জয়নব আল গাজালী এর জীবনী - Biography of Zaynab al-Ghazali
Zainab al Ghazali Egyptian author

জয়নব আল গাজালী এর জীবনী - Biography of Zaynab al-Ghazali

জয়নাব আল গাজালী আল জুবাইলী। বিশ শতকের ইসলামী জাগরণে যারা ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে একটি অন্যতম নাম। বিশ্বব্যাপী এ জাগরণের সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঢেউটি তুলতে সক্ষম হন হাসান আল বান্না।  তিনি ছিলেন আল বান্নার মতই নির্ভীক, মৃত্যুকে হাসি মুখে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। স্বৈর শাসকের রক্তচক্ষু, নিষ্ঠুর নির্যাতন অথবা অর্থ-ক্ষমতার লোভ কোন কিছুই তাকে তার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। অল্প বয়সে তিনি যে আদর্শের পথে পা বাড়িয়েছেন মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ছিলেন তার উপর পর্বতের মতই অবিচল। তার বক্তৃতা চুম্বকের মত মানুষকে আকৃষ্ট করত এবং তিনি হাজার হাজার মানুষকে বক্তৃতা দ্বারা প্রভাবিত করতে পারতেন। এমনকি জেলে চরম নির্যাতনের মুখে তার ক্ষুরধার সত্যভাষণে অত্যাচারীরা হতভম্ব হয়ে যেত, কখনও তারা হত ক্রোধে উন্মাতাল। শুধু সুবক্তাই নয়, তিনি ছিলেন সুপন্ডিত লেখিকা, একজন যোগ্য সংগঠক ও সমাজসেবীও বটে।

প্রাথমিক জীবন

জয়নাবের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারী মিশরের বিহারা প্রদেশের মাইতিন গ্রামে। তিনি ছোট বেলায় বাসায় ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি পাবলিক স্কুলে যান এবং পরে হাদিস ও ফিকাহ্ শাস্ত্রে সার্টিফিকেট লাভ করেন। তিনি আল আজহারের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ শেখ আলী মাহফুজ ও মোহাম্মাদ আল নাসারের কাছে শিক্ষা লাভ করেন।

তিনি এমন এক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন যার সঙ্গে হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) এর বংশীয় সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা আল আজহারে পড়াশোনা করেন। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি তুলার ব্যবসা করতেন। উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সাহসী যোদ্ধা নুসায়বাহ বিনতে কা’ব আল মাজিনিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি জয়নাবকে ইসলামের অগ্রনায়ক হতে ছোটবেলা থেকেই উদ্বুদ্ধ করতেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৩৬ সালে জয়নাব আল গাজালী নিজেই ‘জমিয়াত আল সাইয়্যেদাত আল মুসলিমাত’ (মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশন) নামে সংগঠন দাঁড় করান। এর আগে অবশ্য তিনি ১৯৩৫ সালে হুদা শারাভির ‘ইজিপশিয়ান ফেমিনিষ্ট ইউনিয়ন’ এ যোগদান করেছিলেন। কিন্তু এ সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতে না পেরে তিনি পরের বছরই এটি ত্যাগ করে নিজের সংগঠন তৈরী করেন। এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৯৬৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছে যায়।তিনি মহিলাদের উদ্দেশ্যে প্রতি সপ্তাহে ‘ইবনে তুলুন’ মসজিদে বক্তৃতা করতেন, যেখানে প্রায় তিন হাজার মহিলা জমায়েত হতো। রমজানের সময় এ সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যেত। দাওয়াহ্ এবং ইসলামী শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি তার এসোসিয়েশন নানা সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। তারা ম্যাগাজিন বের করতো, এতিমখানা পরিচালনা করতো, দরিদ্র পরিবার গুলোকে সহায়তা প্রদান করতো। এছাড়া জয়নাব ওয়াক্ফ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ১৫ টি মসজিদ স্থাপন করেন। সংগঠনের ও নিজের উদ্যোগে আরো কয়েক ডজন মসজিদ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

কারাগারের জীবন

১৯৬৫ সালের ২০ আগষ্ট জয়নাব আল গাজালী গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের কারণ হিসেবে নাসেরকে ‘হত্যা প্রচেষ্টা’র ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু ইখওয়ানের প্রতি নাসেরের ক্রোধের আসল কারণ আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জয়নাব আরও লিখেন ঃ “ নাসের নাস্তিক্যবাদ ও অশ্লীল ছায়াছবি, পত্র পত্রিকা আমদানী করে দেশের নবীন বংশধরদের চরিত্র হননের আপ্রাণ চেষ্টা করে... । ইসলামী আন্দোলনে তরুনদের প্রধান ভূমিকা দেখে নাসের ক্ষেপে পাগল হয়ে পড়ে। সে তার সাঙ্গ পাঙ্গদের প্রায়ই বলতো, “ জয়নাব আল গাজালী এবং আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল তরুন সম্প্রদায়কে আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে।” নাসেরের এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য গৌরবের কথা। তার র্নিলজ্জ কঠোর থাবা থেকে আমরা তরুন সম্প্রদায়কে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি ।... এমন তরুন বাহিনী সৃষ্টি করে দিয়েছি, যারা যুগের যে কোন হুযুগের মোকাবেলায় ইসলামের ঝান্ডাকে বুলন্দ রাখতে সক্ষম।”

গ্রেফতারের পর জয়নাবকে সামরিক কারাগারে নেয়া হয় এবং সেখানে তিনি জঘন্যতম নির্যাতনের সম্মূখীন হন। এ নির্যাতনের কাহিনী তিনি বর্ণনা করেন তার ‘আইয়্যাম মিন হায়াতি’ বইতে (বইটি ইংরেজীতে ‘Return of the pharaoh’ এবং বাংলায় ‘কারাগারের রাতদিন’ নামে অনুদিত হয়)।

কারাগারে নেয়ার পর শুরুতেই তাকে হিংস্র ক্ষুধার্ত কুকুর ভর্তি একটি সেলে ঢুকিয়ে তিন ঘণ্টা বন্দী রাখা হয়। সেখান থেকে বের করে তাকে ৬ দিন একটি সেলে বন্দী রাখা হয়। জয়নাব এ প্রসঙ্গে লিখেন “২০ আগষ্ট থেকে ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত বরাবর ৬ দিন একই কক্ষে আবদ্ধ থাকি। এর মধ্যে একটি বারও করে দরজা খোলা হয়নি। এক ফোটা পানি বা কোনো রকমের খাদ্য দেয়া হয়নি। বাইরের কারো সাথে যোগাযোগ বা কথাবার্তাও হয়নি। পানি নেই, খাদ্য নেই, কথাবার্তা নেই - ৬ দিন, ৬ রাত অন্ধকার কক্ষে একাকীত্বের এই জীবন, একটু কল্পনা করে দেখুন তো! পানাহার নাইবা হলো কিন্তু মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণকে কেউ কিভাবে অস্বীকার করতে পারে।”

জয়নাব বলেন, নাসেরের নির্দেশে তাকে যে কোনো পুরুষের চাইতেও কঠিন নির্যাতন করা হয়। এক সময় জয়নাবের সেলেই আরও দুজন মহিলাকে বন্দী করে রাখা হয়। তারা হচ্ছেন আলীয়া হুদায়বী (মুর্শীদে আম হাসান আল হুদায়বীর কন্যা) এবং গা’দা আম্মার। তারা জয়নাবের অবস্থা দেখে আৎকে ওঠে। জয়নাব তার বইয়ে বর্ণনা করেন, “ আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বললামঃ ‘গা’দা আমার মেয়ে! (জয়নাব নিঃসন্তান ছিলেন কিন্তু তার কর্মী তরুন-তরুনীদের তিনি ছেলে ও মেয়ে সম্বোধন করতেন) আমাকে চিনতে পারছিস না?’ সে বললঃ ‘না... আপনার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।’ ... আমি সান্ত্বনা দিয়ে বললামঃ ‘... এমন হওয়াই স্বাভাবিক।... রাতে দিনে চব্বিশ ঘণ্টায় খাদ্য হিসেবে পাই শুধু এক চামচ সালাদ। তাও একজন সিপাহী লুকিয়ে দিয়ে যায়।’... একটু পরে তারা হাণ্টারের দগদগে ঘা দেখে আৎকে উঠে। ... আমি পবিত্র কোরআনের ‘আসহাবুল উখদুদ’ সংক্রান্ত আয়াত পড়ে শুনাই। গা’দা আম্মার নিরবে কাঁদতে থাকে আর আলীয়া বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে স্বগত প্রশ্ন করেঃ ‘মহিলাদের সাথেও এমন নির্মম নিষ্ঠুর ব্যবহার কিভাবে সম্ভব হলো? কোন্ বন্য নৃশংসতার নিদর্শন এসব’.... কিন্তু আলীয়া হয়তো কল্পনা করতে পারেনি ইসলাম ও মানবতার দুশমন জামাল নাসেররা আল্লাহ ও তার রাসূলের শত্রুতায় এর চেয়েও নিচে নামতে পারে।”

তাদের নিচতার নমুনা পাওয়া যায় সামরিক কারাগারে শামস্ বাদরান নামে এক লোকের বন্য অত্যাচারের বিবরণ থেকে। জয়নাব বর্ণনা করেন, “সাফওয়াত ... আমাকে শামস্ বাদরানের অফিসে নিয়ে যায়। জানেন, কে এই শামস্ বাদরান? নির্দয়-নিষ্ঠুর পশুর চেয়েও অধম এক দুশ্চরিত্র ব্যক্তি .. জুলুমের ভয়ংকর রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ।

তিনি তার কারাগারের জীবনে উপর কারাগারে রাতদিন নামে গ্রন্থ রচনা করেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী এর জীবনী - Biography of Lieutenant General Chowdhury Hasan Sarwardy
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
ইবনে হিশাম
আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী-biography of allama noor hossain kasemi
আবুল মাল আবদুল মুহিত এর জীবনী- Biography Of Abul Maal Abdul Muhith
আয়াত আলী পাটওয়ারী এর জীবনী-Biography Of ayet ali patwary
মাওলানা তরিক জামিল-Biography Of Maulana Tariq Jamil
বিদ্যা সিনহা সাহা মিম-Biography Of Bidya Sinha Saha Mim
তাহসিন এন রাকিব এর বয়স, শিক্ষা ও জীবনী- biography of Tahsin N Rakib