দাড়ি রাখার উপকারিতা

হাঁপানির প্রকোপ কমায়:গবেষণায় দেখা যায় দাড়ি রাখা নাকে মুখে ক্ষতিকর ধুলো-বালি ঢুকতে বাঁধা প্রদান করে। ফলে ডাস্ট মাইট যার ফলে হাঁপানির প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তা অনেকাংশে কমে আসে। ফলে হাঁপানির সমস্যা থেকেও মুক্ত থাকা সম্ভব হয়।

অ্যালার্জি থেকে দূরে রাখে:পুরুষদের মধ্যে যাদের ধুলা ময়লা এবং রোদে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দাড়ি রাখা বেশ উপকারী। এতে মুখের ত্বক সরাসরি ধুলা-বালি এবং রোদের সংস্পর্শে আসে না। তাই অ্যালার্জি সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

ক্রমাগত শেভ-এর প্রতিক্রিয়া:ক্রমাগত শেভ করার ফলে পিটুইটারি গ্লান্ডে মারাত্বক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ গ্লান্ডের সৃষ্টির কারণে নার্ভ সিস্টেম এবং যৌন জীবন প্রভাবিত হয়। অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত শেভ করার অভ্যাস যারা ত্যাগ করেছে তারা উল্লিখিত রোগ এবং অন্যান্য রোগ থেকে মুক্ত জীবন যাপনে সক্ষম হয়েছে।

ত্বকে বয়সের ছাপ আস্তে পড়ে:যারা দাড়ি রাখেন তাদের ত্বকে বয়সের ছাপ আসে আস্তে আস্তে। মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা ডঃ অ্যাডাম ফ্রাইডম্যান-এর মতে, মুখের ত্বক দাড়ি দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যের আলোর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হয়, বলিরেখা পড়ে অনেক দেরিতে। তাই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেরি হয়।

ব্রনের ঝামেলা থেকে মুক্তি:পুরুষের ত্বকেও ব্রন ওঠে। শেভিং করার বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত উপাদান ও ধুলা-বালি এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। যারা দাড়ি রাখেন তারা নিয়মিত দাড়ির যত্ন নিলে এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন খুব সহজেই।

স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়:সরাসরি রোদ ত্বকে লাগা, শেভ করার সময় ও শেভ করার পর নানা ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার করা ইত্যাদি স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই পুরুষদের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা স্কিন ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে দাড়ি রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির ক্ষতি:আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি অনুভুমিশীল ত্বকের জন্য খুব তাড়াতাড়ি ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয়। কারণ এ রশ্মি সূর্য কিরণের সাথে মিশে দেহের ত্বকে খুব শীঘ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে ত্বকের রং কালো হয়ে যায়। এছাড়া নানারকম রোগ দেখা দেয়।

মাওলানা আশেকে ইলাহি মিরাঠি (রহ.) তাঁর ‘ডারহি কি কদর ও হিকমত’ নামের বইয়ে লিখেছেন : ইউনানি চিকিৎসবিজ্ঞান অনেক আগেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গলা ও বক্ষকে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করে । আধুনিক ডাক্তারদের মধ্যে একজন লিখেছেন : সব সময় দাড়িতে খুর চালালে চোখের শিরার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এতে চোখের জ্যোতি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে। অন্য এক ডাক্তার লিখেছেন : দাড়ি জীবাণুকে দাড়ির ভেতরে ঢুকতে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি করে। তাকে গলা, বক্ষ পর্যন্ত অতিক্রম করতে বাধা দেয়। দাড়ি না রাখা যৌনশক্তি শূন্যের কোঠায় পৌঁছে দেয়।

এক ডাক্তার লিখেছেন, যদি সাত প্রজন্ম পর্যন্ত কোনো বংশের পুরুষদের মধ্যে দাড়ি মুণ্ডানোর অভ্যাস চালু থাকে, তাহলে অষ্টম প্রজন্মের সন্তান দাড়িবিহীন হবে। এর কারণ হলো, এর ফলে প্রত্যেক প্রজন্মে যৌনশক্তি হ্রাস পেতে পেতে অষ্টম জেনারেশনে একেবারে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যাবে ।

বিবিসির এক অনুষ্ঠান—ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর—সম্প্রতি এই প্রশ্নে একটা ছোট্ট পরীক্ষা চালিয়েছে। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লিন শেভড পুরুষের চেয়ে দাড়িওয়ালাদের মুখে রোগ-জীবাণু বেশি, এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতাল সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা চালায়। ‘জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে’ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই  বেশি রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) বলে যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চেয়ে দাড়ি কামানোদের মুখে তিন গুণ বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে। এর কারণ কী? গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ঘষা লাগে, তা নাকি ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অন্য দিকে দাড়ি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বিবিসির ‘ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর’ অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরুষের দাড়ি থেকে ব্যাকটেরিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে একই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়।

হাদীস শরীফে দাড়ি :

১. হযরত আয়েশা রা. বলেন রাসুল (স:) ইশরাদ করেছেন, দশটি বিষয় সকল নবী রাসুলগণের সুন্নাত তন্মধ্যে গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা করা অন্যতম। (মুসলীম শরীফ, ১/১২৯)

২. হযরত আবুহায়ারা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. ইশরাদ করেছেন, তোমরা গোঁফ কাট এবং দাড়ি লম্বা কর, আর অগ্নি পূজকদের বিরোধিতা কর। (মুসলীম শরীফ, ১/১২৯)

৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল স. ইশরাদ করেন, মুশরিকদের বিরোধিতা কর, দাড়ি লম্বা কর, আর গোঁফ ছোট কর। (বুখারী শরীফ-২/৮৭৫, মুসলীম)

৪. হুজুর স. বলেছেন যে, তোমরা ভালভাবে গোঁফ কাট এবং দাড়ি বাড়াও। (বুখারী শরীফ)

৫. হুজুরে (স:) এরশাদ করেন যে, গোঁফ কাট এবং দাড়ি ছড়িয়ে রাখ। (কাজী এয়াজ শরহে মুসলিম নববী)

৬. হযরত আবুহুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম স. ইশরাদ করেন, দাড়ি বাড়াও, গোফ কাট এবং এক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা। (মাসনাদে আহমদ)


পরবর্তী খবর পড়ুন : শিওর ক্যাশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০

আপনার মতামত লিখুন :