ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী-Dhaka To Chittagong Train Schedule
Dhaka To Chittagong Train Schedule

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী

Dhaka To Chittagong Train Schedule

বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর তথ্য মতে রেলপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব হলো ২৪৪ কিলোমিটার। যেহেতু এটি একটি দীর্ঘ পথ, তাই বেশিরভাগ যাত্রী অন্যান্য গণপরিবহনের চেয়ে তাঁদের যাতায়াতের জন্যে ট্রেনকেই অগ্রাধিকার দেন। এখানে আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের তালিকা শেয়ার করছি যা আপনাকে সঠিকটি বেছে নিতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে বর্তমানে ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটে মোট ৮টি ট্রেন পরিচালনা করছে। তন্মধ্যে রয়েছে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস এবং সুবর্ণা এক্সপ্রেসের মতো বিলাসবহুল এবং খুব জনপ্রিয় দু’টো ট্রেন। এ দু’টোর কথা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় এ কারণে, পুরো বাংলাদেশে বিরতিহীন ট্রেন আছে মাত্র ৩টি, দু’টি আবার একই ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটে—সুবর্ণ ও সোনার বাংলা।

মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী

ট্রেন নং
ট্রেনর নাম
প্রস্থান
আগমন
ছুটির দিন
৭০১-৭০২সুবর্ণ এক্সপ্রেস
বিকাল ৪:৩০
রাত ৯:০০ টা
সোম বার

৭০৩-৭০৪

মোহনগর প্রভাতী
সকাল ৭:৪৫
দুপুর ২:৫০
নেই
৭২১-৭২২মহানগর এক্সপ্রেস
রাত ৯:২০সকাল ৪:৫০রবিবার
১৮৭-৭৮৮সোনার বাংলা এক্সপ্রেস
সকাল ৭:০০
রাত ১২:১৫বুধবার
৭৪১-৭৪২
তূর্ণা এক্সপ্রেস
রাত ১১:৩০সকাল ৬:২০নেই
৮০১-৮০২চট্টলা এক্সপ্রেস
১:০০ অপরাহ্ন
রাত ৮:৩০মঙ্গলবার

চিটাগং মেইল
রাত ১০:৩০
সকাল ৭:১৫
নেই

কর্ণফুলী এক্সপ্রেস
রাত ৮:৪৫সকাল ৬:১৫
নেই

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের ট্রেনের সময়সূচি

সুবর্ণ এক্সপ্রেস:

সুবর্ণ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭০১/৭০২) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন। এটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন এবং চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনই বাংলাদেশের প্রথম বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন। ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন ছাড়া এটি দীর্ঘ ৩৪৬ কিলোমিটার যাত্রাযপথে আর কোথাও থামে না।

মহানগর প্রভাতী / গোধূলি এক্সপ্রেস:

মহানগর প্রভাতী বা মহানগর গোধূলি (ট্রেন নং ৭০৩/৭০৪) বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেনগুলির অন্যতম। এটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এবং ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ‘মহানগর গোধূলি’ নামে যায় এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ‘মহানগর প্রভাতী’ নামে ফিরে আসে। এটি যাত্রাপথে ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলাকে সংযুক্ত করেছে। 

মহানগর প্রভাতী / মহানগর গোধূলি ট্রেনটি ৮টি স্থানে থামে- ফেনী জংশন, গুণবতী, লাকসাম জংশন, কুমিল্লা, আখাউড়া জংশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব বাজার জংশন এবং ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন।

মহানগর এক্সপ্রেস:

মহানগর এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭২১-৭২২) বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত একটি বিলাসবহুল আন্তঃনগর ট্রেন। ট্রেনটি বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে। 

মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১২টি স্টেশনে থামে -কুমিরা, ফেনী জংশন, নাঙ্গলকোট, লাকসাম জংশন, কুমিল্লা, কসবা, আখাউড়া জংশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আশুগঞ্জ, ভৈরব বাজার জংশন, নরসিংদী এবং ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন।

সোনার বাংলা এক্সপ্রেস:

সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৮৭-৭৮৮) হলো বাংলাদেশের ৩টি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেনের একটি। এটি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এবং ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসও কেবল ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে দুই ও পাঁচ মিনিট থামে।

তূর্ণা এক্সপ্রেস:

তূর্ণা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৪১/৭৪২) বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটের একটি দ্রুতগতির বিলাসবহুল আন্তঃনগর ট্রেন। আপনি যদি রাত্রিকালে ভ্রমণের কথা ভেবে থাকেন তবে তূর্ণা এক্সপ্রেস আপনার জন্যেই। তূর্ণা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি ৭টি স্টেশনে বিরতি নেয়- ফেনী জংশন, লাকসাম জংশন, কুমিল্লা, আখাউড়া জংশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব বাজার জংশন এবং ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন।

মেইল ট্রেন:

উল্লিখিত পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়াও আরো ৩টি মেইল ট্রেন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে। এগুলি হলো চট্টগ্রাম মেইল, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস এবং চট্টলা এক্সপ্রেস।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের টিকিটের মূল্য :

বাংলাদেশের ট্রেনগুলিতে বিভিন্ন শ্রেণীর আসন রয়েছে। এইসব আসনের শ্রেণীভেদে ট্রেনের টিকেট মূল্য কমবেশি হয়ে থাকে।

আসন বিভাগ
টিকিটের মূল্য 
২য় শ্রেণী সাধারণ
৯০ টাকা
২য় শ্রেণী মেইল
১১৫ টাকা
কমিউটার
১৪৫ টাকা
সুলভ
১৭৫ টাকা
শোভন
২৮৫ টাকা
শোভন চেয়ার
৩৪৫ টাকা
১ম শ্রেণী চেয়ার
৪৬০ টাকা
স্নিগ্ধা৬৫৬ টাকা
১ম শ্রেণী কেবিন
৬৮৫ টাকা

এসি আসন
৭৮৮ টাকা
এসি কেবিন
১১৭৯ টাকা

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের অনলাইন টিকিট বুকিং

বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি চালু করেছে ই-টিকেটিং সার্ভিস

ওয়েবসাইট (https://www.esheba.cnsbd.com/) দেখুন।

যোগাযোগ নম্বরঃ

কমলাপুর স্টেশন মোবাইল নম্বর  – 02-8315857, 02-9330522, 01843-220622, 01711691612

ঢাকা বিমানবন্দরের যোগাযোগ নম্বর  – ০২-৮৯২৪২৩৯

চট্টগ্রাম স্টেশন যোগাযোগ নম্বর  - +88 01711-691550, 635162

অনলাইনে টিকেট কাটার নিয়ম

ই-টিকিটিং সিস্টেমে টিকেট কেনার নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেক্ষেত্রে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে একবার রেজিস্ট্রেশন করলেই চলবে। 

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

টিকিট কাটতে অবশ্যই একবার যাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সে জন্য প্রথমে www.eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

সেখানে ওয়েবসাইটটির নিচের দিকে Registration বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর Create an Account নামের নতুন একটি Page আসবে। এখানে Personal Information এর সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করে Security code ঘরের পাশে দেখানো Security Code দিয়ে পূরণ করে Register বাটনে ক্লিক করতে হবে।

সব তথ্য সঠিক থাকলে Registration Successful নামে নতুন একটি Page আসবে।

ই-টিকেটিং সিস্টেম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার দেয়া ই-মেইলে Bangladesh Railway থেকে একটি মেইল পাঠানো হবে।

Bangladesh Railway থেকে আসা মেইলটি খুলে সেখানে মেসেজে থাকা Click লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে। এরপর যাত্রীর Registration সম্পন্ন হবে।

টিকিট কাটার প্রক্রিয়া

রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারবেন। এ জন্য তাকে প্রথমে www.eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

সেখানে থাকা Log in প্যানেলে ই-মেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড এবং সিকিউরিটি কোড পূরণ করতে হবে।

পরে যে Page আসবে তাতে Purchase ticket বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখানে যাত্রীকে পূরণ করতে হবে তিনি কোন তারিখের টিকিট কাটতে চান, কোন স্টেশন থেকে কোন স্টেশন পর্যন্ত, ট্রেনের নাম, শ্রেণি, টিকেট সংখ্যা।

পরে দেখানো হবে Registration Seat Available কি না এবং টিকিটের দাম। সেখানে সবকিছু ঠিক থাকলে Purchase ticket বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশ কার্ড কিংবা ব্রাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকিটের দাম পরিশোধ করতে পারবেন যাত্রীরা। পরে যাত্রীর ই-মেইলে ই-টিকেটটি পাঠিয়ে দেবে বাংলাদেশ রেলওয়েল।

এরপর সেই টিকিট প্রিন্ট দিয়ে ফটো আইডিসহ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন। কিংবা ই-টিকেট প্রদত্ত Ticket Print Information দিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে যাত্রার পূর্বে ছাপানো টিকেটও সংগ্রহ করতে পারবেন।