মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী
'খাবেন?' 'ঢেলে দেই?' ‘ভাই পরিবেশটা সুন্দর না? 'কোনো হইচই আছে?' এই শব্দগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নেটিজেনরা ছবি পোস্ট করলেই এসব ক্যাপশন দিচ্ছেন। বাংলাদেশের ফেসবুক প্ল্যাটফরম ঘাঁটলেই এমনটা দেখা যাচ্ছে। এ বাক্য চারটির বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী।

Mufti Gias Uddin At-Taheri

মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাহেরী নামেই তিনি পরিচিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। তাঁর পারিবারিক ইতিহাস ও বংশগত পরিচয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তবে তিনি তর্ক বিতর্কের মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন। যদিও তিনি তাঁর সম্পর্কে বিতর্কের বিভিন্ন ব্যাখ্যা তিনি দিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে নাচ করার যে অভিযোগ রয়েছে তাকে তিনি ক্যামেরার কারসাজি বলে উল্লেখ করেছেন। 

২০১৩ সালে নরসিংদীতে গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর ওয়াজে তাবলীগের লোকদের কাফের বলে গালাগাল, আলেম-ওলামা সম্পর্কে এবং শরীয়তের পীর-মাশায়েকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য নিয়ে রায়পুরার অলিপুরা শাহেরচর ও বড়চর গ্রামে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশত শটগানের ফাঁকা গুলি ও ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনায় একটি মামলাও হয়।উত্তরবঙ্গের একটি জেলায় সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের, ‘পোলা তো নয় সে যে আগুনের গোলা রে’ গানটি নেচে-গেয়ে উপস্থাপন করায় ইসলামী আলোচকদের সমালোচনার মুখে পড়েন তাহেরী।

জন্ম নামগিয়াস উদ্দিন
জন্ম২ মে ১৯৮৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বয়স৩০ বৎসর
স্থানীয় নামগিয়াস উদ্দিন তাহেরি
শিক্ষাজামেয়া আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসা
পেশাইসলাম প্রচারক
স্ত্রীমিসেস গিয়াস
পরিচিতিজনসাধারনের বক্তব্য
কার্যকাল২০১২ বর্তমান
উচ্চতা৫ ফুট ৪ ইঞ্চি
ওজন৬৫ কেজি
উপাধিমুফতি
গিয়াস উদ্দিন ১৯৮৯ সালের ২ শে মে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা একজন মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। তিনি জামেয়া আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তার ৩ মাস বয়সী ছেলে ও ৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছেলের নাম তাওফিক রেজা ও মেয়ের নাম তাবাসসুম। সন্তানদের তিনি হাফেজ বানাতে চান ।

দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জিকিরের সময় নেচে-গেয়ে ‘বসেন বসেন, বইসা যান’ বলায় সমালোচিত হন তাহেরী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে তৈরি হয় নানা ট্রল ও ভিডিও। এরপর কিছুদিন ওয়াজ বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ফের আলোচনায় এলেন এই বক্তা।

স্থানীয়দের মধ্যে তাহেরীকে নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী একজন লাল পাগড়ি ও লাল আলখেল্লা পরিহিত পীর। রায়পুরার মাস্তানগঞ্জ নামক একটি মহল্লায় খাজা বাবার দরবার নাম দিয়ে এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি আস্তানা গড়ে তুলেছেন তিনি। এ আস্তানায় সার্বক্ষণিক বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আড্ডা চলে। নারী পুরুষের একত্রে নাচানাচি করার অভিযোগও রয়েছে এই আস্তানায়। তবে ঘটনার সত্যতা কতটুকু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।