ার পরে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। ৭ সপ্তাহ থেকে ৩ মাস বয়স হলে বাচ্চা উড়তে সক্ষম হয়। মা বক ও বাবা বক উভয়েই বাচ্চার দেখাশোনা করে।

খাদ্য তালিকাঃ

মাছ, উভচর প্রাণী, কীটপতঙ্গ, কাঁকড়া, ছোট স্তন্যপায়ী (ইঁদুর), কচ্ছপের বাচ্চা, ছোট পাখি ইত্যাদি

স্বভাবঃ

ধুপনি বক সাধারণত অগভীর হাওর, বিল, নদী-খাল, পুকুর, জলাশয়, আবাদি ভূমি, বেলাভূমি, নদীর মোহনায় জলচর পাখির বিচ্ছিন্ন ঝাঁকে আহারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। ধুপনি বক একাকী বা ছোটা দলে বিচরণ করে। এরা স্বভাবে শান্ত বিধায় অন্যসব প্রজাতির বকের সঙ্গে সহজেই মিশতে পারে। 

বিস্তৃতিঃ

বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় এদের দেখা মেলে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : ধলাকোমর মুনিয়া