জবার উপকারিতা ও ঔষধি গুণ

চুলের বৃদ্ধির জন্য :

জবা গাছের টাটকা পাতার রস এবং জলপাই-এর তেল মিশিয়ে ভালাে ভাবে ফোটাতে হবে। রস তেলের মধ্যে মিশে কেবল যখন তেলটা থাকবে তখন উনুন থেকে পাত্রটি নামিয়ে ঠাণ্ডা হলে কাচের শিশিতে রাখতে হবে। এই তেল প্রতিদিন চুলে মাখলে চুল বড় হবে এবং চুল সহজে পাকে না।।

পাকা চুল কালাে করতে :

গরুর দুধ ৪ লিটার, জবাফুল বেটে তার রস, যষ্টিমধুর। কল্ক ৯০ গ্রাম একটি স্টিলের পাত্রে ১ লিটার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর আগুনে ফোটাতে হয়। দুধ ও ফুলের রস মিশে গেলে পাত্রটি উনুন থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। তারপর কাঁচের শিশিতে ভরে রাখতে হবে। এই তেল প্রতিদিন চুলে। মাখলে পাকা চুল ধীরে ধীরে কালাে হয়ে ওঠে। |

অতিরিক্ত ঋতুস্রাবে :

জবাফুল ৫/৭টি সামান্য গাওয়া ঘিয়ে ভেজে খেলে— অতিরিক্ত ঋতুস্রাব বন্ধ হবে। এছাড়া পঞ্চমুখী জবার দু’টি কুঁড়ি ঢেকি ছাঁটা আতপ চাল ধােয়া জলে বেটে সেই ওষুধ খেলে ঋতুস্রাব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

অনিয়মিত স্রাবে :

মেয়েদের মাসিক শুরু হলেও এক থেকে দেড়দিনের মধ্যে। বন্ধ হয়ে যায়। আবার অনেক সময় মাসিক-এর দিন চলে গেলে ঠিকমতাে হয় না। এই অবস্থায় পঞ্চমুখী জবার কুঁড়ি, দারুচিনি ৫০০ মিলিগ্রাম একসঙ্গে শিলে ভালাে করে। মিহি করে বাটতে হয়। তারপর ঐ ওষুধ সরবতের মতাে দিনে একবার নিয়মিত খেলেই। মেয়েদের স্রাব স্বাভাবিকভাবে হতে থাকবে

ডায়াবেটিস নিরাময়ে:

বায়ো কেমিক্যাল ও বায়ো ফিজিক্যাল রিসার্চ কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, জবা ফুল থেকে তৈরি উপাদান ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জবা ফুলে থাকে ফেরুলিক এসিড, যা এক ধরণের পলিফেনল এবং এটি ডায়াবেটিসের জন্য চিকিৎসা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

মূত্রনালির সংক্রমণ প্রতিরোধে:

এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অফ ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, জবা ফুলের জীবাণুনাশক ও ছত্রাকনাশক উপাদান কেন্ডিডা অ্যাল্বিকান্সের বিরুদ্ধে কাজ করে। জবা ফুলের পুষ্টি উপাদান মূত্রনালীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং ইউটিআই থেকে মুক্তি দেয়। জবা ফুলের চায়ে ফ্লাভনয়েড থাকে যা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে।

জ্বর নিয়ন্ত্রণ ও ঠান্ডা বা ফ্লু নিরাময়ে:

জ্বর নিয়ন্ত্রণ ঠান্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত হলে কিছু জবা ফুলের পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে চা তৈরি করে পান করুন। দ্যা ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ রিসার্চ ইন ফার্মাসিউটিক্যাল এন্ড বায়ো মেডিক্যাল সাইন্স এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানা যায় যে, জ্বরের সময় জবাফুলের চা শীতলীকারক হিসেবে কাজ করে। জবার প্রদাহ রোধী উপাদান মিউকাস পর্দার প্রদাহ কমতে সাহায্য করে।

চুল পড়া কমায়:

চুল পড়া রোধে জবা ফুলের পাপড়ি ব্যবহার করা খুবই প্রাচীন প্রতিকার। জবা ফুলের তেল চুলের গোড়া শক্ত করে কারণ এতে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম আছে। এই তেল আস্তে আস্তে মাথার তালুতে মালিশ করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় ও মাথার ত্বক পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে। অসময়ে চুল সাদা হয়ে যাওয়া রোধ করে এশিয়ান জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, জবা চুল সাদা হয়ে যাওয়াকে ধীর করতে পারে। কিছু জবা ফুল পানিতে দিয়ে ২০ মিনিট ফুটানোর পর ঠাণ্ডা করে নিন। জবাফুলকে পেস্ট করে নিয়ে মাথার তালুতে ও চুলে লাগান এবং ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এটি ব্যবহার করুন এবং জবার তেল অসময়ে চুল সাদা হয়ে যাওয়া রোধ করে।

ব্যথা কমায়:

শরীরের ব্যথা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে জবা ফুল। এজন্য পাঁচটি লাল জবার পাতা ও পাঁচটি পাপড়ি নিয়ে পানিতে দিয়ে ৩-৫ মিনিট ফুটানোর পর মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হতে দিন। আধা ঘন্টা পরে এটি পান করুন। ২১ দিন পর্যন্ত এই মিশ্রণটি পান করলে শরীরের ব্যথা কমবে।

ফেসপ্যাক হিসেবে:

লাল জবার পাপড়ি শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন। প্রতিদিন পানি বা দুধ বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে মুখ পরিষ্কার হয়, মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখার আবির্ভাব রোধ করে।

শুষ্ক ত্বকের নিরাময়ে:

নারিকেল তেল বা তিলের তেলের সঙ্গে জবার পাপড়ি দিয়ে তাপ দিন। তারপর এটি ঠাণ্ডা হলে শুষ্ক ত্বকে লাগান। এটি শুষ্ক ত্বককে নিরাময় করবে এবং যেকোন ধরনের ফাটাও ভালো করবে।

টাক রোগ:

চুল স্বাভাবিক আছে অথচ ফাঙ্গাসে কিছু জায়গা চুল উঠে টাক হয়ে গেছে এ অবস্থায় জবাফুল বেটে ওখানে লাগালে কিছু দিনের মধ্যে চুল উঠে যাবে। এক /দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন যে কোনো সময় লাগাতে হবে এবং দুই/এক ঘণ্টা রাখতে হবে অথবা যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হবে।

চোখ উঠা

চোখের কোণে ক্ষত হয়ে পুঁজ পড়ছে। সে ক্ষেত্রে জবা ফুল বেটে চোখের ভিতরটা বাদ দিয়ে চোখের উপর ও নিচের পাতায় গোল করে লাগিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। দিনের যে কোনো সময় এক /দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন লাগাতে হবে এবং এক ঘন্টা রাখতে হবে।

সাদা জবা ফুলের উপকারিতা,জবা ফুলের পাতার উপকারিতা,চুলে জবা ফুলের উপকারিতা,জবা ফুলের উপকারিতা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য,জবা ফুল খাওয়ার নিয়ম,জবা ফুলের চা,জবা ফুলের অপকারিতা,লাল জবা ফুল


পরবর্তী খবর পড়ুন : সন্ধ্যামালতী বা কৃষ্ণকলি

আপনার মতামত লিখুন :