ইমাম ইবনে তাইমিয়া

Imam Ibn Taymiyyah

ইমাম ইবনে তাইমিয়া

তক়ী উদ্দীন আহ়মদ ʾইবনে ʿআব্দুল হ়ালিম ʾইবনে ʿআব্দুস সালাম আন-নুমায়রী আল-হ়াররানী ইবনে তাইমিয়া নামে অধিক পরিচিত।তিনি ছিলেন একজন সুন্নি ইসলামি পণ্ডিত, মুহাদ্দিস, ধর্মতাত্ত্বিক, বিচারক, আইনজ্ঞ, তর্কসাপেক্ষে দার্শনিক এবং একজন বিতর্কিত চিন্তক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

জন্মঃ

১০ রবিউল আউয়াল ৬৬১ হিজরি ২২ জানুয়ারি ১২৬৩ খ্রিষ্টাব্দ হাররান, রুম সালতানাতনে জন্মগ্রহন করেন।

শিক্ষাঃ

প্রথমে নিজের চাচা বিখ্যাত খতীব ও বাগ্মী ফখরুদ্দীন ইবনে তাইমিয়ার কাছে শিক্ষালাভ করেন। অতঃপর হিরান ও বাগদাদের আলেম ও মুহাদ্দিসদের কাছে উচ্চ শিক্ষালাভ করেন। ফিকহে তিনি পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেন। এক্ষেত্রে তিনি ইমামের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন বলা যায়। তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও ফিকহে গভীর পাণ্ডিত্য সর্বত্র প্রবাদের ন্যায় প্রচলিত ছিল।

কর্মজীবনঃ

ইবনে তাইমিয়া সমসাময়িক ইসলামের অন্যতম প্রভাবশালী মধ্যযুগীয় লেখক হয়ে উঠেছেন যেখানে তাঁর প্রদত্ত কুরআন ও সুন্নাহর বিশেষ ধরনের ব্যাখ্যা এবং তাঁর দ্বারা ধ্রুপদী ইসলামি ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক প্রত্যাখ্যানকে সালাফিবাদ ও জিহাদবাদের মতো সমসাময়িক অতি-রক্ষণশীল মতাদর্শগুলোতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তারকারী বলে ধারণা করা হয়। তাঁর শিক্ষার বিশেষ দিকগুলি সৌদি আরবে অনুশীলিত হাম্বলি সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব এবং পরবর্তী ওয়াহাবি আলেমদের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। মিশরীয় সালাফি সংস্কারক রশিদ রিদা তাঁকে হিজরি ৭ম শতাব্দীর একজন মুজাদ্দিদ গণ্য করতেন।

অবদানঃ

তাফসির শাস্ত্র, ফিকহ, উসুলে ফিকহ তথা জ্ঞানের সব শাখায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে ইমাম সীবাওয়ায়হ-এর ‘আল-কিতাব’ অধ্যায়নকালে এর মধ্যে ৮০ স্থানে ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করেন। অথচ সে যুগে আল কিতাব ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য আরবি ব্যাকরণ গ্রন্থ।  

মোটকথা জ্ঞানের সব শাখায় পাণ্ডিত্য অর্জন করে মাত্র ২২ বছর বয়সে ‘দারুল হাদিস আসসুকরিয়া’য় দরস প্রদান শুরু করেন। তার প্রথম দরসে দামেস্কের কাযিউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি), শাফিঈ ও হাম্বলী মাজহাবের প্রসিদ্ধ আলেমগণ এবং শহরের গণ্যমান্য ও সুধী মহল উপস্থিত ছিলেন। 

তারা সবাই তার জ্ঞানের গভীরতা,উপস্থিত বুদ্ধি, সাহসিকতা ও ভাষার আলংকারিকতার স্বীকৃতি প্রদান করেন। ইবন কাসির র. তার ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ গ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে উক্ত দরসের বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। 

দূর-দূরান্তে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। জামি উমাইয়্যা মসজিদে ও তাফসীরের দরস শুরু করেন এবং দিন দিন লোক সমাগম বাড়তে থাকে।

মৃত্যুঃ

বিশ্ববিখ্যাত এ ইমাম ২০ জিলকদ ৭২৮ হিজরি ২৬ সেপ্টেম্বর ১৩২৮ (বয়স ৬৪–৬৫) সিরিয়ার দামেস্কের কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

গ্রন্থ রচনাঃ

তিনি ৫০০ এর অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তবে ড: সিরাজুল হক তার ২৫৬টি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন। "আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদালা দ্বীনিল মাসিহ " ধর্ম তত্ত্বের উপর তার লিখিত গ্রন্থ।

রচিত গ্রন্থসমূহঃ

ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রচিত মোট গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৭০০। ইসলামি জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় তার একাধিক রচনা বিদ্যমান।


পরবর্তী খবর পড়ুন : ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) জীবনী,বাণী ও বইসমূহ