রাখাইন উপজাতির পরিচিতি - Introduction to Rakhine Tribe
Rakhine people

রাখাইন উপজাতির পরিচিতি - Introduction to Rakhine Tribe

রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। এরা আরাকানী এবং মগ নামেও পরিচিত।রাখাইনরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। 

বসবাস

রাখাইনরা বাংলাদেশের  কক্সবাজার, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস করে। কক্সবাজার জেলার খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, বারুয়াখালী, রামু থানার ফতেখাঁরকুল, পানেরছড়া, ঈদগড় বৈদ্যপাড়া, টেকনাফ থানার সদর এলাকা ছাড়াও খারাংখালী, চৌধুরীপাড়া, মহেশখালীর গোরকঘাটা, ছোট মহেশখালী, মুদির ছড়া, বুলিসং, চকরিয়া হারবাং, ঘোনা, মানিকপুর, পেকুয়ার বারবাকিয়া ইত্যাদি এলাকায় রাখাইনরা বাস করে। এছাড়া জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস শুরু করেছে।

জীবন ও জীবিকা

রাখাইন কমিউনিটি অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক ক্যাঞিং সুখবর বাংলাকে বলেন, রাখাইনদের অর্থনৈতিক অবকাঠামো স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্টমণ্ডিত। সামগ্রিকভাবে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও প্রতিকূল পরিবেশেও নিজেদেরকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সংগ্রামী মনোভাব প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রামাঞ্চলে রাখাইদের অস্তিত্বের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ভূমি, যা তাদের অর্থনীতি নির্ধারণ করছে। কিন্তু বিত্তবান ও ভূমি খেকোদের প্রবল গ্রাসে তাদের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

রাখাইনদের ঐতিহ্যগত পেশাগুলোয় দৃষ্টি দিলে অর্থনৈতিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। কক্সবাজারের গ্রামাঞ্চলে তাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের বেশি পরিবার ভূমিহীন এবং প্রান্তিক কৃষক ২০ শতাংশ। তাদের সমাজে প্রায় সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তাঁত বোনা, বার্মিজ পণ্যসামগ্রী বিক্রি, শুটকি প্রক্রিয়াজতকরণ ও ‘নাপ্পি’ তৈরি ইত্যাদি পণ্যকেন্দ্রিক নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে রাখাইন সমাজে। রাখাইন নারীদের বড় অংশ সেলস গার্ল হিসেবে কাজ করে। জীবিকার মূল ভিত্তি কৃষি হলেও ব্যবসা ও চাকরিতে প্রবেশ করছে অনেক রাখাইন। স্কুল ও কলেজগামী ছেলেমেয়ের সংখ্যাও বেড়েছে।

সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব:

রাখাইন অধিকার আন্দোলন কর্মী মংম্যায়া সুখবর বাংলাকে বলেন, রাখাইন সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। রাখাইনদের সামাজিক জীবন বৌদ্ধ ধর্মের ভিত্তির উপরেই প্রতিষ্ঠিত। সে মতে তারা বৌদ্ধ ধর্মের সব ক’টা অনুষ্ঠান পালন করে।

‘কাছং ইয়াংরী ছিয়াম’ নামক অনুষ্ঠানটি হয় বৈশাখ মাসের পূর্ণ চন্দ্র দিবসে। বৌদ্ধদের নিকট এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। এর পর রয়েছে আষাঢ়ী পূর্ণিমা ও আশ্বিণী পূর্ণিমা। কার্যতঃ চৈত্র সংক্রান্তি চৈত্রের শেষ দিবস এবং বৈশাখের প্রথম দিবস রাখাইনদের খুবই আনন্দের দিন। তাদের ‘ওয়াগেপোয়ে’ নামে আরেকটি পূঁজা হয়ে থাকে প্রতি বৎসর নভেম্বর মাসে। তবে রাখাইনদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান সাংগ্রেং বা পানি খেলা। প্রতি বৎসর নববর্ষ উপলক্ষ্যে তারা আয়োজন করে থাকে তাদের বৃহত্তম সামাজিক উৎসব সাংগ্রেং বা পানি খেলা।

মঘী সনের প্রথম মাসের নাম টেঙ্খু। টেঙ্খুর প্রথম দিন থেকে তিন দিনব্যাপী নারী-পুরুষ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠে অনাবিল এক আনন্দ উৎসবে। মঘী বৎসরের শেষ মাসের নাম তাবং। তাবং কবে শেষ হবে টেঙ্খু কবে আসবে তাই নিয়ে উদগ্রীব থাকে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন।

রাখাইন কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীদের শান্তির বর্ণির্ল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এবং বৌদ্ধ মূর্তিকে পবিত্র সুগন্ধি পানি দিয়ে গোসল করানোর পর শুভ সূচনা হয় সাংগ্রেং অনুষ্ঠানের। সাংগ্রেং উপলক্ষে রাখাইন অধ্যুষিত এলাকায় নির্মাণ করা হয় মন্ডপ বা প্যান্ডেল। মন্ডপগুলো রকমারি ফুল, বাহারি পাতা, রঙিন কাগজ এবং বর্ণিল বেলুনে সুসজ্জিত করে তোলা হয়। মন্ডপের পাশে রাখা হয় পানি ভর্তি ড্রাম।

রাখাইন তরুণী এবং যুবতীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে সেজেগুজে পানির ‘মগ’ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অপর দিকে রাখাইন তরুণ এবং যুবকরাও নতুন পোশাক পরে দল বেঁধে মন্ডপে আসে এবং অপেক্ষমান মেয়েদের দিকে পানি ছুঁড়ে মারে। মেয়েরাও ছেলেদের দিকে পানি ছুঁড়ে জবাব দেয়। এই পানি ছুড়াছুড়ির মধ্যে চলতে থাকে নানা রকম গান-বাজনা ও নাচ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে পানি খেলা। কেউ কেউ এই উৎসবকে পাত্র-পাত্রী কিংবা জীবনসঙ্গী নির্বাচনের উপলক্ষ বলে ধারণা করে থাকেন। প্রবীণরা যদিও সরাসরি পানি খেলায় অংশগ্রহণ করেন না, তবে তারা যুবক-যুবতীদের সহায়তা করে থাকেন।

সাংগ্রেং পোয়ে উপলক্ষ্যে বর্ণিল রূপে সাজে রাখাইন পল্লীগুলো। প্রতিটি মহল্লায় সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে নেচে গেয়ে উৎসবে মেতে উঠে রাখাইন আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। জমকালো এ আয়োজনে যোগ দেয় অন্যান্য আদিবাসী, স্থানীয় অধিবাসী ও পর্যটকরা। প্রায় সপ্তাহ জুড়ে অনুষ্ঠানমালা থাকলেও সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব তিন দিনের এই ‘জলকেলি’ উৎসব।

বিবাহ

সামন্তযুগে রাখাইন রাজাগণ অধিক বিবাহ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমান যুগে সে রীতি আর নেই। যার ঘরে দুইজন স্ত্রী থাকে রাখাইন সমাজ তাকে ঘৃণা করে এবং একঘরে করে রাখার চেষ্টা করে। রাখাইন বিবাহ চুক্তিভিত্তিক নয়, সামাজিক স্বীকৃতির দ্বারা হয়। রাখাইনদের মাঝে কুলগত অর্থাৎ কাজিন ভাই বোনের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ। তবে মামাতো ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে হতে পারে। এ বিয়েতে অবশ্য ধর্মীয় ও আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তথাপি পারিবারিক দিক থেকে এটাকেও নিরুৎসাহিত করা হয়। রাখাইনদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেয়া ও পুনঃবিবাহ হয় না।


শিক্ষা

আদিকাল থেকে রাখাইনরা নিজেদের ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্য, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ঐতিহ্য-ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন। রাখাইন ছেলেমেয়েদের ৫ বছর বয়সে মাতৃভাষায় শিক্ষা শুরু হতো গ্রাম্য পাঠশালায় অথবা বৌদ্ধ বিহারে। অভিভাবকরা মাতৃভাষায় শিক্ষিত হওয়ায় অনেকে বাড়িতে অক্ষর জ্ঞান পেয়ে যায়। বাধ্যতামূলক না হলেও পাকিস্তান আমল পর্যন্ত রাখাইনরা নিজদের মাতৃভাষা (রাখাইন) নিয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করত। মাতৃভাষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভের পর অন্যান্য ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করা হয়। শহরে বসবাস করা ছেলেমেয়েদের জন্য এ ধরনের শিক্ষা আবশ্যিক না হলেও গ্রামাঞ্চলে আবশ্যিক ছিল। মূলত মাতৃভাষা শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। 

রাখাইনদের উচ্চ শিক্ষা লাভে বাধা কাজ করছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সমস্যার কারণে অনেক রাখাইন ছেলে মেয়ে কাঙ্ক্ষিত উচ্চশিক্ষা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ রাখাইনদের জন্য উক্ত সরকারি বিদ্যাপীঠ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই। হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রছাত্রীর মাঝে একজন রাখাইন ছাত্র-ছাত্রীর পক্ষে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠার কথা নয়। প্রতিযোগিতায় ঝরে পড়া একজন রাখাইন ছাত্রের জন্য উচ্চশিক্ষা লাভের আর কোনো সুযোগ নেই। 

ধর্মীয় অবস্থা

ধর্ম ও ধর্মীয় গোষ্ঠী : রাখাইন জাতি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং থেরবাদী অর্থাৎ হীনযান বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারে রাখাইনরা জন্মান্তরবাদ ও কর্মবাদে বিশ্বাসী। কর্মবাদী ও কর্মের ফলাফলকে ভাগ্য হিসেবে মেনে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার নজির নেই।

ধর্মীয় উৎসব : নিয়ে বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসবের বর্ণনা করা হলো –

বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা) : এটি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই ত্রিবিধ স্মৃতিবিজড়িত সর্বশ্রেষ্ঠ পর্ব।

বর্ষাবাস (আষাঢ়ী পূর্ণিমা) : এটি গৃহত্যাগ সন্ন্যাস গ্রহণ বুদ্ধত্ব লাভের পর সারনাথে পঞ্চবর্গীয় ভিক্ষুর প্রতি ধর্মচক্র প্রবর্তনের দ্বারা প্রথম ধর্মপ্রচার ত্রিবিধ ঘটনার সাথে বিজড়িত। এই পূর্ণিমা থেকে ভিক্ষুরা বর্ষাবাসব্রত আরম্ভ করেন।

আশ্বিনী পূর্ণিমা : আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে পূর্ণিমায় পরিসমাপ্তি ঘটে। পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজের কৃত অপরাধ পাপ করে পরিশুদ্ধ হয়। তাই এই পূর্ণিমা প্রবারণা নামেও খ্যাত হয়। এই তিথিতে বৌদ্ধরা আকাশে ফানুস বাতি উড়িয়ে পুণ্য সঞ্চয় করে।

কঠিন চীবর দান উৎসব : প্রবারণা পূর্ণিমা অর্থাৎ আশ্বিনী পূর্ণিমার পরবর্তী পূর্ণিমা দিনের মধ্যে কঠিন চীবর দান উৎসব হয়। দানের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে কঠিন চীবর দান। রাখাইন মহিলারা তাঁত স্থাপন করে। ১২ থেকে ভোর ৬ টার মধ্যে চীবর করে সংঘের নির্বাচিত ভিক্ষুকে চীবর দান করে থাকে। ত্রিচীবর হলো- সংঘটি, উত্তর এবং অন্তরবাসক। প্রকার চীবর একদিনে বুনে তৈরি দান করা হয় বলে চীবর দান উৎসব নামকরণ হয়েছে। উপর্যুক্ত ধর্মীয় উৎসবগুলোকে রাখাইন সমাজে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উদযাপন করা হয়।

পোশাক পরিচ্ছদ ও অলংকার

রাখাইন পুরুষরা সাধারণত লুঙ্গি ও শার্ট পরিধান করে থাকে। শার্টের উপর লুঙ্গি পরা হয় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান করতে হলে শার্টের উপর প্রাংখেং (ওভার কোট জাতীয়) চাপিয়ে নিজদের গাম্ভীর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বয়স্করা মাথায় সাদা বা রঙিন পাতলা কাপড়ের পাগড়ি বেঁধে থাকে কিন্তু বর্তমানে এর প্রচলন কমে গেছে। পূর্বকালে বয়স্কদের মাথায় মহিলাদের ন্যায় লম্বা চুল ও খোঁপা বাঁধত এবং কানে স্বর্ণরৌপ্যের ফুল পরা হতো। এটি পঞ্চাশ বছর পূর্বেও পটুয়াখালী ও বরগুনার রাখাইনদের মাঝে প্রচলন ছিল। তখনকার দিনে রাখাইন পুরুষের কান ফুটিয়ে কানের ফুল পরা জাতীয় কৃষ্টির অঙ্গ ছিল বিধায় রাখাইন পুরুষদের প্রতি ‘নাঃ ফাউ চাঃ ম্যো’ (কান ফোটা গোষ্ঠীর সন্তান) মর্মে সম্বোধন করা হতো। রাখাইন মহিলারা সাধারণত ‘থামিং’ (লুংগি) ও ‘আংজ্যি (হাতাওয়ালা ব্লাউজ) এবং বক্ষবন্ধন পরে। অনুষ্ঠানাদি বা সামাজিকতার জন্য অন্যত্র যেতে হলে টাংপাই (ওড়না) ব্যবহার করে থাকে। আগেকার দিনে মহিলারা সেলাইকরা থামিং ব্যবহার করত না, সেলাই ছাড়া লম্বা চার হাতি থামিং পরত। একটি পাতলা কাপড়ের পাত বুকের বন্ধনী হিসেবে ব্যবহার করত এবং কোমরে চার হাত লম্বা কোমর বাঁধন (থাক্রো) দ্বারা শক্ত করে জড়িয়ে রাখা হয়। থাকোর উপরে সাধারণত কোমর বাঁধন এক গোছা রৌপ্য চেইন (চোক্রো) ব্যবহার করে থাকে। হাতে চুড়ি (লাইখ্রাং) ও হাতের আঙ্গুলে আঙ্গুরী (লাই চৈয়), পায়ে বলয় (থ্রী খ্রাং), কানে দুল (নাঃ দুয়) অথবা ফুল (নাঃবৈন), খোঁপায় পাথর বসানো স্বর্ণ-রৌপ্যের খোঁপা বন্ধন এবং গলায় চেইন বা হার ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে ঐ সকল পোশাক পরিচ্ছদ এবং অলংকার ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক ছেলেমেয়ে, যুব-যুবা, প্রৌঢ় পুরুষ-মহিলাদের মাঝে আচার-আচরণে, চলাফেরায়, কথাবার্তায় এবং খাওয়া দাওয়ায় অনেক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

নারীর অবস্থান

সমাজে রাখাইন নারীর অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ। রাখাইনদের মাঝে লিঙ্গ বৈষম্য নেই। উভয়েই সমমর্যাদা পেয়ে থাকে। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও ছেলে ও মেয়ে সমান অধিকারী এবং পারিবারিকভাবেও স্বামী-স্ত্রীর সমমর্যাদা, প্রভাব ও প্রভুত্ব রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী যেন দুটি দেহ এক সত্তা। কোনো কোনো সময় স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হলেও সহিংসতার সৃষ্টি হয় না। এ কারণে রাখাইন স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে শত সমস্যা হলেও বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া খুবই কঠিন ব্যপার।

মৃত্যু

রাখাইনদের মৃত্যুর পর সৎকার পদ্ধতি মৃত্যুর ধরনের উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। যেমন— স্বাভাবিক মৃত্যু, অস্বাভাবিক মৃত্যু, পাড়ার ভিতর নিজ বসতবাড়ির মধ্যে মৃত্যু, পাড়ার বাইরে মৃত্যু এবং বৌদ্ধভিক্ষুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াসমূহ ভিন্ন ভিন্নভাবে সম্পাদন করা হয়। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে মরদেহকে সাবান দিয়ে স্নান করে নতুন কাপড়-চোপড় দিয়ে সাজিয়ে কফিনের ভিতর ভরিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আমন্ত্রণ করা হয়। এরপর মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দানীয় বস্তুসমূহ দান পূর্বক ধর্মকর্ম সম্পাদন দ্বারা তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয় । রাখাইনদের মৃতদেহ সৎকারে মোইনান দেয়া ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে পোড়ানো হয়। যেমন—প্রবীণ ব্যক্তি এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বেলায় পোড়ানো হয়।