আবুল কাসেম ফজলুল হক এর জীবনী - Biography of Abul Kasem Fazlul Haque

আবুল কাসেম ফজলুল হক

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

তিনি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, মা জাহানারা খাতুন এবং তার স্ত্রী ফরিদা প্রধান। তার একমাত্র সন্তানের নাম ফয়সল আরেফিন দীপন । ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দীপনকে দুবৃত্তরা হত্যা করে।

 শিক্ষা ও কর্ম জীবন

আবুল কাসেম ফজলুল হক ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।  ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞানে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে তিনি স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। তাঁর গোটা পেশাজীবন কাটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে গবেষণা ও শিক্ষকতায়। ২০১১ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি কবিতা, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন এবং পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। তখন তাঁর লেখার বিষয়বস্তু ছিল সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের অনুসন্ধিৎসা। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় তাঁর মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন অধ্যাপক এবং বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একুশটিরও অধিক গ্রন্থের প্রণেতা ফজলুল হক নজরুল রচনাবলীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পত্র-পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। তিনি ২০০০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সংগঠনটিকে সৃষ্টি করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধান মুক্তচিন্তক আহমদ শরীফ। এছাড়াও এ সংগঠনটি 'বাংলাদেশের মুক্তি ও উন্নতির কর্মনীতি আটাশ দফা' ১ জানুয়ারি, ২০০৫ থেকে প্রচার করে যেটির রচয়িতা ছিলেন তিনি। তিনি 'মানুষ' শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন।

চিন্তাধারা

গবেষক আবুল কাসেম ফজলুল হকের কাজ পাঠকদের আশাবাদি করে। রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, নীতিবিজ্ঞান, জ্ঞানতত্ত্ব, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে তার যুক্তিগ্রাহ্য বুদ্ধিদীপ্ত গবেষণামূলক রচনা আমাদের চেতনা ও বিবেচনাবোধকে শাণিত ও সমৃদ্ধ করছে। তিনি দেশের শ্রমিক-কৃষক, গরিব মেহনতি মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণের একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রথম সারির রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নতির জন্য লিখেন এবং তিনি দেশ ও সমাজের অগ্রগতির বিষয়ে চিন্তাশীল।

প্রকাশিত গ্রন্থাবলী

১.কালের যাত্রার ধ্বনি 

২.উনিশশতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য 

৩.যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা

৪.মানুষ ও তার পরিবেশ

৫.মুক্তিসংগ্রাম 

৬.মাও সেতুঙের জ্ঞানতত্ত্ব

৭.একুশে ফেব্রআরি আন্দোলন

৮.সাহিত্যচিন্তা 

৯.রাজনীতি ও দর্শন 

১০.বাঙলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য 

১১.বাঙলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা 

১২.আশা-আকাক্সক্ষার সমর্থনে

১৩.নৈতিকতা : শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি 

১৪.অবক্ষয় ও উত্তরণ 

১৫.রাজনীতি ও সংস্কৃতি : সম্ভাবনার নবদিগণ্ত

১৬.আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা 

১৭.মানুষের স্বরূপ

১৮.সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে 

১৯.সংস্কৃতির সহজ কথা 

২০.রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ 

২১.প্রাচুর্যে রিক্ততা 

২২.শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ 

অনুবাদ গ্রন্থ

১.বার্ন্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত : রাজনৈতিক আদর্শ 

২.বার্ন্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত : নবযুগের প্রত্যাশায় ।

সম্পাদিত গ্রন্থ

১.ইতিহাসের আলোকে বাঙলাদেশের সংস্কৃতি

২.এস ওয়াজেদ আলি প্রণীত : ভবিষ্যতের বাঙালি 

৩.বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রণীত : সাম্য 

৪.বঙ্কিমচন্দ্র : সার্ধশত জন্মবর্শে 

৫.স্বদেশচিন্তা

৬.মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী : মানবমুকুট

৭.আকবরের রাষ্ট্রসাধনা

সম্পাদিত সাময়িকপত্র

১.সুন্দরম 

২.লোকায়ত 

পুরস্কার ও সম্মাননা

বাংলাদেশ লেখক শিবির পুরস্কার 

বাংলা একাডেমী পুরস্কার 

আলাওল সাহিত্য পুরস্কার 

অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার