ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী
Dhaka to Sylhet train Schedule

Dhaka to Sylhet train Schedule

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী

সিলেটকে বলা হয় দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভ্রমণ, ব্যাবসা ও অন্যান্য কাজে সিলেটে যাতায়াত করেন। এঁদের বড় একটি অংশ ভ্রমণ করেন ট্রেনে। তাই অসংখ্য মানুষ জানতে চান ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া সম্পর্কে।

ঢাকা থেকে সিলেটের রেল দূরত্ব

বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসেব অনুযায়ী রেলপথে ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব হলো ৩১৯ কিলোমিটার। অন্যদিকে সড়কপথে ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব হলো ২৪৩ কিলোমিটার, যেমনটি বলছে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। আন্তঃনগর ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে সময় লাগে ৭ ঘন্টা। অন্যদিকে সড়কপথে এনা, শ্যামলী বা হানিফ পরিবহনের বাসে সিলেট পৌঁছাতে গড়ে সাড়ে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে।

সিলেট হইতে আন্তঃনগর ট্রেন 

ট্রেন নং
ট্রেনের নাম
হইতেছাড়ায় সময়
পৌছানোর সময়
ছুটির দিন
৭৭৪
কালনী এক্সপ্রেস
সিলেটসকাল০৬:১৫মিনিট
দুপুর ১:০০টা
শুক্রবার
৭১৮
জয়ন্তীকা  এক্সপ্রেস
সিলেট
সকাল১১:১৫মিনিট
সন্ধ্যা ০৬:২৫মিনিট
বৃহস্পতিবার
 ৭১০পারাবত এক্সপ্রেস
সিলেট
বিকাল ৩:৪৫মিনিট
রাত ১০:৪০মিনিট
মঙ্গলবার
৭৪০
উপবন এক্সপ্রেস
সিলেট
রাত ১১:৩০মিনিট
সকাল ০৬:৪৫মিনিট
নাই
১০
সুরমা মেইল (মেইল/এক্সপ্রেস ট্রেন)
সিলেট
সন্ধ্যা ০৭:২০মিনিট
সকাল ০৯:২০মিনিট
নাই

সিলেটের দর্শনীয় স্থান 

ঢাকা টু দুবাই বিমান ভাড়া

ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী

কালনী এক্সপ্রেস:

কালনী এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৭৩/৭৭৪) হলো ঢাকা টু সিলেট রুটের ৪র্থ আন্তঃনগর ট্রেন, যা ১৫ই মে ২০১২ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১২টি বগি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, যার মধ্যে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি রয়েছে।

ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন মাঝপথের ৯টি স্টেশনে বিরতি নেয়। স্টেশনগুলি হলো: ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন, নরসিংদী (কেবল ৭৭৪), ভৈরব বাজার জংশন (কেবল ৭৭৪), আজমপুর, শায়েস্তাগঞ্জ জংশন, শ্রীমঙ্গল, শমসেরনগর, কুলাউড়া জংশন এবং মাইজগাঁও।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস:

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (ট্রেন কোড ৭১৭/৭১৮) বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি দ্রুতগামী আন্তঃনগর ট্রেন, যা ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেট রেলস্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বিলাসবহুল ট্রেন। রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে এ আন্তঃনগর ট্রেনটি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তার যাত্রা শুরু করেছিল। এটি দেশে সর্বপ্রথম চালু হওয়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলির অন্যতম। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস উদ্বোধন করা হয়েছিল ১৩ ই মে, ১৯৮৬ সালে।

ঢাকা টু সিলেট রুটে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের এই ১৪টি বিরামস্থল রয়েছে: ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমপুর, মুকুন্দপুর, হরশপুর, মনতলা, নোয়াপাড়া (হবিগঞ্জ), শাহজি বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ জংশন, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, কুলাউড়া জংশন এবং মাইজগাঁও।

পারাবত এক্সপ্রেস: 

পারাবত এক্সপ্রেস (ট্রেন কোড ৬০৯/৬১০) বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি দ্রুতগামী বিলাসবহুল আন্তঃনগর ট্রেন, যা ঢাকা এবং সিলেটের মধ্যে চলাচল করে। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পারাবত এক্সপ্রেস প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৮৬ সালে।

পারাবত এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্কের ঢাকা টু সিলেট রুটের একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। পারাবতের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলির তুলনায় কম বিরতি নেয়, সে কারণে পারাবত এক্সপ্রেসের যাত্রীরা পথিমধ্যে ঝুটঝামেলা পোহানো ছাড়াই তাঁদের ট্রেনযাত্রা উপভোগ করতে পারেন।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেট রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পারাবত এক্সপ্রেস নিম্নলিখিত ১০ টি স্টেশনে কয়েক করে বিরতি নেয়: ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন, ভৈরব বাজার জংশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমপুর নওয়াপাড়া (হবিগঞ্জ), শায়েস্তাগঞ্জ জংশন, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, কুলাউড়া জংশন এবং মাইজগাঁও।

উপবন এক্সপ্রেস:

উপবন এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭৩৯/৭৪০) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত ঢাকা টু সিলেট রুটের একটি রাত্রিকালীন আন্তঃনগর ট্রেন। উপবন এক্সপ্রেস উদ্বোধন করা হয়েছিল ৪ঠা মে, ১৯৮৮ সালে।

উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি এই ১০টি স্টেশনে থামে: ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন, নরসিংদী (কেবল ৭৩৯), ভৈরব বাজার জংশন, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমসের নগর, কুলাউড়া জংশন, বরমচাল এবং মাইজগাঁও।

সুরমা মেইল:

সুরমা মেইল (ট্রেন নম্বর ০৯/১০) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত একটি মেইল ট্রেন। ট্রেনটি ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে গাজীপুর জেলা, নরসিংদী জেলা, কিশোরগঞ্জ জেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, হবিগঞ্জ জেলা ও মৌলভীবাজার জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের ভাড়া তালিকা

এখানে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত ও সর্বশেষ পরিমার্জিত ট্রেন টিকেট মূল্যের তালিকা অনুযায়ী উপরিউক্ত ৪টি আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও কালনী এক্সপ্রেস এবং একটি মেইল ট্রেন সুরমা এক্সপ্রেসের জন্যে ঢাকা টু সিলেট ট্রেন টিকেট মূল্য বা ভাড়ার পরিমাণ তুলে ধরছি। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, বাংলাদেশের ট্রেনগুলিতে বিভিন্ন মানের আসন রয়েছে। টিকেটের মূল্য কত সেটা নির্ভর করে আপনি কোন্ মানের আসন বুক করতে যাচ্ছেন তার ওপর। নিচের সারণিতে সকল শ্রেণীর আসনের ভাড়া বা টিকেট ক্রয়মূল্য দেখানো হলো। উল্লেখ্য, সব ট্রেনে সকল শ্রেণীর আসন লভ্য নয়।

আসন বিভাগ
টিকেটের মূল্য
শোভন
২৬৫ টাকা
শোভন চেয়ার
৩২০ টাকা
প্রথম সিট
৪২৫ টাকা
প্রথম বার্থ
৬৪০ টাকা
স্নিগ্ধা
৬১০ টাকা
এসি সিট
৫৫৮ টাকা
এসি বার্থ
১০৯৯ টাকা
 ঢাকা টু সিলেট ট্রেন টিকেট বুকিং অনলাইন

অনলাইনে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট কেনার জন্যে প্রথমে আপনি ই-সেবা ওয়েবসাইটে যান। এখানে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেল ঠিকানা দিয়ে সাইনআপ এবং তারপর লগইন করুন। ছয়টি ঘরযুক্ত একটি ফরম খুলেছে, তাই না? এই ফর্মটির ড্রপডাউন মেনু থেকে কখন এবং কোথা থেকে আপনি যেতে চান, কোন্ মানের কয়টি আসন চান, আপনার সাথে আপনার কোনও সন্তান রয়েছে কিনা তা নির্বাচন করুন, অতঃপর ‘ফাইন্ড’ বোতামটিতে ক্লিক করুন। এবার ই-সেবা ওয়েবসাইটটি আপনাকে আপনার চিহ্নিত তারিখে উপলব্ধ ট্রেনগুলির নাম দেখাবে মনোনীত আসনের টিকিটের মূল্য সহ।

আপনি যদি এই কাজটা ঠিকমতো করে থাকেন তাহলে ‘পারচেজ টিকেট’ বোতামে ক্লিক করুন এবং ক্রেডিট কার্ড বা বিকাশ অথবা অর্থ হস্তান্তরের অন্য কোনো পরিষেবার মাধ্যমে আপনার টিকেটের মূল্য প্রদান করুন। তাহলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের টিকেট(গুলি) তাৎক্ষণিকভাবে আপনার ই-মেইলে পৌঁছে যাবে। এবার আপনার ইমেল ইনবক্স থেকে এই ই-টিকেট মুদ্রণ করুন এবং আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপিসহ এটি আপনার ভ্রমণের নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশনে জমা দিন। স্টেশন মাস্টার তখন আপনাকে আপনার ট্রেন টিকেটের মূল কপি প্রদান করবে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলার দূরত্ব