সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদার জীবনী
সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা
আমি তোদের মত শ্রমিক না আমি বলিউডে অভিনয় করি,বলিউডে অভিনয় করি ইউরোপের অনেক দেশে অভিনয় করি, টেলিভিশনে করি, থিয়েটারে করি, ঐশ্বরিয়া রাই আমাকে বুকে জড়ে চুমু খেয়েছে ।

পরিচিতিঃ

জন্ম ও কর্মঃ 

সেফুদা খুলনার সোনাডাঙ্গায় ৫ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর।সেফাত উল্লাহ ১৯৭৯/১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে ভিয়েনায় এক স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর হিসেবে রয়েছেন। পাশাপাশি একটি অনলাইন শপে পার্টটাইম কাজ করেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি নানা ধরণের অশ্লীল, অসঙ্গতিপূর্ণ ভিডিওবার্তা ছড়িয়ে বেশ আলোচনায় সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি।

পরিবারঃ

সেফুদার স্ত্রী এবং এক সন্তান রয়েছে। যদিও বর্তমানে তার স্ত্রী-সন্তান কিংবা পরিবারের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। পারিবারিক সম্পর্কবিহীন সিফাত উল্লাহ দেশের ওপর রাগ করে একাকী প্রবাস যাপন করছেন দীর্ঘদিন।

 নানা বিষয় নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে অল্প সময়ে 'তারকা' বনে যান সেফুদা। প্রথমের দিকে সেফুদা নামটি তার নামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তখন তার ফেসবুক লাইভ দেখার মতো মানুষও ছিল না। সেই সময়য় শুধু সিফাতউল্লাহ নামেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক ক্রিকেটারের সাথে এক তরুণীর ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময়য় সিফাত উল্লাহ ফেসবুকে একটি লাইভ করেন। তখন থেকেই মূলত তার লাইভে দর্শক বাড়তে থাকে। 

১৯৯০ সাল থেকে তিনি অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনায় বসবাস করছেন। ভিয়েনা বাঙালি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও প্রবাসী সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ জানান, ভিয়েনা বাংলাদেশ কমিউনিটির এক পারিবারিক ঝগড়ার কারণে কোর্টের রায়ে দীর্ঘদিন ভিয়েনায় জেল খাটেন সেফাতউল্লাহ। মুক্ত হবার পর অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী তার লিগ্যাল হবার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। স্ত্রী সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন সেফাতউল্লাহ।

সেফাত উল্লাহর স্ত্রী জানান, ২৮ বছর আগে দেশ ছাড়েন তিনি। তারপর থেকেই পরিবার থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। আর তার এমন কর্মকাণ্ডে পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন বিব্রত।বর্তমানে তার এসব কার্যকলাপ ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপ প্রভৃতির মাধ্যমে শহরের অলিগলি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে। আর এসবের প্রধান দর্শক-শ্রোতা হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম; যারা নিজেদের নৈতিক দায়িত্বের কথা বিস্মৃত হয়ে সারাক্ষণ সেফুদার মতো ভাইরাল সেলিব্রেটিদের নতুন ভিডিও পাওয়ার নেশায় মত্ত হয়ে অনলাইন মিডিয়ার বিভিন্ন সাইটে ঢু মারছে এবং বিকৃত রুচির এ মানুষটির মুখনিঃসৃত কথাগুলো ব্যবহার করছে তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কথাবার্তা তথা প্রতিটি কার্যকলাপে।

তার লাইভ ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে শুরু করে অভিনয় শিল্পী, তারকা, খেলোয়াড়, নাট্যকারসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে।

সেফাত উল্লাহ'র স্ত্রী বলেন, 'সবাই, আত্মীয়-স্বজনের কাছে আমাদের মুখ নাই। কেমন লাগতেছে আমরা জানি। এখন এগুলো কি বন্ধ করার কোনো পথ নাই? ইউটিউব কি এগুলো কোনো প্রতিকার করতে পারে না? আর উনি তো সিজোফ্রেনিয়া রোগী।'

অনেকেই দাবি করছেন, অতিরিক্ত মদ পানের জন্যই এমন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন তিনি। তার প্রচুর মদ পানের প্রমাণ মেলে ফেসবুক লাইভে। প্রায়ই লাইভে তাকে মদ পান করতে দেখা যায়।

পুলিশের মহা পরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি জানান, এধরনের যারা দেশের বাইরে বসে দেশের সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করে নিজ দেশের সম্মান নষ্ট করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

টি-শার্টে সেফুদার সেই কুখ্যাত উক্তি ‘মদ খা, মানুষ হ’, মদের বোতল ও সিফাতউল্লার ছবি সংবলিত পোশাক অহরহ পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় মার্কেটগুলোয়। এ যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে।

২০১০ সালে বড় ধরনের স্ট্রোক করেন সিফাত উল্লাহ। তার কিছুদিন পর মাথার চুল পড়ে যায় আবছাভাবে। যদিও পূর্বে তার মাথার সামনে টাক ছিল এবং যৌবনকালে ঘাড়ের দিকে লম্বা বাবরি চুল রাখতেন। স্ট্রোকের পর তার মাথা হঠাৎ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং উল্টাপাল্টা কাজ করে বসেন।

 সিফাত উল্লাহর ধর্মঃ

২০১৩-১৪ সালে বাংলাদেশে একের পর এক ব্লগার তথা মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেফুদা।

সিফাত উল্লাহকে ব্লগ, ফেসবুক গ্রুপ, পেজে নাস্তিক সম্বোধন করা হলেও নিজেকে তিনি সুন্নী মুসলিম হিসেবে দাবি করেন। তার মতে, তিনি - নামাজ ,রোজা রাখেন, হজে যেতে চান

সেফুদার উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি :

১) মদ খাবি মানুষ হবি ।

২) আমার মতো হতে চাও ।

৩) আমাকে দেখে হিংসে হয় ।

৪) মদ খাও আর পরী…(অশ্লীল)  ।

৫) শুটকি খাও আর পেত্নি..........।

৬) ট্রস ট্রস করে মারবো ।

৭) কত মেয়েরা আমাকে ভালবাসে। আমি কি সবাইকে ভালবাসতে পারি?

৮) আমি প্রেম সম্রাট ।

৯) অকেয়?

১০) Love is power love is peace love is happiness love is life love never dies !

১১) তোমার পাশে যে আছে তাকে জড়িয়ে ধরো বলোঃ i love you

১২) আমি তোদের মত শ্রমিক না আমি বলিউডে অভিনয় করি,বলিউডে অভিনয় করি  ইউরোপের অনেক দেশে অভিনয় করি, টেলিভিশনে করি, থিয়েটারে করি, ঐশ্বরিয়া রাই আমাকে বুকে জড়ে চুমু খেয়েছে ।

১৩) আমি ফাস্ট বয় ছিলাম, দেখতে শুনতে নাদুস নুদুস, শান্তশিষ্ট ভদ্র।

১৪) জাতিসংঘের উপদেষ্টা ছিলাম ।

১৫) আমি একজন  VVIP মানে কি বুঝস? ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন।

১৬) মদ খা, মদ না খাইলে তোদের মাথায় বুদ্ধি আসবে না। 

১৭) আমি তিন বিষয়ে মাস্টার্স করছি। ডক্টরেট কমপ্লিট করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোর জন্মের আগে পড়াইছি। 

১৮) কি হিংসে হয়? আমার মত হতে চাও? বিশ্ব বিখ্যাত সেলিব্রেটি, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক, অভিনেতা, বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, বিশ্ব মানবতার মুক্তি দাতা, প্রেম সম্রাট, পারবে কখনো আমার মত হতে? 

১৯) হিংসা, হিংসা, হিংসা, তোমাদের হিংসা, আমি জানি। 

২০) এরকম এক হাজারটা পৃথিবীর হিরা, দানা, সোনা, আমাকে কিনতে পারবে না। 

২১)  আমার শুধু একটাই দুর্বলতা কচি কচি…..। 

২২) তোরা গরীব, ছোটলোক, মূর্খ, বরবর, তিনবেলা ভাত খাস। মদ খা, মদ না খেলে তোরা মানুষ হবি না। মদ খাও আর...........।

২৩) আমি ঘুম ভাঙানিয়া পাখি, আমি এসেছি সবার ঘুম ভাঙাতে, রঙিন আলোয় ভুবন রাঙাতে, উঠো উঠো জেগে উঠো সবাই।

২৪) জয় বঙ্গ, জয় জনতা, জয় মানবতা।

২৫) আমি এখন লাইভ থেকে বিদায় নিচ্ছি, জাতিসংঘের মহাসচিব আমাকে ফোন করছে ।

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে নাতনি হিসেবে সম্বোধন করতেন অস্ট্রিয়া প্রবাসী আলোচিত সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা। সেফুদার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন ছিল।রাজধানীতে কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদরদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 


পরবর্তী খবর পড়ুন : চরফ্যাসনের শশীভূষণ প্রেমের ফাঁদে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা